শরতে হঠাৎ বৃষ্টি। টুকরো টুকরো সাদা মেঘ জমে আচমকা ভেঙে পড়ল ঢাকার বুকে। বাসা থেকে বেরুলাম কর্মস্থলে যাব বলে। ঝুম বৃষ্টিতে ঢাকার যা হয়। পা ফেলে চলবার উপায় নেই। রিক্সার অপেক্ষা করছিলাম। খানিক বাদেই একটি রিক্সা চোখে পড়ায় ডেকে নিলাম তাকে। স্বাভাবিক বৃষ্টি ফোঁটার চেয়ে আজকের বৃষ্টি ফোঁটাগুলো বেশ বড় ছিল। ভালই লাগছিল রিক্সার অর্ধেক পা বৃষ্টিজলে ডুবে ডুবে চলছিল। বৃষ্টিরোধক যে পলিথিনটুকু ছিল তাতে আর মানছিলনা বৃষ্টির দাপট। ছিটেফোঁটা গায়ে এসে লাগল। কিছু উঠতি বয়সী যুবক যবুতীর বৃষ্টিস্নান দৃষ্টি কাড়ল। এই বৃষ্টিটুকু বুঝি বাঁধ ভাঙা আনন্দ নিয়ে এলো তাদের জন্য। কিন্তু যে মানুষটি আমাকে দুপায়ের জোরে ভর দিয়ে দিয়ে নিয়ে চলছিল, তার দিকে চোখ পড়তেই ক্ষাণিকের পুলকটুকু ম্লান হয়ে গেল। পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষটি বৃষ্টির জলে ভিজে ভিজে ভেতরে ভেতরে কাঁপছিল। এই বয়সে নিতান্তই পেটের দায়ে এই বৃষ্টিটুকু, এই জলভরা পথটুকু অনায়াসে মেনে নিয়েছে সে। গন্তব্যে পৌঁছে ভাড়ার চেয়ে যতটুকু সম্ভব বাড়িয়ে দিলাম। এটা মমত্ববোধ কিনা জানিনা। তবে দায়িত্ববোধের কথাই বারবার মনে পড়ে। প্রতিটি মানুষেরই এ পৃথিবীকে কিছু দেবার থাকে। আমরা পৃথিবীর সবকিছু বেমালুম ভোগ করছি। পৃথিবীরও কিছু প্রাপ্তি রয়েছে। কে কতটুকু করতে পারছি একবার ভাবা উচিত।
মন্তব্য (16)