পুরুষের বয়স লেখা থাকে না ক্যালেন্ডারে—
লেখা থাকে কাঁধের হাড়ে,
যেখানে হঠাৎ একদিন দায়িত্বের আকাশ নামে।

কেউ তখনো তরুণ, চোখে রোদ্দুরের বয়স,
হাতে খেলনার গন্ধ—
অথচ পকেটে বাড়ির বাজারের হিসাব,
বুকের ভেতর বাবার ওষুধ,
মায়ের নিশ্চিন্ত ঘুম আর ছোটদের আগামীকাল।

সে বুঝে— পুরুষ হওয়া গোঁফ ওঠার গল্প নয়,
পুরুষ মানে নীরব নোঙর হয়ে যাওয়া;
ঝড়ের তীব্র গতিতেও সংসার স্থির রাখতে
নিজের ভেতর পাথর গড়া।

বয়সের সংখ্যায় পুরুষ বড় হয় না,
পুরুষ বড় হয় দায়িত্বের পরিমাপে।
যে কাঁধে একজনের ভার, সে কাঁধ হয়তো কম পাকা;
যে কাঁধে একটি পরিবার,
সে কাঁধে বয়সের কয়েকগুন বেশি ঋতু জমে থাকে।

কখনো কখনো পুরুষের চোখে ঘুম থাকে না—
থাকে হিসাব, থাকে আগামী ভয়, কিছু আর্তনাদ;
নিঃশব্দ, নীরব, শীতল— গা শিউরে ওঠা অনুভূতি।

কখনো কখনো পুরুষ আড়ালে ভেঙে পড়ে।
নিজের আঙিনায় চুপচাপ বসে থাকে।
সে জানে—
পুরুষের কাঁধ শুধু কাঁধ নয়, কারো কারো আশ্রয়।

কখনো পুরুষের বয়স জিজ্ঞেস করো না।
জিজ্ঞেস করো— তার কাঁধে কত মানুষের ঘুম!
তার হাতে কত মানুষের আগামীকাল!
ঝড়ের রাতে সে কতবার নিজেকে সামলে
পরিবারকে আগলে রেখেছে অভাবের দূর্যোগে!
মানুষের পরিণতি বয়সেই আসে, পুরুষের আসে দায়িত্বে।

সুখছড়ি, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।