শেষ দিনে ও তো বলেছিলে থাকবে,
পূজোর সপ্তমীতে সবাই মিলে
তখন অনেক হাসি অনেক গান গল্প হবে ।
শরীরে অত জ্বালা নিয়ে ও হেসে বলেছিলে – “ভালো আছ” ?
সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য বড় যাতনা সহ্য করছ ।
মুখ জুড়ে বিষন্নতা, একটু হাসি ছড়ানোর বৃথা চেষ্টা  ।
এ যেন পানাপুকুরে পানা সরিয়ে জলের স্বচ্ছতা খোঁজা ।
মুখের ভিতর কি যেন রেখেছ । বললে - “ওটা তিক্ততা কাটাতে,
অনেকটা সময় এখানে থাকতে হ্য় । নিজেকে নতুন করতে ।
শরীরে নতুন রক্তের আগমনী, বিসর্জন হ্য় পুরনোর  ।
ইচ্ছা শুধু এতটুকু চাই একটু বাঁচতে।
ওকে তো জানো, আমার জন্য কতভাবে ও রাত জাগে ।
আর ছেলেটা কাছে থাকার জন্যে অন্তরে অন্তরে কাঁদে ।
বড় লোভ হ্য় আর পাঁচজনের মত স্বাভাবিক হতে  ।
বাঁচতে চাওয়াটা কি বিশাল অপরাধ ?
পৃথিবীটা কত সুন্দর, চাঁদ ফুল আকাশ নদী পাহাড় মরু ,
সবই থাকে নিজের মত ।
তবে আমায় কেন চলে যেতে হবে, এই জগত ছেড়ে ?
আমি কেন অল্পায়ু ?  
আমি লড়ে যাব, আমি বাঁচব ।
আমাকে বাঁচতেই হবে......আমার সন্তানের মুখ চেয়ে ।”
আজ ফুল মালাতে মনে হয়েছে নেই,
ধূপ ধূনোর গন্ধেতে মনে হয়েছে তুমি নেই,
কপালে চন্দনের ফোটাতেও নেই,
নেই নেই নেই কো...থা...ও তুমি নেই
তখনি ছেলেটা ডুকরে কেঁদে ওঠে,  
মনে হল ... ওই কান্নাতেই তুমি বেঁচে আছ.............