##গ্রাম্য কাহিনি
ভোরের কুয়াশা কেটে যখন আলো এসে পড়ে,
উঠানের কোণে মাটির ঘরটি জিরিয়ে নেয় রোদে।
বাঁশঝাড় বেয়ে শিশিরবিন্দু টুপটাপ করে ঝড়ে,
পাখির কলতান জেগে ওঠে পুরনো কোনো সুরে।
মেঠো আঁকাবাঁকা কাঁচা পথ ধরে হাঁটি একা একা,
দু’পাশে সবুজ ধানের ক্ষেত বাতাসে দোলা দেয়।
খালের শান্ত জলে ভেসে যায় শাপলার দল,
মাঝির দাঁড়ায়ের শব্দে নদীর বুক থমকে দাঁড়ায়।
লাঙল কাঁধে নিয়ে কৃষক চলেন পুবের মাঠে,
রোদে পোড়া পিঠে লেগে থাকে বেঁচে থাকার ঘাম।
মেঠো পথের ধারে চড়ে বেড়ায় বাছুর আর ছাগল,
ঘাসের গন্ধে মিশে থাকে কত না-বলা নাম।
দুপুরে নিঝুম রোদে বটগাছের ছায়ায় জিরোয় পথিক,
পান্তা ভাতের থালায় লেগে থাকে খাঁটি ভালোবাসা।
প্রতিবেশীর ঘর থেকে ভেসে আসে সহজিয়া ডাক,
এক চিলতে দাওয়ায় বসে গল্পে কাটে অলস বেলা।
বিকেলের মাঠে কচি পায়ের চঞ্চল ছোটাছুটি,
ধুলোউড়ানো শৈশব ফেরায় পুরনো কোনো স্মৃতি।
লালচে মেঠো ধূলোর ওপর গোধূলির ছায়া পড়ে,
হাটের চেনা গোলমালে জমে ওঠে সন্ধ্যার প্রস্তুতি।
বাতি জ্বলে ওঠে মাটির প্রদীপে, ধূপের সুবাসে,
দূর থেকে ভেসে আসে সুমিষ্ট সন্ধ্যাকালীন আজান।
বাঁশঝাড়ের ওপারে টিমটিম করে জ্বলে জোনাকির আলো,
যেন তারার মেলা নেমে এসেছে সবুজ ঘাসের বুকে।
এই যে মাটির ছোঁয়া, মানুষের নিবিড় আন্তরিকতা,
শহরের ইট-পাথরে এমন স্নিগ্ধতা কোথায় পাবো?
এখানে শিকড় গাঁথা রয়েছে আমার সমস্ত অস্তিত্ব,
আমার শৈশব, আমার ঘর, আমার পরম পাওয়া।
জীবনের শ্রান্ত কোলাহলে যখনই আমি পথ হারাই,
আমার মন ছুটে যায় সেই মেঠো পথের বাঁকে।
গ্রাম কেবল কোনো নিছক ভৌগোলিক মানচিত্র নয়,
এ যেন বেঁচে থাকার এক অনন্ত, গভীর বিশ্বাস।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।