ভোরের কোল ঘেঁষে এক যান্ত্রিক জাগরণ
ঘুম ভাঙার আগেই দিন শুরু হয়ে যায় এই শহরে। মাথার ওপর ফ্যানের ক্যাসক্যাস শব্দ, তার সাথে দেওয়াল ঘড়ির টিকটিক গুঞ্জন আর কোনো এক অলক্ষ্য থেকে ভেসে আসা অ্যালার্মের ধারালো টুংটাং—এই তিন মিলেই প্রতিদিন সকালে ভাঙতে শুরু করে শহরের মানুষের নীরবতা। অ্যালার্মটা বাজার সাথে সাথেই মস্তিষ্ক যেন আচমকা এক অদৃশ্য চাবুকের আঘাত খায়। বিছানায় আরেকটু গড়াগড়ি খাওয়ার যে চিরায়ত সুখানুভূতি, এই যান্ত্রিক ইট-কাঠের রাজত্বে তা এক বিলাসিতা মাত্র।
দরজা খুলে বাইরে পা বাড়াতেই নাকে আসে সতেজ বাতাসের বদলে এক চেনা, ধোঁয়াটে গন্ধ। ফুটপাতের পাশের ছোট্ট চায়ের দোকানে ততক্ষণে জং ধরা কেটলি থেকে ধোঁয়া উড়তে শুরু করেছে। আধভাঙা লাল রঙের প্লাস্টিকের টুলে বসে এক প্রবীণ লোক ধোঁয়া ওঠা চায়ে চুমুক দিচ্ছেন, অথচ তাঁর চোখ দুটি স্থির হয়ে আছে সামনের ফাঁকা রাস্তাটার দিকে—যেন সেখানে কোনো পুরনো দিনের স্মৃতি খুঁজছেন। একটু দূরেই রিকশার টুংটাং ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। চালক জয়নাল মিয়া গলার গামছা দিয়ে সিটের ওপর জমা হওয়া সকালের শিশিরটুকু মুছে নিচ্ছেন। তাঁর পা দুটো এখনই তৈরি হচ্ছে এক দীর্ঘ, ক্লান্তিকর যাত্রার জন্য।
বাসস্ট্যান্ডে ততক্ষণে লোক জমতে শুরু করেছে। কেউ ট্রাউজার্স সামলাতে সামলাতে ছুটছেন, কেউ আবার হাতের আধপোড়া সিগারেটটা তড়িঘড়ি করে মাটিতে ফেলে বুটজুতো দিয়ে পিষে দিচ্ছেন। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে একটি লোকাল বাস ধোঁয়ার কুন্ডলী পাকিয়ে ধেয়ে আসছে। বাসটা পুরোপুরি থামার আগেই দরজার কাছে এক দল মানুষের হুড়োহুড়ি। কে আগে উঠবে, কে দরজার রডে একটু আঙুল ছোঁয়াতে পারবে—তারই এক নিখাদ বেঁচে থাকার লড়াই। বাসটা যখন ধোঁয়া ছেড়ে আবার চলতে শুরু করে, তখন তার দরজায় ঝুলে থাকা কয়েকজোড়া পা যেন গোটা শহরের তাড়া আর তাড়া কাটানোর গল্প বলে যায়। এটাই শহরের ব্যস্ত মানুষদের প্রতিদিনের প্রথম অধ্যায়।
সময়ের পিঠে চড়ে প্রতিদিনের যুদ্ধ
রোদ যত বাড়ে, শহরের পিচঢালা পথগুলো তত বেশি তেতে ওঠে। রাস্তার প্রতিটি মোড়ে তখন জমে ওঠে যানবাহনের পাহাড়। লাল ট্রাফিক সিগন্যালের নিচে সারি সারি গাড়ি যেন এক গভীর ক্লান্তিতে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ভেতরে বসে থাকা মানুষেরা বারবার ঘড়ির কাঁচের দিকে তাকান, কপালে ভেসে ওঠে দুশ্চিন্তার রেখা। অফিসের নির্ধারিত সময়ের আর মাত্র ১০ মিনিট বাকি, অথচ গাড়ি এগোচ্ছে ইঞ্চি মেপে মেপে। এই যানজটের দীর্ঘ অপেক্ষা কেবল রাস্তার দূরত্ব বাড়ায় না, ভেতরের সহনশীলতাকেও ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দেয়।
ব্যস্ত নগর জীবন আসলে এক অলিখিত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। এখানে যে যার মতো দৌড়াচ্ছে, কিন্তু কেউ জানে না আসল গন্তব্য কোথায়। এই গতিময়তার ভেতরেই আত্মগোপন করে থাকে মধ্যবিত্ত জীবনের সংগ্রাম। চাল, ডাল, বাড়িভাড়া আর সন্তানের স্কুলের ফি—এই কয়েকটা অঙ্কের হিসাব মেলাতেই একজন মানুষের যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্য এসে হাজির হয়। ফুটপাতে হেঁটে চলা চশমা পরা লোকটার দিকে তাকালে বোঝা যায়, তাঁর কাঁধের ব্যাগটাতে শুধু কয়েকটা ফাইল নেই, আছে একটা পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ সামলানোর ভার।
উঁচু উঁচু দালানের কাঁচের জানালায় যখন দুপুরের রোদ ঠিকরে পড়ে, তখন ভেতরে এয়ারকন্ডিশনারের ঠাণ্ডা বাতাসে হাজার হাজার চোখ ল্যাপটপের পর্দার দিকে স্থির হয়ে থাকে। আঙুলের ডগায় টাইপ হতে থাকে হাজারো ইমেইল, তৈরি হয় হাজার কোটি টাকার ফাইল। কিন্তু সেই এসি ঘরের ভেতরে থাকা মানুষটার মনের ভেতরের যে শূন্যতা, তা মাপার মতো কোনো স্কেল নেই। তারা হাসে, কথা বলে, প্রজেক্ট জমা দেয়; কিন্তু সেই হাসির পেছনে থাকে এক দীর্ঘশ্বাসের দীর্ঘ ছায়া। সময়ের সাথে প্রতিদিনের এই যে যুদ্ধ, তাতে কেউ জেতে না, সবাই শুধু টিকে থাকে।
শহরকে জাগিয়ে রাখা নিরব সেনাপতিরা
আমরা যখন কোনো শীতের সকালে লেপের ওম ছেড়ে উঠতে চাই না, কিংবা বৃষ্টির দুপুরে ঘরের জানালায় বসে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে চুমুক দিই, তখন এই শহরটাকে সচল রাখার জন্য কিছু মানুষ নীরবে ঘেমে নেয়ে একাকার হন। এই কর্মব্যস্ত মানুষদের তালিকা খুব একটা ছোট নয়, কিন্তু তাদের নাম আমরা কখনো মনে রাখি না।
ফুটপাতের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাজু, যিনি খুব ভোরে সবার বর্জ্য পরিষ্কার করে পথটাকে হেঁটে চলার যোগ্য করে তোলেন; ফুটপাতের ছোট্ট চায়ের দোকানদার সোবহান ভাই, যিনি এক কাপ গরম চা আর একটুকরো মিঠে কথার ছোঁয়ায় মানুষের সকালের ক্লান্তি দূর করেন—এরাই এই নগরীর আসল প্রাণভোমরা। দুপুর গড়িয়ে যখন প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে আমরা ঘরে বন্দি থাকি, তখন পিঠে বিশাল এক খাবারের ব্যাগ নিয়ে বাইক কিংবা সাইকেল চেপে ছুটে চলেন ডেলিভারি বয়রা। ঘামে ভেজা টিশার্টটা তাদের গায়ে সেঁটে থাকে, কিন্তু ফোনের ওপাশের অচেনা গ্রাহকের কাছে খাবারটা সময়মতো পৌঁছে দেওয়াই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
রিকশাচালক মোবারকের কথা ধরা যাক। প্রতিদিন সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত তিনি মানুষের ভার বহন করেন। পেছনের পেডেল ঘোরানোর সময় তাঁর উরুর রগগুলো ফুলে ওঠে, কপাল বেয়ে নামা ঘামের ফোটা এসে পড়ে চোখের পাপড়িতে। তবু তিনি থামেন না। কারণ তাঁর পেছনের চাকায় শুধু একজন যাত্রী বসে নেই, বসে আছে গ্রামের বাড়িতে থাকা অসুস্থ মায়ের ওষুধ আর ছোট মেয়ের আবদারের খাতা। এই মানুষগুলো যদি একদিন কাজ বন্ধ করে দেন, তবে এই জাঁকজমকপূর্ণ শহরটা এক মুহূর্তেই অচল হয়ে পড়বে। অথচ, দিনের শেষে এরা যখন বাসায় ফেরেন, তখন শহরের ঝিলমিলে আলো তাদের ওপর পড়ে না; তারা হারিয়ে যান কোনো এক অন্ধকার গলির স্যাঁতসেঁতে ঘরে।
ভিড়ের ভেতরের নিঃসঙ্গতা ও সম্পর্কের দূরত্ব
সহস্র মানুষের পদচারণায় মুখরিত এই নগরীতে অদ্ভুত এক শহরের একাকীত্ব বিরাজ করে। এখানে রাস্তার মোড়ে হাজার হাজার মানুষের ভিড়, কিন্তু হৃদয়ের গহীনে চরম শূন্যতা। গায়ে গা ঘেঁষে লোকাল বাসে দাঁড়িয়ে থাকা দুটো মানুষ হয়তো এক ঘণ্টার সফর একসাথে শেষ করে, কিন্তু কেউ কারও নামটাও জানতে চায় না। আমাদের আশেপাশে কত শত মুখ, কিন্তু সত্যিকারের কথা বলার মতো মুখ কই?
ডিজিটাল যুগের রঙিন আলো আমাদের বাহ্যিকভাবে জুড়ে দিয়েছে সত্যি, কিন্তু ভেতরের খাঁটি বন্ধনগুলোকে এক লহমায় শিথিল করে দিয়েছে। হাতে হাতে সর্বাধুনিক স্মার্টফোন, স্ক্রিনে ভেসে উঠছে শত শত নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় জ্বলজ্বল করছে হাজার হাজার ‘ফ্রেন্ড’। কিন্তু বাস্তব জীবনে একটু দরদের ছোঁয়া পাওয়ার মতো মানুষের বড়ই অভাব। একই বাসে বসে দুজন মানুষ যখন পাশাপাশি চলেন, তখন তাদের চোখ থাকে যার যার মোবাইল স্ক্রিনে। ভার্চুয়াল পৃথিবীর অগণিত রঙিন ছবির ভিড়ে পাশের জীবন্ত মানুষটার চোখের জল কিংবা ক্লান্তির ছাপ আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়।
সবচেয়ে করুণ দৃশ্য ফুটে ওঠে মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চবিত্তের ঘরগুলোতে। একই ছাদের নিচে বাস করেও পরিবারের সদস্যরা আজ বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপের মতো। বাবা ফিরছেন রাত দশটায়, মা হয়তো নিজের অফিসের কাজে ব্যস্ত, আর সন্তানটি ঘরের কোণে নিজের ডিভাইসে অন্য এক কাল্পনিক জগতে ডুব দিয়েছে। রাতের খাবারটা মাঝেমধ্যে একসাথে খাওয়া হলেও সেখানে আর আগের মতো প্রাণবন্ত আড্ডা জমকায় না। সবাই যেন নিজের নিজের খোলসের ভেতরে বন্দি। এই নগরীর বাস্তবতা আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে ভিড়ের মধ্যেও চরম একাকী হয়ে থাকা যায়, কীভাবে সম্পর্কের উষ্ণতা বাদ দিয়ে শুধুই এক যান্ত্রিক সহাবস্থান বজায় রাখা যায়।
এক চিলতে বৃষ্টির দিন ও হারিয়ে যাওয়া শৈশব
শহরের যান্ত্রিক জীবনে হঠাৎ বৃষ্টির আগমন যেন এক অলৌকিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। কালো মেঘে যখন রাজপথ ঢেকে যায়, আর হুড়মুড় করে নামেন অঝোর ধারার বৃষ্টি, তখন থমকে দাঁড়ায় ব্যস্ততার চাকা। ফুটপাতের কদমতলায় কিংবা কোনো বহুতল ভবনের কার্নিশের নিচে গা ঘেঁষে দাঁড়ায় নানা পেশার মানুষ। কোট-টাই পরা কর্পোরেট অফিসার আর গামছা পরা রিকশাচালক তখন একই ছাদের নিচে আশ্রয় নেন। বৃষ্টি যেন সাময়িকভাবে হলেও ধনী-দরিদ্রের দেওয়ালটা মুছে দেয়।
কার্নিশ থেকে ঝরে পড়া জল নিয়ে খেলা করে কোনো ফুটপাতের পথশিশু। তার হাসিতে যে সহজ আনন্দ ফুটে ওঠে, তা কোটি টাকা খরচ করেও কোনো কফি শপে পাওয়া যায় না। রাস্তার জমে থাকা পানির ওপর দিয়ে যখন কোনো বাস দ্রুত গতিতে চলে যায়, আর পানির ঝাপটা এসে লাগে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের পায়ে, তখন অনেকে বিরক্ত হন বটে, কিন্তু কারও কারও চোখে ফুটে ওঠে ছেলেবেলার সেই মেঠো পথের স্মৃতি। গ্রামের মেঠো পথে খালি পায়ে কাদা ছেটানোর দিনগুলো কত দূরে ফেলে এসেছে এরা!
অর্থ উপার্জনের ইঁদুর দৌড়ে নামতে গিয়ে শহরের মানুষগুলো তাদের ভেতরের সেই সরল শিশুটিকে কবে যে হত্যা করেছে, তা তারা নিজেরাও জানে না। ছোট ছোট আনন্দে হেসে ওঠার যে ক্ষমতা, তা আজ কাজের চাপে পিষ্ট। পার্কের কোনো এক কোণে ফুটে থাকা একগুচ্ছ রাধাচূড়া কিংবা সজনে ফুলের দিকে তাকিয়ে দুটো দীর্ঘশ্বাস ফেলার মতো সময়ও আজ এই শহরের মানুষের নেই। আমরা সফল হতে চেয়েছি, ধনী হতে চেয়েছি; কিন্তু সেই চাওয়ার খেসারত হিসেবে দিয়ে ফেলেছি আমাদের আত্মাকে।
সাঁঝের বাতি ও ক্লান্তি মাখা ফেরা
সূর্য যখন পশ্চিমের দালানগুলোর পেছনে ঢলে পড়ে, তখন শহরের রূপ আবার বদলাতে শুরু করে। এবার ফেরা। যে তাড়া সকালে ছিল কাজে যাওয়ার, সেই একই তাড়া এখন নীড়ে ফেরার। কিন্তু এই ফেরায় কোনো আনন্দ থাকে না, থাকে কেবল এক পাহাড়প্রমাণ ক্লান্তি। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে আবার সেই একই ভিড়, ফুটপাতে সেই একই হুড়োহুড়ি।
রাত নয়টা কিংবা দশটা। মোড়ের ফুটপাতের চায়ের দোকানে এখনও কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের হাতে আধপোড়া বিড়ি কিংবা চা, চোখেমুখে এক অগাধ শ্রান্তি। সারাদিনের খাটুনির পর শরীর আর চলতে চায় না। অবশেষে যখন কোনোমতে বাসায় পৌঁছানো হয়, তখন সন্তান হয়তো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। দরজার ওপাশে অপেক্ষারত স্ত্রী হয়তো ক্লান্ত মুখে শুধায়, "চা খাবে?"
ক্লান্ত বাবাটি সন্তর্পণে ছেলের ঘরে গিয়ে দাঁড়ান। ঘুমন্ত সন্তানের কপালে একটু হাত বোলান। সারাদিনের সমস্ত অপমান, কাজের চাপ আর ধূলিময় ট্রাফিকের যন্ত্রণা কোথায় যেন এক মুহূর্তে মিলিয়ে যায়। এই ছোট্ট একটি মুহূর্তের জন্যই তো প্রতিদিনের এই আত্মত্যাগ! কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয়, সন্তানকে জাগিয়ে দুটো গল্প করার সময়ও কি তাঁর আছে? কাল সকালে যে আবার সেই একই সময়সূচি, সেই একই অ্যালার্মের ধারালো টুংটাং।
রাত গভীর হয়। শহরের মূল সড়কগুলোতে এখন বড় বড় ট্রাকের বিকট শব্দ। দূরপাল্লার বাসগুলো সাঁ সাঁ করে বেরিয়ে যাচ্ছে অচেনা গন্তব্যে। উড়ালসড়কের ওপর সোডিয়াম বাতির হলুদ আলো অদ্ভুত এক মায়াজাল বুনে রাখে। শহর ঘুমায় না, কিন্তু এই শহরের হাজারো মানুষের স্বপ্নগুলো প্রতিদিন রাতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তারা ঘুমায় কেবল আগামীকালের যুদ্ধের জন্য শক্তি সঞ্চয় করতে।
জীবনের আসল খতিয়ান
জীবনের দীর্ঘ পথ চলায় আমরা প্রায়শই ভুলেই যাই যে বেঁচে থাকা আর কেবল শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। কেবল ইটের পর ইট সাজিয়ে অট্টালিকা গড়া কিংবা ব্যাংক ব্যালেন্সের সংখ্যা বাড়ানোই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। এই ব্যস্ততার ঘূর্ণাবর্ত থেকে নিজেকে মাঝে মাঝে একটু আড়াল করা খুব প্রয়োজন।
একটু থেমে চারপাশটা দেখা, কোনো এক বিকেলেও ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে মেঘের আনাগোনা লক্ষ্য করা, কিংবা কোনো পুরনো বন্ধুকে হঠাৎ ফোন করে অহেতুক আড্ডা দেওয়া—এসবই তো জীবনের আসল রসদ। প্রিয় মানুষগুলোকে কেবল উপহার বা অর্থ না দিয়ে একটুখানি সময় দেওয়া, তাদের চোখের ভাষার দিকে তাকানো—এই ছোট ছোট অনুভূতির ওপরই টিকে থাকে আমাদের মানবিক অস্তিত্ব।
শহর তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। আজ যে মানুষটা ব্যস্ততায় পিষ্ট হয়ে ছুটছে, কাল সে না থাকলে শহর তার জন্য এক সেকেন্ডের জন্যও থেমে থাকবে না। ট্রাফিক লাইটের লাল-সবুজ আলো জ্বলতেই থাকবে, বাসগুলো একইভাবে লোক তুলবে আর নামাবে। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া দরকার। যান্ত্রিকতার এই মহাদৌড়ে নিজের মনটাকে একটু জিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
জীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যেন এই আফসোস না থাকে যে, আমরা কেবল ছুটেছি, কিন্তু বাঁচতে ভুলে গিয়েছি। ইটের খাঁচায় বন্দি এই শহরের ব্যস্ত মানুষগুলোর বুকজুড়ে ফুটুক খানিকটা প্রশান্তির ফুল, থামুক অযথা দৌড়, আর বেঁচে থাকুক ভালোবাসা ও অনুভূতির সহজ-সরল পৃথিবীটা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।