বরিশাল যাচ্ছি। এটাই প্রথম বার। সেভাবে কোনও পরিকল্পনা ছিল না। ভাবছিলাম যাবো। স্বভাবতই নানা দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছিল মনে, না জানি কতো ভাড়া হয় জাহাজের, কতক্ষণ লাগে পৌছতে, বরিশালে যেয়ে আবার নদীনালা খালবিলে ডুবে যাবো মা তো (যেহেতু আমি সাঁতার জানি না)! মোটেও কোনও পরিকল্পনা ছিল না। পন্টুন ধরে হাঁটছিলান আপনমনে। এ সময় লঞ্চের স্টাফরা এক প্রকার জোরজবরদস্তি করেই হাতে ধরে তুলে দিলো জাহাজে। হা হা হা। এখন রাত বারোটা। আমার কোনও বেডিংপত্র নেই। কোনওরকমে একজন সজ্জন প্রবীণ ব্যক্তির বিছানার এক কোনে শরীর এলিয়ে দিয়েছি। রাত বারোটা চল্লিশ। ফুল স্পিডে জাহাজ চলছে। বিরাট জাহাজ। এম ভি টিপু- ৭ বা ৮ বা ৯ নাম এর। এম ভি টিপু পরিষ্কার মনে করতে পারলেও সংখ্যার ব্যাপারে আমি সন্দিহান! বারোটা চুয়াল্লিশ ঘড়ির কাটায়। জাহাজ চলছে। জানি না কেন, ওপাড় বাংলার বিখ্যাত জনপ্রিয় ব্যান্ডদল চন্দ্রবিন্দু’র বিশেষ একটি গানের কথা মনে পড়ছে, "এমনই রাত জানে ভালবাসাবাসি/ দূর বাজে জাহাজের বাঁশী/ যায় পাখি বন্দর ছেড়ে যায়/ আমাকে নাও... আমাকে নাও..." পানি ভর্তি খালবিল নদী সাঁতরাতে হয় নাকি! হা হা হা। পন্টুন ধরে হাঁটছিলান আপনমনে। এ সময় লঞ্চের স্টাফরা বলতে গেলে এক প্রকার জোরজবরদস্তি করেই হাতে ধরে আমাকে টেনে তুলে দিলো বরিশালগামী বিরাট জাহাজটাতে।
এখন রাত বারোটা। আমার কোনও বেডিংপত্র নেই। কোনওরকম একজন সজ্জন প্রবীণ ব্যক্তির বিছানার এক কোনে শরীর এলিয়ে দিয়েছি। রাত বারোটা চল্লিশ। ফুল স্পিডে জাহাজ চলছে। বিরাট জাহাজ। এম ভি টিপু- ৭ বা ৮ বা ৯ নাম এর। এম ভি টিপু পরিষ্কার মনে করতে পারছি কিন্তু সংখ্যার ব্যাপারে আমি সন্দিহান! যাই হোক জাহাজ চলছে। জানি না কেন, ওপাড় বাংলার বিখ্যাত জনপ্রিয় ব্যান্ডদল চন্দ্রবিন্দু’র বিশেষ একটি গানের কথা এ মুহূর্তে আমার খুব মনে পড়ছে, "এমনই রাত জানে ভালবাসাবাসি/ দূর বাজে জাহাজের বাঁশী/ যায় পাখি বন্দর ছেড়ে যায়/ আমাকে নাও... আমাকে নাও..."
জীবনে প্রথমবারের মতো আমার এই জাহাজ ভ্রমণ। ভিতরে ভিতরে দারুণ উত্তেজনা বোধ করছি। চমৎকার স্নিগ্ধ মায়াময় একটি রাত। জাহাজ চলছে দ্রতগতিতে। বেশ ভালো যাত্রী উপস্থিতি দৃশ্যমান।
(চলবে)
মন্তব্য (1)