Fall Of Byzantine Jerusalem: 2 October 1187
১০৯৯ সালে প্রথম ক্রুসেডের মাধ্যমে খ্রিস্টানদের হাতে জেরুজালেমের পতন হয়। জেরুজালেমে থাকা ইহুদি ও মুসলিমদের ওপর নেমে আসে নির্মম গণহত্যা ও নির্যাতন।
খ্রিষ্টান ঐতিহাসিক টায়ারম্যান (Tyerman) তার God's War বইয়ে লিখেছেন,
"মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছিল, আর ইহুদিরা প্রাণ বাঁচাতে তাদের সিনাগগে আশ্রয় নিয়েছিল যেগুলো ক্রসেডাররা জ্বালিয়ে দেয়"
এই গণহত্যার চাক্ষুস সাক্ষী ও ক্রুসেডারদেরই ধর্ম যাজক রেমন্ড অব আগুইলার (Raymond of Aguilers) তার Historia Francorum qui ceperunt Iherusalem বই এ লিখেছেন,
"যদি আমি সত্যি কথাটি বলি, তবে আপনারা তা বিশ্বাস করতে কষ্ট পাবেন। সোলোমনের মন্দিরের বারান্দায় আমাদের লোকেরা রক্তে সাঁতার কাটা বা রক্তে ভেসে থাকা অবস্থায় ঘোড়ায় চড়ে ঘুরেছিল, যেখানে রক্তের উচ্চতা ঘোড়ার হাঁটু ও লাগাম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল"
অর্থাৎ মুসলিম ও ইহুদিদের রক্ত রীতিমতো তাদের হাঁটু পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল ! এভাবে ৮৮ বছর কেটে যায়। অবশেষে ১১৮৭ সাল, আইয়ুবি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সালাহউদ্দিন আইয়ুবি জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করার প্রতিজ্ঞা করে ঘর ছাড়লেন। একে একে জেরুজালেমের আশেপাশে থাকা ছোট বড় গ্ৰাম শহরগুলোর পতন হতে লাগলো মুসলিম সেনাদের হাতে। হাত্মিনের যুদ্ধের পর সবাই নিশ্চিত হয়ে যায় এবার পালা জেরুজালেমের।
২০ সেপ্টেম্বর, জেরুজালেম অবরোধ করে মুসলিম বাহিনী।
হাত্নিনের যুদ্ধে জেরুজালেমের রাজাকে কৌশলে শহরের বাইরে এনে আটক করে। যুদ্ধ পরিচালনা করেন কমান্ডার ব্যালিয়ান অব ইবালিন (Balian of ibalin)। পতন সুনিশ্চিত, জেনে তিনি দূতের মাধ্যমে সালাহউদ্দিন কে খবর পাঠান যদি সালাহউদ্দিন শান্তি চুক্তি না করে তবে জেরুজালেমের মাটিতে থাকা প্রতিটি ইসলামি স্থাপনা আর প্রতিটি মুসলিমকে হত্যা করা হবে।
২ অক্টোবর, ১১৮৭. সালাহউদ্দিন শান্তিচুক্তি করে শহরে প্রবেশ করলেন। খ্রিষ্টান রা ভেবেছিল সেই ১০৯৯ এর মতো এবার তাদের রক্তে বিজয় পালন করবেন সালাহউদ্দিন কিন্তু সালাহউদ্দিন সেই পথে না গিয়ে শহরের সকল ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেন। বন্দি খ্রিস্টান সেনাদের মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেন। যাদের মুক্তিপণ দেয়ার সামর্থ্য ছিল তারা মুক্তিপণ দিয়ে শহর ছাড়ে। আর যাদের সামর্থ্য ছিল না তাদের পরিবার দূরদূরান্ত থেকে এসে সালাহউদ্দিন আইয়ুবি এর কাছে এসে প্রাণভিক্ষা চাইতে শুরু করে। তিনি পরবর্তীতে বহু খ্রিষ্টান সেনাকে ছেড়ে দেন।
1.
জেরুজালেমের রানি অর্থাৎ রাজা গাই এর স্ত্রী সিবিলা'কে (Sibylla) নিরাপদে শহর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যালিয়ান এর স্ত্রী মারিয়া কোমনেন (প্রাক্তন রানি) এর অনুরোধে ব্যালিয়ানকে ছেড়ে দেয়া হয় তবে শর্ত দেয়া হয় সালাহউদ্দিন আইয়ুবি এর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে পারবেন না।
নিঃসন্দেহে সমর কৌশলে সালাহউদ্দিন আইয়ুবি তার সময়ের চেয়ে বহু কাল এগিয়ে ছিলেন। তার ক্ষমার এমন নৈতিকতা ইতিহাসে বিরলই নয়, শুধুমাত্র একবার ই ঘটেছে।
আজ সেই জেরুজালেমে আমাদের প্রবেশ করতে হয় ইহুদিদের অনুমতি নিয়ে! ইতিহাসের কি নির্মম পরিহাস!
~ Farhan

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।