১৯৭৩ সাল সেই ভরদুপুর থেকে অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত, কখন সন্ধ্যার পর আমার ধান সেদ্ধ করা, গোবরনাদি দেওয়া, পুকুরের গিয়ে বাঁশের ঝুড়ির উপর আছড়ে আছড়ে কাপড় কাচা, ঢেঁকিতে পাড় দেওয়া দিদি দিল্লি থেকে এক মাসের ট্রেনিং নিয়ে কালনা ফেরত আসবে"এয়ার হস্টেস" হয়ে।
অপেক্ষায় ক্লান্ত হয়ে, সবে খান্ত দিয়ে চোখ বুজে এসেছে, তখন প্রায় সন্ধ্যা ৭:৩০, আমাদের হেরিকেন জ্বলা বাড়ীতে আমার তখন মাঝরাত প্রায়। দিদি এসে নামলো রিকশা থেকে।
এটা আমার দিদি! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছে। আমার দিদির গায়ের গন্ধতো এরকম নয় - দামী শাড়ী কেমন অন্যরকম করে পরা, মাথায় বিস্তর বড় একটা নানা কায়দায় নানা নক্সাকরা (যেটা খুলেরাখা যায় )খোঁপা, হাতে ভ্যানিটি ব্যাগ। দমবন্ধ করে অপেক্ষায়- বড় সুটকেস থেকে কি বের হয়।
সব অবাককরা জিনিস, টিনের কৌটায় ব্রুকবন্ডের কফি, চীজ স্যান্ডুইচ, গোয়ালিনী কনডেন্স মিল্ক (Milk maid, Nestle)! ওহ্ কি দারুণ খেতে! কফি- এ বাবা কেমন পোড়া পোড়া গন্ধ । চিজ কি অখাদ্য, চিজ ফেলেদিযে শুধু পাউরুটি নিদারুণ।
পরের দিন সকালে মা চেষ্টাকরেছিল চিজ গলিয়ে যদি "ঘি"করা যায়।
সকালে উঠে দেখি আমার গোবরনাদী দেওয়া, আটপৌড়ে শাড়িপরা সেই দিদি। ঠিক আগের মত, আমার থেকে প্রায় ১৬/১৭ বছরের বড় প্রায় মায়ের মতো।
বাবা মারা যাওয়ার পর দিদির নিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু, পাত্র পক্ষ দেখতে আসছে, আমি আর ছোড়দি কাকিমার বাড়ি থেকে ধারে নিয়ে আসছি বালিশ, চাদর, বালিশের ওয়ার ধবধবে সাদা, মার্দিয়ে ইস্ত্রি করা, কাকিমা বড়লোকদের মেয়ে সৌখিন, ওরা ফুলঝাড়ু ব্যবহার করে আমার খেজুরের বারুন।কাকিমা সুন্দর আসন বানায়, এমব্রয়ডারি করা ব্লাউজ, বাড়িতে প্রচুর গোলাপ গাছ আর অনেকটা হাতে ছাটা ঘাসের লন।
দিদি সবার বড় তখন সবে এম.এ করছে, . আমি আট নম্বর তখন আট।পাড়ার এক দাদা (পারিবারিক বন্ধু) দিদির জন্য কাগজ দেখে এয়ারহস্টেস এর জন্য এপ্লিকেশন করে দিয়েছিল, সেখান থেকেই চাকরি । তখন ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স, প্লেনের টেকঅফ থেকেই আমাদের পরিবারেও নূতন 'উড়ান”॥
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।