প্রতীকী ছবিএখন হয়তো পাতার ছাউনি বদলে
তোমাদের ঘরে টিনের চালা উঠেছে, তাই না বাবা
পেট ভরে তিন বেলা খেতে পারো নিশ্চয়ই
রাতুল এখন কোন ক্লাসে পড়ে
পড়বেই তো, ও তো আর আমার মতো মেয়ে হয়ে জন্মায়নি
নিশ্চয়ই অনেক বড় হয়েছে এত দিনে
পুকুর ঘাটে যেতে বারণ ছিল আমার
মল্লিক বাড়ির ছোট ছেলে হিমেল নাকি
গাছের আড়ালে থেকে লোভী চোখে দেখত—
ভেজা কাপড় জড়ানো আমার পুষ্ট শরীরটা
মেয়েদের শরীরের উঁচু-নিচু ভাঁজেও যে পুরুষের সুখ লুকিয়ে থাকে
সে-ও জেনেছিলাম এই বুড়ো লোকটির কাছ থেকে
আমাকে এই বুড়োর কাছে সমর্পন করে কত টাকা নিয়েছিলে বাবা
সে কি বিয়ে, না কি বিক্রি!
সে টাকায় পাকা ঘর, জমিন
হালের গরু এসব কি কিনতে পেরেছিলে তোমরা
ইস! কত দিন বৃষ্টিতে ভেজা হয়নি তোমার হাত ধরে
বৃষ্টির শব্দে এখনো মায়া লেগে আছে
তোমাদের গ্রামটা কেমন আছে, মা, মধু চাচা
মাকে বলো, আমি ভালো আছি
আমাদের সে পুকুরটা কি এখনো আছে
চালতেগাছ, লম্বা তালগাছ দুটি, শিউলি ফুলের গাছ
সরষে ফুলে মাঠ, আমি আর রাতুল এক দৌড়ে চলে যেতাম
নদীর ঘাটে, এখনো কি নদীটা ভাঙে
ওপারে নিবিড় কাশবন তারও ওপাশে অবারিত সবুজ
বাবা, তোমার বাতের ব্যথাটা কি এখনো আছে—
সরষে তেলে রসুন গুলো কে এখন গরম করে দেয় তোমায়
জানো, তোমাদের দেখতে খুব ইচ্ছে করে
একদিন ঝুম বৃষ্টি নেমেছিল দুপুরে
ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা স্টেশনে এসেছিলাম
কিন্তু ট্রেন ধরা হয়নি,
দেখি, লাঠি হাতে পেছনে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির চাকরটা
সেদিন খুব করে পিটিয়েছিল আমার স্বামী, আর
অদ্ভুত রুক্ষ কণ্ঠে বলেছিল—
এরপর বাড়ির বাইরে গেলে জ্যান্ত পুঁতে দেবে মাটিতে!
মনে কষ্ট নেই কোনো, নারী হয়ে জন্মেছি—
বেচাবিক্রি লেনাদেনা, না একটুও কষ্ট নেই
মায়ের মুখটা খুব মনে পড়ে
দিন-রাত অষ্টপ্রহর দুঃখ জমে থাকত মুখে
ছোটবেলায় ভাবতাম, কি এমন কষ্ট থাকে মায়েদের
এখন বুঝি মায়েদের নয়, মেয়েদের
মায়ের জন্য বুকটা কেমন করে ওঠে
রাত নিবিড় হলে মা কি এখনো কাঁদে
তাকে বলো এখন আমিও কাঁদি, তাঁর মতোই।
(কালেক্টেড: লেখক সৌদি আরবের রিয়াদপ্রবাসী)
মন্তব্য (15)