নবনীতা—
আজ আকাশজুড়ে কেমন জোছনার আয়োজন,
নক্ষত্রেরা নীরবে জেগে আছে,
যেন তোমার চোখের ভাষা পড়বে বলে।
অনেক রাত পেরিয়েছে,
অনেক শিউলি ঝরে মিশেছে মাটির বুকে,
তবু কিছু অপেক্ষা আজও ফুরোয়নি।
একবার আকাশের দিকে তাকিয়ো,
দেখবে, চাঁদটা আজ বড় বিষণ্ন,
মেঘের আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়ে
তোমার মুখখানি আঁকতে চাইছে।
আকাশকে একটু শাসন কোরো নবনীতা,
বলো, তোমার সৌন্দর্য চুরি করে
এত অহংকার মানায় না তার!
জানো,
তোমার চোখে আমি একদিন নক্ষত্র দেখেছিলাম,
যে নক্ষত্রের আলোয় পথ চিনে নেওয়া যায়,
যে আলো নিভে গেলেও
তার রেশ থেকে যায় হৃদয়ের গোপন ঘরে।
আজও রাত গভীর হলে
সেই চোখ দুটোই খুঁজে ফেরে আমার নির্ঘুম দৃষ্টি।
আমাদের দেখা হবে না—
এমন একটা কথা দিয়েছিলে তুমি।
অথচ দেখো,
প্রতিদিন কত অজুহাতে তোমার কাছে ফিরে যাই।
কখনো জোছনার ভেতর,
কখনো শিউলি ঝরা ভোরে,
কখনো অচেনা কোনো পথের পাশে
ফুটে থাকা একমুঠো বুনো ফুলের কাছে।
একবার পথের দিকে তাকিয়ো,
হয়তো কোনো এক বিকেলে
আমার অপেক্ষাগুলো ঘাসফুল হয়ে ফুটে আছে।
কোনো অভিযোগ নেই সেখানে,
নেই তোমাকে ফিরে পাওয়ার আবদার;
শুধু কিছু না বলা কথা
আর এক বুক নীরব মায়া জমে আছে।
নবনীতা,
তুমি কি জানো,
কিছু মানুষ চলে গিয়েও থেকে যায়?
তাদের জন্য দরজা খোলা থাকে না,
তবু মনের ভেতর একটা জানালা
আজীবন খোলা পড়ে থাকে।
তুমি হয়তো এসেছিলে
একদিন চলে যাবে বলেই,
আর আমি ভুল করে ভেবেছিলাম—
তুমি এসেছো আমার গল্পের শেষ অধ্যায় হতে।
অথচ গল্পটা শেষ হয়নি,
শুধু তুমি নেই,
আছে তোমার স্মৃতি,
আর আকাশভরা কিছু অভিমানী নক্ষত্র।

মন্তব্য (1)