“আমার তরী ছিল চেনার কূলে, বাঁধন যে তার গেল খুলে তারে হাওয়ায় হাওয়ায় নিয়ে গেল কোন অচেনার ধারে , ও চাঁদ….”
আমার ভীষণ জ্বর! চোখের কোণে তীব্র যন্ত্রণা,
শরীর থেকে ফেটে বেরোতে চাইছে আগ্নেয়গিরির মত উত্তাপ,
আমি আমার গোঁসা ঘরে একা আমার বিছানায়,
ধুম জ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে আমার হুঁশ, মুহূর্তেই আবার ফিরে আসছে।
সহসা সেই মিষ্টি ‘বাস-তেলের’ সুগন্ধ! মাথায় কপালে শীতল জলের পটি,
আধো নয়নে দেখি, মা আমার শুষ্ক চুলে হাত বোলাচ্ছে,
হুহু করে নেমে যাচ্ছে আমার জ্বর। সব ব্যথা দখলমুক্ত করছে শরীর।
তখন প্রায় সন্ধ্যা, আবার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে!
চেতন হারিয়ে ফেলছি…বাবা ফিরে এলো কাজ থেকে,
হাতে ১৭ পয়সায় পেছন পোড়া কোয়ার্টার পাউরুটি,
ছোটো ভাঁড়ে চার আনা দামের দুটো রসগোল্লা আর মিষ্টি বড়ি।
বাবা জানে আমার জ্বরের অব্যর্থ ওষুধ।
(সবাই জানে এবার লাবণ্য আসবে! ঠিক তাই)
ভোর রাতে আবার ধুম জ্বর, ১০২-৩-৪ কি জানি কত?
প্যারাসিটামলের প্রভাব কমছে, বাড়ছে জ্বরের প্রকোপ।
মাথার ভিতর ঝিমঝিম। হঠাৎই ছাদের দরজা দিয়ে তুমি এলে!
আমার শুষ্ক ঠোঁট ভিজে গেল, বুকের উপর উষ্ণ নিশ্বাস,
সেই উষ্ণতায় মিশে, মাথার দপদপানি মিলিয়ে যাচ্ছে,
সব ব্যথা গলে গলে পড়ছে, নরম মোমের মতো।
অঝোর ঘামে ভিজে যাচ্ছে আমার বালিশ, বিছানা!
আস্তে আস্তে চোখ খুলি, জানালা দিয়ে দেখি!
নীলমণির ডালে আটকে আছে একটা ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ।
©️ কৃতজ্ঞতা: রক্তকরবী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / অনির্বাণ ভট্টাচার্য ©️
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।