www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

অবেলা ৬

উৎকন্ঠায় গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল সুরভীর, ততক্ষণে ওপার থেকে অনিন্দ্য'র আশ্বস্ত বাণী পেয়ে কপালের ভাজে ভাজে জমে থাকা ঘাম শাড়ির আঁচলে মুছতে মুছতেই মৃদুলের রিক্সা এসে থামল বাড়ীর সামনে । দুজনের মুখেই হাসি ; একজন প্রত্যাশার প্রান্তিক সীমান্তে আরেকজন প্রত্যাশিতের অবসানে । সুরভী এগিয়ে এসে মৃদুলের হাত থেকে চাবিটা নিতে নিতে ওপাশের কোন প্রত্যুত্তরের আশা অপেক্ষা কিছু না করে একটানা বলতে লাগল, "এবারে এক কাপ চা না খেয়ে আর যেতে দিচ্ছি না, বাব্বাহ্, যা চিন্তায় পরে গেছিলুম, আজকে আপনি যদি না থাকতেন কি যে হত "। বলতে বলতে বাড়ান্দার কলাপসেবল খোলে ঘরের ভিতরে গিয়ে আলোটা জ্বেলেই ডাক দিল, "আরে কি হল মৃদুলদা ! ঘরে আসুন" । মৃদুল কিছু না বলে সেই হাসির রেশটা মুখে টেনে রেখেই ঘরে ঢোকে সোফায় বসলেন, এদিক ওদিক তাখিয়ে দেখছেন, কি সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো গোছানো এদের ঘর, এক একটা আসবাব, জিনিষপত্র, দেয়ালে টাঙানো চিত্রপট সবাই যেন চক চক করে হাসছে , প্রত্যেকটা জিনিষের মধ্যে একটা শিল্প আছে , ঘরটা এতক্ষন বন্ধ ছিল তার পরেও কি সুন্দর একটা গন্ধ বইছে, মুগ্ধতায় চোখ ছল ছল করছিল মৃদুলের । এই সময়ের মধ্যে সুরভী বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে ঊনুনে চা চাপিয়ে দিয়েছে । ঘরের এই নির্মাণশৈলীটাও মৃদুলের বেশ পছন্দ হয়েছে, ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে কম হলেও কিচেন দেখা যায় । মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে মৃদুল যখন আনমনে দেয়ালে টাঙানো সুরভী মৃদুলের দীঘা সমুদ্র সৈকতের ছবিটা আরো কাছে থেকে দেখার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ততক্ষণে সুরভী দুজনের জন্য দু কাপ চা, এক প্লেট পাঁপড় ভাজা নিয়ে হাজির তার সামনে । মৃদুল যেন আবার আকাশ থেকে পরল, এই কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত যার সঙ্গে ছিলেন তাকেই এখন চেনা দায় ! কি ফ্রেশ লাগছে সুরভীকে, লাবণ্য যেন উপচে পড়ছে তার গা বেয়ে, আলতু করে বেঁধে রাখা চুলের কারুকাজ, কোন ক্রিম মাখানো ছাড়াই মুখের ফেস ওয়াশের গন্ধ সব মিলিয়ে যেন এক অন্য জগত ।
ক্রমশ............।
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৬২৪ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৬/০৩/২০১৫

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast