"উনিশে এপ্রিল" দেখার সময় ছোড়া প্রসেনজিৎকে দেখে চমকে উঠেছিলাম ! পরে বুঝলাম আমি নিজেই ১৭ বছর পেছনে পরে আছি।...তবুওতো পেছন থেকে উঠে আসার চেষ্টা...তাই বা কম কি !

সিনেমাটা দেখার এক পর্যায়ে মনে মনে গালি দিয়ে উঠেছিলাম ...! তুই যদি মায়ের পছন্দের লুতুপুতু মেয়েই বিয়ে করবি তাইলে প্রেম করতে গেলি ক্যান ! গররররর....

আমি বাস্তবে এভাবে গালি দেই না... দিয়ে অভ্যস্থ না । কিন্তু ক্রোধ চেপে রাখতে পাচ্ছিলাম না...মা, ডাক্তার মেয়ে পছন্দ করবে না, মা একটু ঘরোয়া বউ চায় এবং পরবর্তীতে মেয়ের মা-বাবার পেশা নিয়ে পরে যায় টানা হেচড়া ...এসব ইতং বিতং যে ছেলে ভাবে সে ক্যান প্রেম করে একটা মেয়ের জীবনকে এভাবে বিবর্ণ করে দেয় ?!

কিন্তু আমার দেখার ধারাবাহিকতাকে কিভাবে অদ্ভুতভাবে বদলে দিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের টানা পোড়েন থেকে ক্যারিয়ারিস্ট মা আর দিনের পর দিন মায়ের ব্যাস্ততায় সন্তানের দুরে সরে যাওয়া...
স্বামীর সাথে স্ত্রীর প্রফেশনাল (বরং ফিনানশিয়াল বলি) কনফ্লিক্ট ! স্ত্রীর বেশি খ্যাতি, টাকা কামানোকে স্বামীর মেনে নিতে না পারা...

একই ঘরের বাসিন্দা হয়েও স্বামী-স্ত্রীর দুই ভুবনে রয়ে যাওয়া... বড্ড কষ্ট পাচ্ছিলাম ।

একটা সময় চোখের কোনে হয়তো একটু জলের আঁচ পাচ্ছিলাম...বুকের ভেতর চিনচিনে ব্যাথা...

বোঝাপড়া গুলো ভালো থাকলে, স্বচ্ছ থাকলে...সম্পর্কের উন্নতি হতে বাধ্য । এর জন্যে চাই দু'জনকে দু'জনের বোঝার চেষ্টা । যা দুই পক্ষেরই উচিত ।

ঊনিশে এপ্রিল নিয়ে মুভিটির ঠিক পরপরই প্রসেনজিৎ আর দেবশ্রীর ডিভোর্স হয়ে যায় । যতদূর ধারণা করা যায়, মুভিটির জন্য দেবশ্রীর রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার এবং জাতীয় পুরষ্কার পাওয়া সহ আরও অন্যান্য কারণে প্রসেনজিতের কিছু ঈর্ষা জাগে । দেবশ্রীর তখনকার অভিনয়ের পারিশ্রমিকও প্রসেনজিতের আয়ের থেকে বেশী ছিল । ছোট ছোট ব্যাপারে মতানৈক্য হতে হতে ব্যাপারটা বিবাহবিচ্ছেদে গড়ায় ।

ঋতুপর্ণের মতো মানুষরা সমাজ-মানুষ-জাতির ভবিষ্যৎ দেখতে পান, ঊনিশে এপ্রিলে স্বামী-স্ত্রীর ঠিক এমনই মনোমালিন্যের চিত্রায়ণ করেছিলেন তিনি ।

IMDb তে ঊনিশে এপ্রিল
উইকিপিডয়িায় ঊনিশে এপ্রিল
youtube এ ঊনিশে এপ্রিল এর একাংশ

অভিনয়: অপর্ণা সেন, দেবশ্রী রায়, দীপংকর দে, প্রসেনজিৎ ও অন্যান্য ।

------
চলচ্চিত্র

(রিভিউ লেখার চেষ্টা, ঋতৃপর্ণ ঘোষ)