একটা সময় ছড়া লেখাটা, স্বরবৃত্ত ছন্দের সুঁচালো পথে হাঁটাটা বেশ কঠিন লাগতো। যেন প্রতি চরণে চরণে একটা দোলা। কবিতা লেখার শুরুর কালটা সেই অষ্টম শ্রেণি। ছন্দ-লয়-তাল কোনো কিছুই জানা ছিলনা। কেবল এটুকু ‌ধ্যান ছিল-আমাকে কবিতা লিখতে হবে। যে কোনো উপায়। স্যারের তিরস্কার। কবিতার ক্লাসে সহপাঠীর সাথে বেপরোয়া দুষ্টামি স্যারের নজরে আসলেই এমন তিরষ্কারের তীরে তিনি আমায় বিদ্ধ করেন। স্যারের উক্তিটা ছিল ' কোনো দিন একটা লাইন লেখার যোগ্যতা তো হবে না, যারা লিখে গেছেন তাদের সম্মানটুকুও দিতে শিখোনি।' স্যারের এই কথাটি বেশ লেগেছিল ভেতর বাড়ি। বাড়ি ফিরে সব কাজ ফেলে খাতা কলম নিয়ে চরণের পর চরণ লেখা আর কাটা, লেখা আর কাটা। কবিতা বেরুচ্ছে না ছাই। তখন যে বোধটুকু ছিল তা হলো চরণের শেষে মিল রাখতেই হবে। একটি চরণ লিখে পরের চরণে আর মিল খুঁজে পেতাম না। অনেক চেষ্টার পরে একটা কবিতা দাড় করেছিলাম। যার প্রথম দুটি চরণ এমন ছিল-শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষাই মানুষের ধন, শিক্ষা ছাড়া কেউ কোনোদিন হতে পারেনা মহান'। জানিনা সেটা কবিতা হয়েছিলো কিনা। তবে স্যারকে ঠিক দেখিয়েছিলাম। দেখুন স্যার আমিও পারি। সেই থেকেই কবিতাটা আর ছাড়তে পারিনি। আজ কবিতার ঘরে আমার বসবাস। কবিতাই ধ্যান-জ্ঞান। যে কথা বলছিলাম-এক সময় ছড়া লিখতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু ছড়া লিখতে গেলে নিজের ভেতর যে দুলুনিটা দরকার সেটার অভাব ছিল। অবশেষে একটা সময় সুযোগ হলো শিশুদের সংস্পর্শে আসার। শিশুদের নিয়ে কাজ করবার। এখন দেখছি ভেতর থেকে বেশ ছড়া বেরুচ্ছে। অনায়াসে লিখে ফেলতে পারি ছড়ার পর ছড়া। অতএব এটা অনস্বীকার্য যে প্রত্যেক বিষয়ের জন্যই বিষয় সম্পর্কীত সময়, পরিবেশ এবং প্রেক্ষাপট দরকার।