মৃত্যুর জন্য আমি এপিটাফসৃষ্টি করতে চেয়েছিলাম।
কারন মৃত্যুকে আমার কাছে সবসময় থাবা গেড়ে বসে থাকা কোন জন্তুর মত মনে হয়। যে সর্বদাই
শিকার এর চারপাশে ঘুরছে,অবস্থান
পরিবর্তন করছে,আর অপেক্ষা করছে মোক্ষম সময়ের
জন্য। যখনি সেই কাঙ্ক্ষিত সময় আসবে তখনি যেন প্রতিপক্ষের উপর অব্যর্থ লাফ দিয়ে তার
টুঁটি চেপে ধরতে পারে।
মৃত্যু এমন এক জিনিস যা কিনা সকল মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করাতে পারে। আমাদের মধ্যে কেউ একজন মারা গেলে লোকজনের সে কি ছোটাছুটি !! যেই ব্যক্তির সামান্য কোন বিপদআপদ এ
আমরা একবার ও তার কোন খোঁজখবর নেবার প্রয়োজন বোধ করি না।তার মৃত্যুতে সবার
আগে গিয়ে আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করি আমরা তার
কতই না কাছের লোক!!! এরচেয়ে হাস্যকর আর
কি হতে পারে?
কিন্তু আমি কখনও মৃত মানুষ দেখতে যাবার মাঝে কোন উৎসাহ খুঁজে পাই না। আর তাই
আমি আমার মৃত পরিচিতজনকে দেখতে যেতে কখনো আগ্রহ বোধ করি না। কারন
যে মারা গেছে তার অন্তিম
মূহুর্তের দুঃখ-
বিষাদমাখা মুখের স্মৃতি আমার কাছে এক অসহ্য
অনুভুতি যা বাকি জীবন বয়ে বেড়ানো অর্থহীন।
বরং তারসাথে শেষ দেখার কিছু আনন্দময় স্মৃতি আমার নিউরনে জমা থাকুক। সেটাই
কি ভাল নয়??
যাকগে সেসব কথা। আবেগময় সব
কথার ভিড়ে আমার আসল কথাই
হারিয়ে গেছে। বলছিলাম মৃত্যুর জন্য এপিটাফ সৃষ্টির কথা।
আমি প্রায়শই
ভাবি কিভাবেএই মৃত্যু নামক বুনো,গোঁয়ার,হিংস্র,শ্বাপদ
জন্তুটার জন্য এপিটাফ করা যায়।
কিন্তু দিনরাত এত ভেবেও আমার এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক
বিশেষ সুবিধা করতে পারছে বলে মনে হয়
না।
তদুপরি এখন আর আগের মত অত
চিন্তাও করতে পারি না।
মাথা গরম হয়ে উঠে,প্রচন্ড
ব্যাথা করতে থাকে,চোখে অন্ধকার
দেখি। মনে হয় আমি হয়ত
হেরে যাচ্ছি। এই আমার বিদায়
ঘন্টা বাজল বলে।
মন্তব্য (1)