শহরের সবচেয়ে পুরোনো ল্যাম্পপোস্টের নিচে,
যেখানে রোজ রাতে অন্ধ কুকুরের সঙ্গে
আমার দীর্ঘশ্বাস মিশে একাকার হয়,
সেখানে আজ জমাট মেঘের নিচে দাঁড়িয়েছি।
তেত্রিশ বছরের আক্ষেপ নয়, হাজার বছরের ক্লান্তিও নয়;
শুধু ধুলোমাখা পায়ে, ঘামে-ভেজা রুমাল হাতে,
এক মুঠো চুরি-করা রোদ্দুর নিয়ে এসেছি।
তোমার চিবুকে জমে থাকা অভিমানের বরফ
আমার রুক্ষ আঙুলে গলে যাক।
তোমার শাড়ির ভাঁজে লুকানো বিকেলের শেষ আলো
ফিরে আসুক আমার বুকের গহীন সুড়ঙ্গে।
তোমার ভাঙা চুড়ির টুকরোয় লেগে থাকা দীর্ঘশ্বাস
আমি নিজের শিরায় বুনে নেব।
আমি জানি, মানুষের বুকে কত গোপন সুড়ঙ্গ থাকে;
যেখানে না-বলা কথায় ধুলো জমে, আদরে মরচে পড়ে।
আমার তপ্ত হাতে সেই মরচে-ধরা কপাট খুলে দাও।
আমি দেবদূত নই।
নিকোটিন-দাগা আঙুল, নির্ঘুম চোখ;
নেহাতই রক্তমাংসের এক মানুষ।
তবু এই হাত ছুঁয়ে দেখো,
কেমন গলে যাচ্ছে পৃথিবীর যাবতীয় বরফ।
আজ কোনো রূপকথা নয়।
শিরা কেটে, রক্তের অক্ষরে লিখে দেব
প্রথম বৃষ্টির কাঁচা, মাটি-ভেজা গন্ধ।
যেখানে তোমার চোখের পাতা কাঁপে,
সেখানে আমার সমস্ত অহংকার নতজানু হয়।
যেখানে তোমার এক ফোঁটা জল ঝরে,
সেখানে আমার সব যুদ্ধ থেমে যায়।
অন্ধকার বলে আসলে কিছু নেই;
ওটা শুধু আলো জ্বলে ওঠার আগের
এক মুহূর্তের তীব্র শ্বাসরোধ।
এসো।
আমার আটপৌরে জীবনের ভাঁজে
তোমার ক্ষত-ভরা হাত দুটো রাখো।
আমি প্রায় প্রার্থনার মতো করে,
খুব সাবধানে তোমার ডানার পুরোনো ক্ষত মুছে দিচ্ছি।
কাল সকালে চোখ মেললেই দেখবে,
তোমার জানালার কাচে লেপ্টে আছে
পৃথিবীর সবচেয়ে নরম, উজ্জ্বল ভোর।
আর কেউ অন্ধকারে একা কাঁদবে না।
কারণ মানুষের কাছে মানুষের ফিরে আসাটাই
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তিমির হরণ।

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।