বিশ্বাসঘাতক
২য় পর্ব :
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পর আপুর কাছে যেয়ে দেখি আপু ঘুমাচ্ছে, ঠিক ঘুমাচ্ছে বলা যাবে না, চোখ বুজে পড়ে আছে । আপুর বড় জা’ আপুর কপালে পানি পট্টি দিচ্ছে । কপালে হাত দিয়ে দেখি জ্বরে পুরে যাচ্ছে আপুর শরীর, চোখের কোনা দিয়ে অঝোরে গড়িয়ে পড়ছে জল । ওই ভাবী আমাকে দেখে আপুর কাছে থাকতে বলে কাজে গেলেন । আমাকে দেখে আপু শক্ত করে আমার হাতটা ধরে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেললো । কাঁদতে কাঁদতেই বললো “ঐশী, ভালোবেসে কাওকে কোনদিন বিশ্বাস করিসনা । তাহলে যতোদিন বেঁচে থাকবি ততোদিন জ্বলে পুরে মরবি”। আমি ভাবছিলাম আপু হয়তো জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকছে । কিন্তু তখনও বুঝিনি কি ঘটতে চলছে । রাতে এককোনায় আমি, মাঝখানে আপু আর আরেকপাশে আপুর বরের শোবার ব্যবস্থা হলো । কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা, কিন্তু হঠাৎ চাপা হিসহিস শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল । আপু দুলাভাইয়ের সাথে চাপা গলায় ঝগড়া করছে । সারমর্ম যা বুঝলাম, দুলাভাইয়ের অফিসের "নাদিয়া" নামের কোন নারী কলিগকে নিয়ে কোন একটা সমস্যা । ঠিক বুঝতে পাচ্ছিলাম না, আপুর সন্দেহ নাকি আসলেই দুলাভাইয়ের কোন সমস্যা আছে । মাথাটা চিনচিন করে উঠলো । তবুও নিরবে পড়ে রইলাম এবং আবার কখন যে মরার ঘুমে ঘুমিয়ে পরেছিলাম, ঘুম ভাঙলো ঘরের বাইরে চিৎকার চেঁচামেচিতে! ভেতরটা ছেৎ করে উঠলো, পাশে আপু দুলাভাই কেউ নেই । কিন্তু সকাল হতে ঢের দেরী আছে । হুরমুর করে বেরুলাম । সবাই এই শেষ রাতে পুকুর পারে ! আমার মাথা কাজ করছে না । আপু আমাকে গতকালই বলেছিলো ওই পুকুরের ঘটনাটা !

এই মুহুর্তে পরের অংশটুকু লিখতে আমার ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে । চোখের পানি সামলেও রাখতে পাচ্ছিনা । আমি এতো বড় কষ্ট নিয়ে পঞ্চগড় থেকে এতোটা পথ পারি দিয়ে কি করে ঢাকা ফিরে যাবো ?! যেই আপু আমাকে নিয়ে এসেছিলো সেই আপুর সাথে ফিরে যেতে পারলাম না । আমার পৃথিবীটা নিঃস্ব হয়ে গেছে । এতো দ্রুত একা হয়ে যাবো ভাবতেও পারিনি । আপু, কেন আমায় বললিনা তোর সব কষ্টের কথা ! আমি কি পারতাম না কোনভাবে তোর কষ্ট দূর করতে ? অন্তত আমায় চেষ্টাতো করতে দিতি ? কেন এভাবে চলে গেলি ?

ঢাকায় ফেরার পর বাবা-মা দুলাভাইয়ের নামে কেস করতে চাইলেন, কিন্তু আপু নিজে যেখানে নিজেকে আত্নাহুতি দিয়েছে সেখানে আত্নীয়-স্বজনরা বাবাকে নিরুৎসাহিত করলো এই বলে যে এটাতো মার্ডার না ।

---
গল্প