রাত তখন অনেক।

জানালার বাইরে শহরটা ঘুমিয়ে পড়েছে। দূরের কোনো রাস্তায় দু-একটা গাড়ি চলে যাচ্ছে, রাস্তার বাতিগুলো কুয়াশার মতো ম্লান আলো ছড়িয়ে রেখেছে চারদিকে। আবির নিজের ঘরে একা বসে আছে। টেবিলের ওপর আধখাওয়া এক কাপ চা, পাশে পুরোনো ডায়েরিটা খোলা।

ডায়েরির পাতায় এখনো লেখা আছে নবনীতার নাম।

নামটার দিকে তাকিয়ে আবিরের মনে হলো, মানুষের জীবন থেকে কাউকে সরিয়ে দেওয়া যতটা সহজ মনে হয়, তার রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলোকে সরিয়ে দেওয়া ততটাই কঠিন। মানুষ চলে যায়, যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, একসময় ফোনের কললিস্ট থেকেও নাম মুছে যায়। শুধু মনের ভেতরে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়, যাদের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই জীবনের অনেকটা সময় পার হয়ে যায়।

আবির আজও মাঝে মাঝে ভাবে—নবনীতা যদি সেদিন একটু সাহস করত!

যদি সেদিন লেকের ধারে বসে মেয়েটা তার হাতটা ছেড়ে না দিত? যদি পৃথিবীর সমস্ত ভয়কে এক পাশে রেখে বলত, আবির, আমি তোমার সঙ্গেই থাকতে চাই। যা-ই হোক, আমরা একসঙ্গে সামলে নেব।

তাহলে কি তাদের গল্পটা অন্য রকম হতো?

হয়তো একটা ছোট্ট সংসার হতো। সকালে ঘুম ভাঙত নবনীতার কণ্ঠে। আবির অফিসে যাওয়ার আগে মেয়েটা অভিমান করে বলত, এত তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছ কেন? সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে ফিরে আবির দেখত, বারান্দায় দাঁড়িয়ে নবনীতা অপেক্ষা করছে। ছুটির দিনে দুজনে হয়তো আবার ধানমন্ডি লেকে যেত। সেই পুরোনো বেঞ্চটায় বসে চা খেত, আর হাসতে হাসতে মনে করত প্রথম দেখা হওয়ার দিনটার কথা।

হয়তো তাদের মধ্যে ঝগড়াও হতো। অভিমান হতো, কথা বন্ধ থাকত কয়েক ঘণ্টা। তারপর একজন আরেকজনের কাছে ফিরে আসত। কারণ তখন তাদের মধ্যে শুধু ভালোবাসা থাকত না, থাকত একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তটাও।

কিন্তু এসবই তো হয়তো।

বাস্তবের জীবনে ‘হয়তো’ দিয়ে কোনো সংসার গড়ে ওঠে না। ‘যদি’ দিয়ে কারও হাত ধরে থাকা যায় না। আর যে সিদ্ধান্ত একদিন নেওয়া হয়নি, তার জন্য সময় কোনোদিন দ্বিতীয়বার দরজা খুলে দেয় না।

আবির ডায়েরির পাতা উল্টাল। একটা পুরোনো মেসেজের কথা মনে পড়ে গেল।

নবনীতা একদিন লিখেছিল, তুমি আমাকে কখনো ভুলে যাবে না তো?

সেদিন আবির উত্তর দিয়েছিল, কোনোদিন না।

কী অদ্ভুত! তখন কথাটা বলতে তার একটুও কষ্ট হয়নি। সে বিশ্বাস করত, ভালোবাসা থাকলে মানুষ সব বাধা পেরিয়ে যায়। সে জানত না, ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও কখনো কখনো মানুষ আলাদা হয়ে যায়। কেউ কাউকে ভুলে যায় না, অথচ কেউ কারও জীবনে ফিরে আসার পথটাও খুঁজে পায় না।

আবির ডায়েরিটা বন্ধ করল।

তার মনে হলো, নবনীতাকে সে হারিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু সবচেয়ে বেশি হারিয়েছে সেই ভবিষ্যৎটাকে, যেটা তারা কোনোদিন সত্যি করে বাঁচেনি।

একটা জীবন, যেটা হতে পারত—অথচ হলো না।

একটা সংসার, যেটার কোনো ঠিকানা ছিল না—অথচ যার ছবি আবির একসময় মনে মনে এঁকেছিল।

একটা মানুষ, যার সঙ্গে সে বুড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল—অথচ যার বর্তমান জীবন সম্পর্কে জানার অধিকারটুকুও আজ আর তার নেই।

আবিরের বুকের ভেতর কেমন একটা শূন্যতা জমে উঠল।

সে জানে, নবনীতাকে আর ফোন করা হবে না। কোনো অজুহাতে তার খোঁজ নেওয়া হবে না। কোনো বৃষ্টির বিকেলে হঠাৎ মেসেজ পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে না, তোমার কি আমাকে মনে পড়ে?

তাদের আর দেখা হবে না।

কোনো একদিন একই রাস্তায় হয়তো দুজনের গাড়ি পাশাপাশি দাঁড়াবে, একই দোকানে হয়তো দুজনের পছন্দের গান বাজবে, কিংবা একই বিকেলের আকাশ দুজনেই দেখবে। তবু তারা জানবে না, সেই একই মুহূর্তে অন্য মানুষটিও হয়তো অতীতের কোনো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

তারা হয়তো বেঁচে থাকবে—নিজেদের মতো করে।

আবিরের জীবনে হয়তো নতুন কেউ আসবে। কোনো একদিন সে আবার হাসবে, কারও সঙ্গে চা খেতে খেতে গল্প করবে, নতুন করে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববে। নবনীতার জীবনেও হয়তো অন্য কোনো মানুষ তার পাশে দাঁড়াবে। হয়তো একদিন সে সংসারের ব্যস্ততায় পুরোনো স্মৃতিগুলোকে আড়াল করতে শিখে যাবে।

তবু জীবনের কোনো নির্জন মুহূর্তে, যখন চারপাশে কোনো শব্দ থাকবে না, তখন কি তাদের দুজনের মনেই একই প্রশ্ন ফিরে আসবে না?

সেদিন যদি আমরা একটু সাহস করতাম, তাহলে আমাদের জীবনটা কেমন হতো?

এই প্রশ্নের উত্তর আবির জানবে না।

নবনীতাও জানবে না।

কারণ কিছু উত্তর শুধু সেই জীবনেই পাওয়া যায়, যে জীবনটা আমরা বেছে নিইনি।

অন্যদিকে, শহরের আরেক প্রান্তে নবনীতা তার ঘরের আলো নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে ছিল।

অনেক রাত হয়ে গেছে। পাশে রাখা ফোনটা নীরব। আবিরের সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার পর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। প্রথম দিকে সে ভেবেছিল, হয়তো একদিন আবির আবার ফোন করবে। হয়তো তার রাগ কমে যাবে। হয়তো তাদের মধ্যে আবার আগের মতো কথা শুরু হবে।

কিন্তু দিন পেরিয়ে মাস হয়েছে।

কোনো ফোন আসেনি।

কোনো মেসেজ আসেনি।

কেউ তাকে জিজ্ঞেস করেনি, আজ তোমার মন খারাপ কেন?

নবনীতা ধীরে ধীরে বুঝেছে, পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন বিচ্ছেদ সেই বিচ্ছেদ নয়, যেখানে দুজন মানুষ একে অপরকে ঘৃণা করে চলে যায়। সবচেয়ে কঠিন হলো সেই বিচ্ছেদ, যেখানে দুজনের কারও মনে ঘৃণা নেই, তবু ফিরে আসার কোনো পথ নেই।

সে মাঝে মাঝে পুরোনো মেসেজগুলো পড়ে। আবিরের পাঠানো ছোট ছোট কথাগুলো। তার অভিমান, তার যত্ন, তার ভালোবাসার অদ্ভুত সরলতা।

কোনো কোনো রাতে নবনীতা ভাবে—আবির কি এখনো বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে চা খায়? তার কথা কি এখনো মনে পড়ে? কোনো পরিচিত গান শুনলে কি আবিরের বুকের ভেতরটাও একটু থমকে যায়?

তারপর নিজের মনেই হাসে।

এগুলো জানার আর কোনো উপায় নেই তার।

একসময় যে মানুষটার কাছে নিজের সব কথা বলার অধিকার ছিল, আজ তার দিন কেমন কাটে, সে ভালো আছে কি না—সেটুকু জানার অধিকারও আর নেই।

নবনীতা চোখ বন্ধ করে।

তার মনে পড়ে ধানমন্ডি লেকের সেই বিকেলটা। আবিরের পাশে বসে থাকা, দুজনের নীরবতা, শেষবারের মতো চোখে চোখ রাখা।

সেদিন যদি সে আবিরের হাতটা ধরে বলত, আমাকে আরেকটা সুযোগ দাও, আমি এবার ভয় পাব না—তাহলে কি আবির তাকে ফিরিয়ে দিতে পারত?

হয়তো পারত না।

হয়তো তাদের গল্পটা নতুন করে শুরু হতো।

হয়তো সবকিছু সহজ হতো না, কিন্তু তারা অন্তত একসঙ্গে কঠিন সময়গুলোর মুখোমুখি হতো।

কিন্তু নবনীতা সেদিন তা বলেনি।

তারপর সময় চলে গেছে।

আবিরও চলে গেছে—তার জীবন থেকে, তার প্রতিদিনের অভ্যাস থেকে, তার ফোনের স্ক্রিন থেকে। শুধু স্মৃতির ভেতর থেকে যায়নি।

নবনীতা জানে, কোনোদিন আবিরের সঙ্গে তার আর দেখা হবে না। কোনোদিন আর ফোনের ওপাশ থেকে সেই কণ্ঠ শুনতে পাবে না। সে আর কখনো জানতে পারবে না, আবিরের জীবনে তার জায়গাটা ঠিক কতটুকু রয়ে গেছে।

তবু কোনো কোনো রাতে তার মনে হয়, সে যেন আবিরকে একটা কথা বলতে ভুলে গেছে।

একটা কথাই তো।

আবির, আমি তোমাকে শুধু ভালোবাসিনি। আমি তোমার সঙ্গে একটা জীবনও চেয়েছিলাম। শুধু সেই জীবনটার জন্য লড়তে পারিনি।

কথাটা বলতে পারলে হয়তো বুকটা একটু হালকা হতো।

কিন্তু কিছু কথা বলার জন্য যে মানুষটার প্রয়োজন, সে মানুষটাই যখন আর জীবনে থাকে না, তখন কথাগুলো বুকের ভেতরেই থেকে যায়।

নবনীতা বালিশের পাশে রাখা ফোনটা হাতে নেয়। আবিরের নম্বরটা এখনো মুছে ফেলেনি সে।

কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে।

তারপর ফোনটা আবার রেখে দেয়।

না, সে ফোন করবে না।

কিছু মানুষকে ভালোবাসার পর একসময় তাদের বিরক্ত না করাটাও ভালোবাসার অংশ হয়ে যায়। আর কিছু সম্পর্ককে সম্মান করার একমাত্র উপায় হলো, তাদের আর নতুন করে কোনো প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে না দেওয়া।

নবনীতা জানালার পর্দা সরিয়ে আকাশের দিকে তাকাল।

শহরের আকাশে আজ কোনো তারা দেখা যাচ্ছে না।

তার মনে হলো, আবির হয়তো এই একই আকাশের নিচে কোথাও আছে। হয়তো সেও জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো সেও কোনো এক পুরোনো দিনের কথা ভাবছে।

কিন্তু এই হয়তো কখনো তাদের কাছে পৌঁছাবে না।

সময়ের নিয়মে দিন কেটে যায়।

মানুষের মুখ বদলায়, অভ্যাস বদলায়, জীবনের ঠিকানা বদলায়। পুরোনো ছবিগুলো একসময় আলমারির ভেতর চলে যায়। পুরোনো মেসেজগুলো আর প্রতিদিন পড়া হয় না। তবু কিছু স্মৃতি থেকে যায় এমনভাবে, যেন মনের কোনো গোপন ঘরে তাদের জন্য একটা জানালা খোলা আছে।

আবির আর নবনীতারও হয়তো তাই হবে।

কোনো এক শীতের সকালে আবির রাস্তার পাশে একটা নীল পোশাক পরা মেয়েকে দেখে এক মুহূর্ত থেমে যাবে। মনে হবে, মেয়েটার হাঁটার ভঙ্গিটা খুব পরিচিত। তারপর বুঝতে পারবে, সে নবনীতা নয়। তবু সারাদিন মনটা কেমন যেন হয়ে থাকবে।

কোনো এক বৃষ্টির রাতে নবনীতা হয়তো চায়ের কাপ হাতে নিয়ে জানালার পাশে দাঁড়াবে। হঠাৎ মনে পড়বে, কেউ একজন তাকে বলেছিল—বৃষ্টির দিনে মন খারাপ হলে নিজের যত্ন নিতে ভুলতে নেই। সে হয়তো অজান্তেই হেসে ফেলবে। তারপর সেই হাসির আড়ালে একটা দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে রাখবে।

তারা কেউ কাউকে ফিরে পাবে না।

তারা কেউ জানতে পারবে না, অন্য মানুষটিও ঠিক একই সময়ে একই স্মৃতির ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে কি না।

শুধু তাদের জীবনে থেকে যাবে একটা অসমাপ্ত প্রশ্ন—

যদি সেদিন আবির একটু বেশি অপেক্ষা করত?

যদি নবনীতা একটু বেশি সাহস করত?

যদি ভালোবাসার চেয়ে ভয় বড় হয়ে না উঠত?

তাহলে কি আজ তাদের গল্পের শেষ পাতায় দুজনের নাম পাশাপাশি লেখা থাকত?

নাকি জীবন তখনও অন্য কোনো অজুহাতে তাদের আলাদা করে দিত?

কেউ জানে না।

কিছু প্রশ্নের উত্তর না পাওয়াই হয়তো তাদের নিয়তি। কারণ সব গল্পের শেষটা লেখকের হাতে থাকে না। কিছু গল্পের শেষ লিখে দেয় সময়, কিছু ভুল সিদ্ধান্ত, আর কিছু না-বলা কথা।

আবির একদিন হয়তো পুরোপুরি নিজের জীবনে ফিরে যাবে। নবনীতাও হয়তো শিখে যাবে কীভাবে পুরোনো স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে নতুন দিনের মুখোমুখি হতে হয়।

কিন্তু তাদের দুজনের ভেতরেই কোথাও একটা ছোট্ট জায়গা থেকে যাবে—যেখানে তারা এখনো একে অপরের পাশে বসে আছে। ধানমন্ডি লেকের সেই পুরোনো বিকেলে। সূর্য ডুবছে, বাতাসে বৃষ্টির গন্ধ, আর তাদের কেউই জানে না, এটাই হয়তো শেষ দেখা।

সেখানে আবির এখনো নবনীতার হাতটা ধরতে চায়।

সেখানে নবনীতা এখনো বলতে চায়, আমাকে ছেড়ে যেয়ো না।

কিন্তু বাস্তবের পৃথিবীতে কেউ কারও হাত ধরে নেই।

সেখানে শুধু সময় এগিয়ে যায়।

আর তারা দুজন—দুজনের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় অথচ অসম্পূর্ণ অধ্যায় হয়ে—নিজেদের মতো বেঁচে থাকে।

হয়তো একদিন তাদের কেউ আর কাঁদবে না। কেউ আর পুরোনো মেসেজ খুলে দেখবে না। কেউ আর রাতে ঘুমানোর আগে মনে মনে অন্য মানুষটার নাম বলবে না।

তবু কোনো এক নিঃশব্দ মুহূর্তে তাদের মনে হবে, জীবনে একটা কিছু পাওয়া হয়নি।

কী পাওয়া হয়নি, তা তারা জানবে।

কেন পাওয়া হয়নি, সেটাও জানবে।

শুধু আর কোনোদিন সেই না-পাওয়াটাকে বদলে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

কারণ আবির আর নবনীতার গল্পে ভালোবাসার অভাব ছিল না—অভাব ছিল সঠিক সময়ে একে অপরকে বেছে নেওয়ার সাহসের।

আর জীবনের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো, কিছু ভুলের জন্য ক্ষমা পাওয়া যায়, কিছু স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা যায়—কিন্তু কিছু হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনাকে আর কোনোদিন বাস্তবে ফিরিয়ে আনা যায় না।

তাই তাদের গল্প শেষ হয় না কোনো পুনর্মিলনে, কোনো শেষ ফোনকলে, কিংবা একে অপরকে ভুলে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে।

তাদের গল্প শেষ হয় দুটি আলাদা ঘরে, দুটি নীরব রাতে, দুটি মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকা একই প্রশ্নে।

আমরা যদি সেদিন একে অপরকে বেছে নিতাম, তাহলে কি আজ এতটা একা হতে হতো?

প্রশ্নটা বাতাসে থেকে যায়।

উত্তর আসে না।

আবির জানে না, নবনীতা এখনো তাকে মনে করে কি না। নবনীতা জানে না, আবিরের ডায়েরিতে তার নাম আজও লেখা আছে কি না।

তাদের আর দেখা হবে না।

কথাও হবে না।

তবু কোনো এক অচেনা বিকেলে, পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে দুজনেই হয়তো হঠাৎ অনুভব করবে—কেউ একজন ছিল, যার সঙ্গে জীবনটা অন্য রকম হতে পারত।

আর সেই হতে পারত কথাটুকুর মধ্যেই লুকিয়ে থাকবে তাদের সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত হারানো স্বপ্ন, আর সারাজীবনের অতৃপ্তি।

কিছু ভালোবাসা মানুষকে কাঁদিয়ে শেষ হয় না। কিছু ভালোবাসা শেষ হয় না বলেই মানুষ সারাজীবন একটু অপূর্ণ থেকে যায়।

আবির আর নবনীতার গল্পটাও ঠিক তেমন।