খাদ্যে ভেজাল বলতে বুঝায়- অধিক মুনাফাখোরীর মনোভাব নিয়ে খাদ্যকে আকর্ষণীয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের রঙ মিশানো, খাদ্যকে আরো ঘণ করার জন্য এমাইলাম এর ব্যবহার, মধুতে কেইন সুগারের ব্যবহার, চাল ও মুড়িকে উজ্জ্বল এবং মাছ, মাংস ও সব্জির রক্ষণাবেক্ষণে এবং পশুকে মোটা তাজাকরণে ইউরিয়ার ব্যবহার, পচনরোধে ফল-মূল ও শাক-সব্জি এবং মাছ-মাংসে ফরমালিনের ব্যবহার, ফল পাকানোর কাজে কেলসিয়াম কার্বাইডের ব্যবহারকে বুঝায়। এ সমস্ত কেমিক্যাল অত্যন্ত বিষাক্ত। এগুলো মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এমনকি এগুলো ক্যান্সারের ন্যায় মরণব্যাধিকেও ডেকে আনতে পারে। বিধায় খাদ্যে ভেজাল একটি অনৈতিক ও অমানবীক কাজ। এগুলো মুমিনের তো নয়ই বরং মানুষেরই কাজ নয়। ইসলামে এ ধরনের কাজ চরমভাবে নিন্দিত। এতে কয়েক ধরনের অপরাধ জড়িয়ে আছে। এক. এটি প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি। দুই. এটি মূলত অবৈধ পন্থায় অপরের অর্থ গ্রহণ যা আত্মসাতের শামিল। তিন. ভেজালমিশ্রিত খাদ্য বিক্রয়ের সময় মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কসম করতে হয়। চার. মানুষকে কষ্ট দেয়া। পাঁচ. মানুষকে শারিরীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা।
খাদ্যে ভেজাল দেয়া ক্রেতার সাথে প্রতারণা করা। প্রতারণা ইসলামে নিষিদ্ধ। হযরত আবূ হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- একদা রাসূল (স.) বাজারে এক খাদ্যস্ত‚পের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি খাদ্যস্ত‚পের ভিতরে হাত প্রবেশ করিয়ে দেখলেন ভিতরেরগুলো ভিজা। তিনি খাদ্য বিক্রেতার নিকট জানতে চাইলেন- এটি কেমন কথা? সে বলল- বৃষ্টিতে ভিজে গেছে, হে আল্লাহর রাসূল! তদুত্তরে রাসূল (স.) বললেন - তাহলে তুমি খাদ্যগুলো উপরে রাখনি কেন, যাতে মানুষ দেখতে পেত। অত:পর নবী (স.) বললেন- যে ব্যক্তি প্রতারণা করবে সে আমার উম্মাত নয়। (সাহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১০২)।