কারণ পরিবারের অন্যসব বিষয় নিয়ে কথা বললেও উনি ছেলেদের সম্পর্কে কোনো কিছু বলেন না। এক তরফা শুধু মেয়ের জামাইর প্রশংসা করেই যাচ্ছেন। আসলে মানুষ চেনা সত্যিই অসম্ভব দীর্ঘদিন ধরে একই জুতা পরতে পরতে এমন এক অভ্যাস তৈরি হয় যে, ভুলবশত অন্য কারও একই রকম জুতা পায়ে দিলেও চোখে দেখার আগেই টের পাওয়া যায় এটা নিজের নয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বছরের পর বছর একজন মানুষের সঙ্গে পরিচয়, চলাফেরা, সম্পর্ক সবকিছু থাকার পরও তাকে পুরোপুরি চেনা যায় না। মানুষকে চেনা সত্যিই অসম্ভব, কখনও কখনও ভীষণ রকম অসম্ভব। কারণ মানুষ বহুরূপী। সময়, পরিস্থিতি আর স্বার্থের প্রয়োজনে অনেকেই মুহূর্তেই নিজের রূপ, আচরণ আর রং বদলে ফেলতে পারে। তাই আমার একটু ভয় ভয়ও লাগছে।
ছেলেদের কথা জিজ্ঞাসা করতেই কালো বোরখা দিয়ে চোখ-মুখ চেপে ধরে। আহ্ গর্ভধারণী মা ছেলেদের কথা অন্যের সাথে চোখের প্লাবনে বুঝাতে চায়। আমার মা সবসময় পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে ছেলে বউদের সুনাম বাড়িয়ে বলতো। তবে সবাই বলে তোমার মা ভালো মানুষ হওয়ায় ছেলের বউরাও ইজ্জত করতো। এবং প্রহরীর মত সঙ্গ দিয়েই পাশেপাশে থাকতো। আমার মা কথা বলতো কম, খুব চাপা স্বভাবের একজন সাধারণ মহিলা। তাই হয়তো কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিলো না।
উনি চুপ করে আমার কথা শুনছে। সহজ সরল এই অপরিচিত মায়ের গরম নিঃশ্বাস ও চোখের গরম জল দুঃখের কালো পায়রা হতো। হলুদ আকাশে উড়তে গিয়ে আবার ফেরত আসে এই মায়ের বুকের পিঞ্জরে। আমার কথায় আনমনা ও অপ্রস্তুত মা‘টাকে আমার হাতে থাকা পানির বোতল এগিয়ে দিলাম। ঠক ঠক করে গলায় ঠেলে খালি বোতল নিয়ে লজ্জিত চোখে আমার দিকে তাকালেন। আমি কিছু বুঝতে পারার আগেই বলতে লাগলেন বড় ছেলেটা ভালো রোজগার করে টাকা পয়সার হিসাব সব বউয়ের কাছে । ছোট ছেলেটা আট মাস আগেই বিদেশ গিয়েছে কিন্তু এখনো রোজগার করার কোনো কুল কিনারা করতে পারছে না।
একবার মা বলে একটা ডাক দিতে ইচ্ছে করলো নিজেকে সংবরণ করলাম কৌশলে।
জীবনটাতো ভীষণ অনিশ্চিত সবাই জানি। কে কখন বিদায় নিবে, তা কেউ জানে না। তবুও কিছু মানুষ অন্যের বিশ্বাস ভাঙ্গে, অন্যকে ঠকিয়ে চলে যায়। নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে যায়। মাঝে মাঝে ভাবি একজন মানুষের চোখের জল আর দীর্ঘশ্বাস ফেলতে বাধ্য করে কীভাবে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমায়? একটু ভেবে দেখা যাক, যাকে কষ্ট দিয়েছি, সে আর বেঁচে নেই, তখন নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো তো?
আমি নিছক ও অতি নগণ্য, সাধ্যহীন মানুষ। তবু উনার কথায় ভর দুপুরে শতকোটি ঝি ঝি পোকা বিচরণ করে চোখে। শতকোটি পোকামাকড় কামড়াতে থাকে মাথায়। অবশ মাথাটাকে শক্ত একটা ঝাকুনি দিলাম।
বড় ছেলেটা একই গ্রামেই বিয়ে করেছে, ছেলে মেয়ে দুইজন। বড় আশা নিয়ে ছেলেটাকে বিদেশ দিয়ে ছিলাম প্রথম প্রথম ভালো টাকা পয়সাও দিয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর ভিন্ন রূপ।
সুখ হলো একটি প্রজাপতির মতো। আপনি যত তাকে তাড়া করবেন, ততই সে আপনার নাগালের বাইরে চলে যাবে। কিন্তু যদি আপনি শান্তভাবে বসে থাকেন, তবে হয়তো সে নিজেই এসে আপনার কাঁধে বসতে চেষ্টা করবে।
(বাকি)
Picture # x

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।