কী এক অন্ধ উন্মাদনায় আজ ভেঙে পড়ছে চেনা শহরের প্রতিটি ইট!

প্রেম, তুমি নিছক হাওয়া নও।

তুমি ধমনীতে ছুটে চলা ক্ষুরধার ঘোড়ার খুর,
তুমি পাঁজরের ফাঁকে ফাঁকে বেজে ওঠা ভাঙা সেতারের তার,
যার প্রতিটি ঝংকারে রক্ত ঝরে, প্রাণ কাঁপে।

যে বাগান সাজিয়েছিলাম শান্ত ছায়ার স্বপ্নে,
তুমি এলে প্রলয়ের কালবৈশাখী হয়ে।
এক ঝটকায় উপড়ে ফেললে সেই প্রাচীন বটগাছ,
যার শিকড় গেঁথে ছিল শৈশবের মাটি থেকে আজকের সমস্ত অহংকার পর্যন্ত।

কথা ছিল, এ জন্মে আমি নীরব উপত্যকা হয়ে থাকব।
তুমি আসবে মেঘ হয়ে, আলতো করে ভিজিয়ে দেবে।
কিন্তু তুমি এলে উন্মত্ত জলোচ্ছ্বাস হয়ে।
খরায় ফেটে যাওয়া চৌচির বুকে আছড়ে পড়ে
আমার ভেতরের সব গোপন ফাটল ভরিয়ে, ভাসিয়ে দিলে।

কোনো চুক্তি ছিল না। কেউ কাউকে কথা দেয়নি।
তবু কেন প্রতি রাতে আমার শরীর থেকে তোমার নাম ঝরে?
কেন তোমার স্পর্শ না পেয়েও সর্বাঙ্গ জ্বলে ওঠে?
কেন তোমার অনুপস্থিতিতে ফুসফুসের বাতাস ভারী হয়ে আসে?

তুমি ছুঁওনি। কাছে আসোনি।
শুধু তোমার নামের এক ফোঁটা ছায়া
প্রতিদিন আমার ভেতরে ভেঙে দেয় এক পুরো মহাদেশ।

আমি দাঁড়িয়ে আছি একা, বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে,
যেন এই ঝড় আমার শেষ আশ্রয়টুকুও ছিনিয়ে নেবে।

তুমি মিশে আছো প্রতিটি শ্বাসের গভীর তলানিতে,
নির্ঘুম রাতের নোনা কান্নার প্রতিটি ভাঁজে।
চোখ বুজলেই যে অন্ধকার নামে, সেখানেও শুধু তুমি।

যতবার ডুবতে চাই, ততবার তুমি আমাকে
টেনে নাও আরও গভীরে, আরও অন্ধকারে।
যেখানে কোনো আলো নেই, শুধু তোমার উষ্ণতার জ্বালা।

প্রেম, তুমি ধ্বংস করো বলেই আমাকে গড়ে তোলো।
তুমি পুড়িয়ে দাও বলেই আমি খাঁটি হয়ে উঠি।

বহু বছর পর, রোদে শুকিয়ে যাওয়া পাতার মতো
যেদিন উড়ে যাবে আমাদের সব পদচিহ্ন,
সেদিনও কোনো বিষণ্ণ বিকেলে,
কোনো অচেনা শহরের কোনো অজানা মানুষের বুকের বাঁ-পাশে
হঠাৎ এক তীব্র মোচড় উঠবে।

সে জানবে না আমার নাম। জানবে না তোমার নাম।
তবু সেই মুহূর্তে তার শিরায় শিরায়
বয়ে যাবে ঠিক একই দুরন্ত ঝড়।

অমোঘ, অমর, অবিনাশী।

চিরকাল জ্বলতে থাকা এক অনন্ত প্রেম।