২১/১০/২০২৬খ্রিঃ
ডিপার্ট্মেন্ট অব নারকোটিক্স কন্ট্রোল (DNC) ২০২৪ সালে তাদের ড্রাগ রিপোর্টে প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়ে ও ভৌগলিক কারণে তিনটী আন্তর্জাতিক রুটের ( গোল্ডেন ট্রায়েঙ্গেল , গোল্ডেন ক্রিসেন্ট এবং গোল্ডেন ওয়েজ ) এর কাছাকাছি হওয়ায় মাদক বিস্তারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে । প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ,বাংলাদেশ এর ৩২ টি জেলার ১০৪টি সীমান্ত পয়েন্ট উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ট্রাঞ্জিট পয়েন্ট । তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের ৮ টি জেলার ৪৩ টি পয়েন্ট ,পূর্বাঞ্চলের ৪টি জেলার ২১টি পয়েন্ট ,উত্তরাঞ্চলের ৫ টি জেলার ২১টি পয়েন্ট এবং কক্সবাজারের ১৯টি পয়েন্ট । বাংলাদেশে বৈধ ও অবৈধ মাদক কারবারি সংখ্যা একেবারে ফেলনা নয় । ডিএনসির মাধ্যমে লাইসেন্স প্রাপ্ত ৭২৫৭ এবং অবৈধ প্রায় দুই লক্ষ কারবারি রয়েছে। ,ডি এন সি ও পুলিশের তৈরি ডাটাবেজ অনুযায়ী ।(২০২৪-২০২৬) পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী মাদক কারবারি গডফাদারের সংখ্যা প্রায় ৪০০০জন । টেকনাফ , কক্সবাজার এবং ভারত – মিয়ান্মারের সীমান্তবর্তী জেলা গুলোতে চোরাচালান সিন্ডিকেট কয়েক হাজার । এই মাদক কারবারিগণ ছদ্মবেশি ব্যবসায়ী ( ইমপোর্ট –এক্সপোর্ট , পরিবহণ ব্যবসা বা ছোটখাট বৈধ ব্যবসায়ের) আড়ালে মাদকের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে । সীমান্তবর্তী শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে দৈনিক ভিত্তিতে ও মাদকের হাত বদল হয় । জাতিসঙ্ঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা (UNCTAD) এর মতে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৫১৪৭কোটি টাকা মাদক কারবারের মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার হয় ।
ডি এন সির সাম্প্রতিক সমীক্ষা এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে মাদক সেবীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লক্ষ । যার মধ্যে ৮০% কিশোর এবং তরুণ যাদের বয়স ৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে । এই বয়সের ৯২% ব্যক্তি ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মাদকের সংস্পর্শে আসে যা অত্যন্ত ভয়াবহ একটা সুস্থ্য জাতি গঠনের অন্তরায় । মাদক সেবীদের ৬০% এখন ও শিক্ষার্থী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যা হচ্ছে কর্মক্ষম যুবক যুবতী । সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী মাদকাসক্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই সর্বাধিক , নারীর সংখ্যা দুই লক্ষ পঁচাশি হাজার । মাদক নিরাময় কেন্দ্র ( ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও পূনর্বাসন কেন্দ্র এর তথ্য অনুযায়ী নারী মাদকাসক্তদের প্রায় ৭৩% এর বয়স সীমা ১৪ থেকে ৩৫ বছর ।
বাংলাদেশের মাদকের বাজার সিংহভাগ দখল করে আছে সীমান্ত দিয়ে আসা বিদেশী মাদক (ইয়াবা ও আইস , ফেন্সিডিল ও হেরোইন । দেশীয় চোলাই মদ ,গাঁজা বিভিন্ন ঘুমের ঔষধ ।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বেসরকারি বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা (২০১৮) সাল অনুযায়ী দেশে মাদক সেবীর সংখ্যা ৩৫ লক্ষ ধরা হলে ও বর্তমানে তা দ্বিগুণ হয়েছে । আগে মাদক সেবী শহর কেন্দ্রিক থাকলে ও মাদকের সহজ লভ্যতার কারণে বর্তমানে গ্রামে ও বিস্তার লাভ করেছে ।
***বাংলাদেশে মাদকাসক্তির পরিসংখ্যান - Golden Life BD । ***দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা ৮২ লাখ
#The FE - UNCTAD estimates annual trafficking of $481m in drug money from Bangladesh