এ্যাই, ঋষভ আমাকে চিনতে পারছিস না? আমি উর্মি!
এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে যাবার জন্য সি.এন.জি নিয়েছিলাম। সেটা থেকে যখন নামতে গেলাম তখনই দেখা হয়ে গেল ওর সাথে। অনেকদিন পর দেখা প্রায় একযুগ। ঋষভ আর আমি; আমরা বন্ধু ছিলাম স্কুলের শেষ দু-ক্লাস থেকে কলেজের হায়ার সেকেন্ডারি পর্যন্ত। তারপর আর ওর দেখা পাইনি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য আমি শহরে চলে এলাম ব্যাস তারপর থেকে যোগাযোগটাও ঢিলে হয়ে গেল। প্রথম প্রথম অবশ্যি বাড়ি গেলে দু-একবার দেখা হতো তারপর শেষের দিকটায় আমার বিয়ের আগে ওর কোন দেখাই পেলাম না যে কারনে বিয়ের কার্ডটাও দেয়া হয়ে উঠেনি অথচ ও বলেছিল আমার বিয়েতে কবজি ডুবিয়ে খাবে। আহা! সেসব দিনের কথা এখন শুধু এ্যালবামের পাতায় বন্দি। ঋষভ গিটার বাজাতে পারতো সর্ব শেষ জেনেছিলাম অনভিপ্রেত কোন কারনে গিটারিস্ট হবার ইচ্ছেতে জলাঞ্জলি দিয়ে দিয়েছে। এরপর আমি গ্রামের পাট চুকিয়ে পাকাপোক্ত ভাবে শহুরে বাসিন্দা হয়ে গেলাম বন্ধুত্বের সম্পর্ক গুলোতে শ্যাওলা জমে গেল। কখনো কখনো সে শ্যাওলায় স্মৃতিগুলো আছরে পড়ে এক-আধটু ব্যাথা পেত এই যা।
আজ ঋষভের সাথে দেখা হয়ে অনেকদিন পর সে ব্যাথাটা জেগে উঠলো কঠিন ভাবে। সন্ধ্যের আগে দাঁড়িয়েছিলাম সিএনজির জন্য অফিস কর্তার বাড়ি যাব বিয়ে বার্ষিকীতে মোড়ের এদিকটায় রিকসাও আসেনা অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকবার পর হঠাৎ সি.এ.জির দেখা পেলাম কোন রকম দরদাম না করেই উঠে বসলাম। জেলা স্মরনীর মোড়ে এসে নামতে গিয়ে দেখি ভাংতি নেই কুড়ি টাকার নোটটা আলগোছে এগিয়ে দিতেই ড্রাইভার বললো ভাংতি লাগবে তো? আমি বললাম কুড়ি টাকাই নিয়ে নেন ফেরত দেয়া লাগবে না। ব্যাগ নিয়ে নেমে পড়েছিলাম কিন্তু এ সময় ড্রাইভার বলে উঠলে অনুকম্পা দিচ্ছেন ম্যাডাম? এবার মুখের দিকে চেয়ে অবাক হয়ে গেলাম। এ-যে গিটারিস্ট ঋষভ!
টাকা নিল না। ওকে এ অবস্থায় দেখে মনটা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খারাপ হয়ে গেল। মন খারাপ নিয়ে হাসতে পারাটা খুব কঠিন! কিন্তু তারপরও হাসতে হলো যদিও ভেতরে তখন ভীষন রকমের তোলপাড়। আজ একই শহুরে বাতাসে একই শহুরে আকাশে দুজন হাটি, অথচ কতটা ব্যবধান! না চেনার অভিনয় করে পথচলা, না চেনার ভান ধরে কথা বলা অথচ কতখানি স্থান জুড়ে স্মৃতির কলকাকলী।
মন্তব্য (10)