তুমি তো জানতে,
আমার বুকের ভেতর একটা রুক্ষ তেপান্তর ছিল।
তুমি এলে শ্রাবণের চিঠি হয়ে,
এক টুকরো ভবঘুরে মেঘ।

হাওয়ায় ভাসলে, ছায়া দিলে, ছুঁয়েও গেলে...
অথচ একবারও আমার তৃষ্ণার কাছে নত হলে না।

কথা ছিল, কোনো এক কালবৈশাখীর রাতে
তুমি গল্প হয়ে ঝরবে আমার জানালায়।
আমি অন্ধকারে বসে শুনব
তোমার জলনূপুর।
কথা ছিল, আমার বুকের ফাটল-ধরা জমিনে
তুমি এঁকে দেবে বৃষ্টির আলপনা।

এরপর কত শহরজুড়ে কেবল রোদ পুড়ল।
আমার চশমার কাঁচে জমল অপেক্ষার শ্যাওলা।
তুমি অন্য আকাশে ভেসে গেলে,
এখানে একফোঁটাও নামল না।

তুমি তো এমনই।
বাবার পুরোনো ডায়েরির ভাঁজে শুকনো সেই ফুলটার মতো,
রেণু আছে, রক্ত নেই।
স্মৃতি আছে, সুবাস নেই।

তুমি মেঘ নও।
তুমি এক ছন্নছাড়া তৃষ্ণা,
আকাশ থেকে আকাশে ভাসো, ছায়া ফেলো,
অথচ নিজের জন্য এক চিলতে শীতল উঠোন
কখনো পাও না।

আমি শেকড় হয়ে তোমাকে ছুঁতে চেয়েছিলাম।
তুমি হেসে বলেছিলে,
“পাগল, মেঘকে কি শেকড় দিয়ে বাঁধা যায়?”

আমি বলেছিলাম,
“মেঘকে নয়।
আমি কেবল আমার হাহাকারকে ছুঁতে চেয়েছি।”

তবু শোনো।
যেদিন এই উড়ালে তোমার ক্লান্তি আসবে,
যেদিন শহরের ভিড়েও একা লাগবে,
যেদিন বুকের জলের ভারে
তোমার নিজেরই দম বন্ধ হয়ে আসবে,
সেদিন কোনো ঠিকানা লাগবে না।
নেমে এসো আমার এই তৃষ্ণার্ত উঠোনে।
আমি আড়াল ছাড়াই দাঁড়িয়ে থাকব।

তুমি ঝরে পড়ো।
আমার বুকের শেষ ধুলো দিয়ে
আমি শুষে নেব তোমার সবটুকু বিষাদ।

তুমি বৃষ্টি হয়ে ফুরিয়ে যেও।
আমি মাটি হয়ে
তোমাকে বুকে নিয়ে থাকব,
বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও...
গভীরে, খুব গভীরে কেবল ভিজতে থাকব।