ধুলোপড়া বই কিংবা পণ্ডিতের বেত,
কোথাও লেখা নেই জীবনের ব্যাকরণ।
অক্ষর চেনার আগেই
আমরা কণ্ঠে তুলে নিই কান্নার স্বরলিপি;
যেন জীবনের প্রথম বর্ণমালাটিই
রক্তে লেখা ছিল।
এতগুলো বর্ষা পেরিয়েও জানা হলো না,
একবুক শূন্যতার সঙ্গে কতটুকু অভিমান মেশালে
বুকের ভেতর জন্ম নেয় আস্ত এক শ্রাবণ।
জীবন তো কেবল অসমাপ্ত কবিতার কাটাকুটি পাণ্ডুলিপি নয়;
বরং মাঝরাতে ঘুম-ভাঙা বাবার চোখে জমে থাকা ক্লান্তি,
মায়ের আঁচলে লেপ্টে থাকা কর্পূর আর ঘামের ঘ্রাণ,
কিংবা বুকপকেটে সযতনে লুকানো সেই অব্যক্ত নীল খাম,
যার ঠিকানা কোনোদিন লেখা হয়নি।
ভেবেছিলাম,
আমার ‘আমি’ আর তোমার ‘তুমি’কে এক মায়াবী সুতোয় বেঁধে রাখব।
অথচ তুমি হাত ছাড়তেই
ভেঙে গেল হৃদয়ের সব নিয়মকানুন।
আমরা চেয়েছিলাম রূপকথার মতো এক চিলতে বিকেল,
আর মুঠো খুলতেই দেখি,
একরাশ পোড়া ছাই আর কালবৈশাখীর মেঘ।
তবু তো মানুষ বাঁচে।
ভাঙা হাতেই মাটিতে পুঁতে রাখে স্বপ্নের বীজ,
কারণ অন্ধকারের বুকেও কোথাও না কোথাও
জেগে থাকে এক অনাগত সকাল।
জীবনের ব্যাকরণে কোনো পূর্ণচ্ছেদ নেই,
আছে দীর্ঘ এক কমা, আর অবিরাম পথ হাঁটার তৃষ্ণা।
দাগহীন নিখুঁত জীবন,
অভিধানের বুকে ঘুমিয়ে থাকা মৃত শব্দের মতো;
যার অর্থ আছে, কিন্তু কোনো স্পন্দন নেই।
তাই আমার ভুলগুলো বেঁচে থাকুক,
বেঁচে থাকুক এই অনন্ত রক্তক্ষরণ।
অসমাপ্ত জীবনের কাছে
এই তো আমার সবচেয়ে সত্য উচ্চারণ।
জীবনের ব্যাকরণ ফুরোয় না কখনো,
শুধু প্রতিটি হারানোর পর
তা আরও নিবিড় হয়ে বাজে।

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।