তুমি চলে যাওয়ার পর ঘরটা বড় নীরব হয়ে গেছে,
দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ার মতো
চুপচাপ ঝরে পড়ে দিনের সব আলো।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বিকেলটা
এখন আর আগের মতো মিষ্টি গান গায় না,
বরং ধুলো জমা কাচে আঁকা থাকে এক বিষণ্ণ ছায়া।
আমি ভেবেছিলাম বিচ্ছেদ মানে কেবল দূরে সরে যাওয়া,
একটু চোখের জল আর কিছু দীর্ঘশ্বাসের গল্প।
কিন্তু বুঝতে পারিনি, অভিমান এত ভারী বস্তু,
যা বুক চেপে বসে থাকে নির্ঘুম মাঝরাতে।
চায়ের কাপে তোমার আঙুলের স্পর্শের স্মৃতি
প্রতি সকালে নতুন করে আমায় আহত করে।
তবু আমি তোমাকে ফেরাতে নদীর মতো ছুটে যাইনি,
আত্মমর্যাদার এক অদৃশ্য দেওয়াল
আমাকে আটকে রেখেছে নিজের সীমানায়।
ভালোবাসা যেখানে অবহেলার মুখোমুখি হয়,
সেখানে নীরবতাই বোধহয় সবচেয়ে বড় উত্তর।
আমার বুকের গভীর জমানো যত অভিযোগ ছিল,
সবগুলোকে আমি বাতাসেই সঁপে দিয়েছি।
তুমি হয়তো ভেবেছ আমি খুব সুখে আছি,
কিংবা ভুলেই গেছি আমাদের সেই যৌথ পথচলা।
বাস্তবে মানুষ যখন সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়ে,
তখন সে বাইরে থেকে বড্ড শান্ত হয়ে যায়।
আমার এই চুপ থাকা কোনো পরাজয় নয়,
এটা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা মাত্র।
এখনও মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামলে মন ছটফট করে,
পুরোনো চিঠির ভাঁজ খুলতে গিয়ে হাত থমকে দাঁড়ায়।
কিন্তু আমি আর সেই ভুলের ঘরে ফিরব না,
যেখানে হৃদয়ের দাম দেওয়া হয় না সামান্য শ্রদ্ধায়।
ক্ষতটা থেকে যাবে চিরকাল, হয়তো দাগ হয়ে থাকবে,
তবু এই পোড়া মনে আর কোনো মিনতি ফুটবে না।
একাকীত্ব এখন আমার সবচেয়ে পুরোনো বন্ধু,
যার সাথে কোনো অভিনয় করতে হয় না।
ভাঙা হৃদয় নিয়ে বেঁচে থাকা হয়তো কঠিন,
কিন্তু মিথ্যা ভালোবাসার ছায়ায় বাঁচার চেয়ে
এই একার অন্ধকার অনেক বেশি পবিত্র।
সবকিছু হারিয়েও মানুষ যা কিছু ধরে রাখে,
তা হলো তার নিজের একটুখানি আত্মসম্মান।
ভালোবাসা শেষ হয়ে যেতে পারে কোনো একদিন,
কিন্তু নিজের কাছে নিজের সত্য থাকাটা বেঁচে থাকে আমৃত্যু।