মায়াপরী—
তোমার একটু ভালোবাসার অভাবেই আমি কেমন যেন অকারণে অভিমানী হয়ে উঠি। খুব সামান্য কিছুতেই মন খারাপ হয়, তোমার একটু নীরবতাতেই বুকের ভেতরটা কেমন শূন্য শূন্য লাগে। অথচ আমার এই অভিমানটুকুর পেছনে রাগ নেই, অভিযোগ নেই—আছে শুধু তোমাকে একটু বেশি করে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
আমার বড্ড ইচ্ছে করে, তুমি আমার এই ছোট্ট ছোট্ট অভিমানগুলো বুঝবে। আমি চুপ করে থাকলে বুঝবে, আমার নীরবতার ভেতরেও তোমার জন্য কত কথা জমে আছে। আমি দূরে সরে গেলে বুঝবে, আসলে দূরে যেতে চাইনি—চেয়েছিলাম তুমি একবার কাছে এসে বলো,
কী হয়েছে মানুষটার? এত অভিমান কেন?
আমার আকাঙ্ক্ষা, আমার আকুলতা, আমার সমস্ত অনুভূতি যেন এসে তোমার কাছেই থেমে যায়। আমার অন্তরের যতটুকু ভালোবাসা, যতটুকু স্বপ্ন, যতটুকু না-বলা কথা—সবকিছুর ঠিকানা তুমি।
কখনো কখনো তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, পৃথিবী বুঝি এত সুন্দর হওয়ার কথা ছিল না। তুমি যখন আমার দিকে তাকাও, তখন তোমাকে আমার পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর প্রজাপতিটা মনে হয়—যে প্রজাপতিটাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে না, শুধু দূর থেকে মুগ্ধ হয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। ভয় হয়, ছুঁয়ে দিলে যদি মায়াটা ভেঙে যায়!
তোমার সেই তাকিয়ে থাকা, তোমার সামান্য হাসি, তোমার অকারণ নীরবতা—সবকিছুই আমার কাছে আলাদা কোনো গল্পের মতো। তুমি হয়তো জানো না, তোমার ছোট্ট একটি আচরণও আমার পুরো একটা দিন বদলে দিতে পারে।
তাই তো মায়াপরী,
তুমি শুধু আমার ভালোবাসা নও।
তুমি আমার অভিমান,
তুমি আমার আকাঙ্ক্ষা,
তুমি আমার আকুলতা,
তুমি আমার বিরহ,
তুমি আমার না-বলা অনুভূতিগুলো,
তুমি আমার অন্তরের সমস্ত অভিলাষ।
তোমাকে ঘিরেই আমার যত মুগ্ধতা।
তোমাকে ঘিরেই আমার যত ভালো লাগা।
আর তোমাকে ঘিরেই আমার এই অদ্ভুত ভালোবাসা—যার কোনো শুরু আমি জানি না, কোনো শেষও ভাবতে চাই না।
শুধু একটা কথা মনে রেখো মায়াপরী—
আমি যখন তোমার ওপর অভিমান করি, তখন তোমার কাছ থেকেই একটু ভালোবাসা চাই। আমি যখন চুপ হয়ে যাই, তখন তোমার কাছেই ফিরে আসতে চাই। আর যখন তোমাকে খুব বেশি মনে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো শব্দই আমার ভেতরের বিরহটাকে শান্ত করতে পারে না।
হয়তো তোমাকে ভালোবাসার ভাষা আমি ঠিকমতো জানি না।
তাই কখনো অভিমান হয়ে যাই, কখনো নীরব হয়ে থাকি, কখনো অকারণে তোমাকে খুঁজি।
তবুও আমার সমস্ত এলোমেলো অনুভূতির শেষ ঠিকানাটা তুমি।

মন্তব্য (2)