এক কথায় আমরা তাঁর আশ্রয়ে থাকি। তাঁর আশ্রয় বলতে কি বোঝায়? সারা মহাবিশ্ব তাঁর ঘর- সেই বিরাট ঘরের কাছে আমাদের নিজেদের ঘর ধুলো কণা। আমরা বৃথা নিজের বাড়ি নিয়ে অহংকার করি। ওটা তো ধুলো, আজ আছে, কাল মালিকের মরণের সাথে সাথে অন্য কারো হাতে চলে যাবে। তাঁর অত বড় ঘর আমরা দেখিনি বলেই, নিজেদের ঘরকে বড় বলে মনে হয়। একশোটা জীবনেও পুরো বিশ্বকে দেখা যায় না আর মহাবিশ্বকে দেখা তো পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের মাপের মতো দূরের কথা।

তিঁনি সব জায়গায় আছেন। তাঁর কোনো আলাদা ঘর নেই। তিঁনি পঞ্চভূতে আছেন- অর্থাৎ ক্ষিতি (পৃথিবী বা মাটি), অপ (জল), তেজ (অগ্নি), মরুৎ (বায়ু) এবং ব্যোম (আকাশ)। তিঁনি বিশ্বে আছেন, মহাবিশ্বেও আছেন, মহাবিশ্বের ওপারেও আছেন। তিঁনি আমার মধ্যেও আছেন, আপনার মধ্যেও আছেন। তিঁনি সব জীবের মধ্যে আছেন। তিঁনি ভগবান নরসিংহের মতো থামের ভিতরেও আছেন। তিঁনি সতেও আছেন, অসতেও আছেন। আছেন সৃষ্টিতে, স্থিতিতে ও ধ্বংসে। মহাশূন্যে তাঁর বিরাজ। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে তাঁর অস্তিত্ব নেই। আমরা তাঁকে কোথাও চোখে দেখতে পাই না কারণ আমদের অন্তরের চোখ অন্ধ। জানবেন, যেখানেই তিঁনি আছেন, সেটাই পরম ধাম।

আমাদের চৈতন্য শক্তি সেই পরম শক্তির অংশ, তাই আমরা তাঁর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাঁকে পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে আরাধনা করাই আমাদের জীবনের কর্তব্য। আমাদের নর থেকে নারায়ণ অথবা নারী থেকে নারায়ণী হতে হবে, তাহলেই আমদের জীবন পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। সাধনা হল একমাত্র উপায়। সাধনা করতে করতে মানুষ তাঁর সাথে একতা অনুভব করে। এর কারণ সাধনার মাধ্যমে মানুষ তার মনকে বশে এনে ষড়রিপুকে জয় করতে পারে। ষড়রিপু কি কি? কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য- এই গুলোকে ষড়রিপু বলা হয়। যখন ষড়রিপু আমাদের বশে থাকে, তখন আমরা উচ্চতর চিন্তা ভাবনা করতে শিখি, আর তখনই অনুভব করতে পারি তাঁর অস্তিত্ব। এর ফলে আমরা পরম জ্ঞান প্রাপ্ত হই। যে বা যারা তাঁকে জানার চেষ্টা করে না, তারা চিরকাল অজ্ঞানী থেকে যায়। জানবেন, অজ্ঞানী মৃতের থেকেও মূর্খ। মুর্খ লোকের বেঁচে থাকা তো দূরের কথা, জন্ম নেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তাঁর সাথে আমাদের গভীর সম্পর্ক, কেবল পরম জ্ঞানই গভীর, যাকে দর্শন বলা হয়।

সমাপ্ত