অশ্রু ভরা চোখেও প্রিয় জিনিষগুলি বেছে-বেছে একটা ট্রাভেল ব্যাগে ভরছে। বিভা জানেনা সে কোথায় যাবে, কার কাছে যাবে। শুধু এইটুক জানে তার যেতেই হবে। এখানে আর তার থাকার জায়াগা নেই। যে অধিকারে থাকত সেটা কাল রাতেই বিলীন হয়ে গেছে। একটা ঝড় এসে কালো রাত্রির মাঝে সব মিশিয়ে দিয়ে গেছে। সে অধিকার আর ফিরে পাওয়া যাবে না, গেলেও একটা কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে বিভার জীবনে। হ্যাঁ, পাঠক বন্ধুরা এই বার মূল কথায় আসি। সবকিছু ঠিক-ঠাকই চলছিল বিভার জীবনে। পরিবারের মতামতকে উপেক্ষা করে অমলিন ভালোবেসে বিয়ে করেছিল সাজিদকে। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় সাজিদ কাল রাতে অফিস থেকে ফিরেই একটা কাগজ দিয়ে সই করতে বলে। বিভা কাগজটা দেখেই আতকে ওঠে। অশ্রুভরা চোখে তবুও সই করে, কারণ ও সাজিদকে অনেক ভালবাসে। বিভা সাজিদের চোখে চোখ রেখেই বুঝতে পারে পাঁচ বছর আগের সাজিদ আজ আর নেই। তাই বিভা নিজের প্রতি অভিমান করেই ওর কাছে কিচ্ছু জানতে চায়নি কিংবা করেনি কোন বাদানুবাদ। সাইন করার পর সাজিদকে শুধু এই টুক বলল- ''আজ রাতটুকুতো থাকতে দিবে?'' সাজিদ বিভার পানে তাকায় কিন্তু বিভা চোখ ঘুরিয়ে নেয় অন্যদিকে। তবুও সাজিদ বলতে থাকল যে- ''আমি জেসিকে ভালবাসতাম, অনেকদিনেও ওর কোন খোজ ছিলনা, কাল হঠাৎ দেখা; কালই আমরা বিয়ে করে ফেলেছি আর আজ......"। বিভা সাজিদকে হাতের ইশারায় থামিয়ে ওর ঘরে চলে যায়। নিঃশব্দে শুয়ে পরে, ভোরের আলোর প্রত্যাশায়। সাজিদকে একপলক ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারেনা, ভেজা চোখে একটা ট্যাক্সি ক্যাব ডেকে উঠে পড়ে। ড্রাইভার মিটারটা অন করে। ম্যাডাম কোথায় যাবেন? বিভা হুহু করে কেঁদে ওঠে আর বলে আচ্ছা দূর কোথাও আমাকে ড্রপ করে আসুন। ড্রাইভার গাড়ি স্ট্রার্ট করে আর বিভা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।
:::...গল্পকার...::: ::কপি রাইট::
মন্তব্য (25)