তোমার আকৃতি খুঁজি ময়ুর পালকে
তোমার অবয়ব আঁকি স্মৃতির কল্পলোকে
বিষণ্ণ দীঘল রাত্রী জুড়ে
কালো আকাশের কোটি তারাদের ভীড়ে
একমাত্র শশাঙ্কের গায়ে এলোপাতাড়ি
সহস্রাধিক চিহ্নগুলো একত্র করে
তোমার মুখাবয়ব তুলি আঁখির ইশারায়।

শীত সকালে দূর্বাঘাসের ডগায়
চুপ করে ঝুলে থাকা শিশির কণায়
যখন অরুণের আলোকছটা ঠিকরে পড়ে
সেখানে তোমার বদন-রশ্মি খুঁজি,
কিংবা মনের ক্যানভাসে সবল স্হাপত্যের
নির্মাণশালায় অঙ্কিত তোমার মুখশ্রী
একবার দেখতে মাঝেমাঝে চোখ বুজি।

কাক ডাকা ভোরে নির্মল সমীরের স্রোতে
রোজ রোজ সজাগ আঁখে অপেক্ষায় থাকি
ভুল করে যদি তোমার পট ভেসে আসে।
ক্লান্ত দুপুরে শ্রান্ত কায়ে মোলায়েম তরুচ্ছায়
আমি চির অপেক্ষমাণ শুধু এক বিশ্বাসে-
তোমায় এক নজর দেখবো বলে।

তোমায় দেখবো বলে রাতারাতি পাড়ি দিই
সাত সমুদ্দুর আর তেরোশত নদী
একটু দেখা হয় যদি, দেখা হয় যদি।
তোমাকে দেখার অতৃপ্ত ব্যথায় ঝর্ণা বহে
এপারের নিরাশার কালো নীলিমায়।
নেমে আসা স্রোতে ভরে
গ্রীষ্মের দাপটে ফেটে চৌচির বিল।

বাঁকখালীর বাঁকে বাঁকে
দৃষ্টির অপলক পাহারা রেখেছি নীরব
যদি চলন্ত স্রোতে আসো নাহিবার তরে,
শঙ্খের আঁকাবাকা পাহাড়িয়া গতি
থামিয়েছি কতবার কত কত চরে।
মাতামুহুরির ছোটবড় বাহাত্তরটি খুমে
দিয়েছি নজরদারি নির্ঘুম নয়নে
যদি গভীর স্রোতে আসো ভাসিবার তরে।
আমি উঁকি দিয়েছি সকাল-সন্ধ্যা
এ আমার গাঁয়ের প্রতিটা সরলমনা মায়াবিনীর ঘরে।

কুঞ্জবনে উচ্চশিরে পাল তোলা
প্রতিটা রক্ত গোলাপের পাপড়িতে
কল্পনা করেছি তোমার মুখ
এ যাবত আমার গুছে গেল বেদন,
মুছেনি শুধু তোমায় দেখার অসুখ।

মোহনীয় দ্বীপ, মহেশখালী,