
মনটা আজ ভীষন খারাপ। খামাখা বললে বড্ড মিথ্যে বলা হয়ে যাবে।করিম চাচা বুড়ো মানুষ। রোগে শোকে শেষ হয়ে গেছে বেচারা। এতটাই রোগা হয়ে গেছে যে মুখ খুলিয়া অনেক দিন কারো সাথে রাও শব্দ ও করে না সে। শেষ কবে কথা বলেছে তাও মনে নেই। কার সাথেই বা কি বলবে সে? ঘরে তো কেবল টোন আর টুনি মানে বুড়ো বুড়ি দুই জন। করিম চাচা বড় শৌখিন মানুষ, যৌবন কালে যেন শখের শেষ ছিলো না তার। আর শৌখিনতার রেশ ধরেই হয়তো আজ দীর্ঘ দিন পরে রশিকতা নিয়ে মুখ খুললেন। চাচী আর চাচা দুজনে ভাত খাইয়া দুজনে দু দিকে মুখ করিয়া খাটে হেলান দিয়া বসা। করিম চাচা বার কয়েক আশে পাশে তাকাইয়া চাচির পাশে গিয়ে বসলেন, মুচকি হেসে বললেন ” কি গো আমরা কি একলাই থাকমু?” বলে আবারো মুচকি হাসলেন। এবার চাচী ঠেস মেরে চাচাকে বললেন ” বুড়ার মনে রং লাগছে বুঝি? কিসের এত রং” করিম চাচা হাসি থামিয়ে না বলছিলাম কি আমাগো ঘরে বউ আনলে হয় না? চাচি একটু রেগে গিয়ে ” বউ আনতে না কইলো কে কিন্তু আপনার ছেলেগো ই তো কোনো খোজ খবর নাই। করিম চাচা আস্তে আস্তে ”বড় পোলাটা চাকরি পাইয়া বউ লইয়া সেই যে শহরে চইলা গেলো, শুনছি ওর নাকি দুটা ছেলে মেয়ে হইছে? ওরা অনেক বড় হইছে তাই না? ওরা যদি বাড়ি থাকতো ওরা আমার পাশে বসতো। আচ্ছা ওরা কি ছুটি পায় না?” চাচি আরো রেগে যায় “তোমার পোলারা ছুটি পায় কি না তুমি ই জানো” করিম চাচা থেমে যায়। একটু পরেই করিম চাচি অবাক হয়ে” কি আপনে কথা কইছেন সত্যি আপনে কথা কইছেন?” ¯ত্রীর এই অবাক ভাব দেখে বিষ্ময় নিয়ে তাকিয়ে চাচা। তিনি নিজেও জানেন না যে তিনি কথা বলতেন না বা কথা বলতে পারেন না। তবে তার পর আর কোনো কথা না আবার চুপ হয়ে গেলেন করিম চাচা। এবার চাচি অনেক চেষ্টা করেন চাচার মুখ দিয়ে কথা বের করার জন্য। তবে তার সব চেষ্টাই ব্যার্থ হয়। চাচি বলে আমি আজই চিঠি লেখবো আপনার ছেলেগোরে। ওরা সবাই আসবো আপনার নাতি নাতনিরা আপনা পাশে বসবো গল্প করোব অনেক ফুর্তি হইবো আপনে খুশি? করিম চাচা তার বুড়ো চোখ দুটো দিয়ে শুধু ডেপ ডেপ করে তাকিয়ে রয়। চাচি ঠিকই তার ছেলেদের কে চিঠি লিখেন তারা সবাই আসে ও ঠিকি তবে তখন আর কোনো আনন্দ হয় না তারা এসে পায় বুড়ো করিম চাচার জানাজা।
মন্তব্য (6)