www.tarunyo.com

বর্তমান সমাজ

বর্তমান সমাজ

আজকে তুমি উত্তেজিত হয়ে বা আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের মনকে প্রাধান্য দিচ্ছো আর বিবেক নিজ হতে ১০ মাইল দূরে রাখছো, মনে রেখো তোমার আজকের এই বোকামিটাই একদিন তোমার বিবেককে বিবেকহীন করে তুলবে। নিজের বিবেক তখন আর কোনো কাজেই আসবে না। বর্তমান সমাজটা নকলে পুরোপুরি ঢেকেই গেছে, এই নকলত্বে আসলের স্বাদ তোমার গ্রহণ করা অসম্ভবই বটে। তাই নিজের সঠিক সময়েই আলোর সন্ধান আর আসলের সন্ধানের খোঁজ করাটা স্বভাবতই জ্ঞানীর কাজ। একটা কথা অবশ্যই চিন্তা করা উচিত, আজকে আমরা যা কাল তা থাকবো না এটাই বাস্তবতা, মানুষের অবস্থান স্বভাবতই পরিবর্তনশীল। হোক সেটা কর্মে হোক সেটা ভাগ্যে। তবে ভাগ্যটা না থাকিলে কর্মে আর পরিশ্রমে কোনোই ফল আসবে না। কেননা মহান আল্লাহ আমাদের ভাগ্যের লিখক। আর নিজের চলাফেরা, আচার-আচরণ, চরিত্রে উনার ধর্মের কোনো মিল না থাকলে তোমার পরিশ্রম কখনোই কোনো কাজে আসবে না। তবে হ্যাঁ, ক্ষণস্থায়ী সময়ের জন্য নিজেকে খুবই সুখী মনে করবে৷ আবার নিজেকে কখনোই স্থির রাখতে পারবে না। তবে চূড়ান্ত আর চির সময়ে তোমার মরণ ফাঁদ আর মরণ যন্ত্রণা তোমার জন্য অপেক্ষা করবে। কেননা তুমি তোমার পাপের শাস্তির তিন ভাগের এক ভাগ দুনিয়াতে পাবে আর বাকি দুই ভাগ পরকালে পাবে।
আর যারা মহান স্রষ্টার উপর বিশ্বাস রাখে এবং উনার দেখানো পথে চলে, ক্ষণস্থায়ী সময়ের জন্য তাদের মনে হবে তারা বেদনার্ত। তবে চির সুখের স্বাদটা তারাই গ্রহণ করবে। আর তাদের মানসিক অবস্থাও সবসময় স্থির থাকবে। কখনোই কারোর দ্বারা অসম্মানিত হবে না।
হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মেরাজ থেকে ফিরে এসেছিলেন তখন উনাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় জাহান্নামে কাদের সংখ্যা বেশি? জবাবে তিনি বলেছিলেন, জাহান্নামে সবচেয়ে বেশি বেপর্দাশীল নারীর সংখ্যা এবং এদের জন্য রয়েছে সবচেয়ে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা।
আরেকদল পুরুষ আছে সুদখোর। পবিত্র কোরআনে বলা আছে, সুদ খাওয়া আর নিজ মায়ের সাথে জিনাহ করা সমতুল্য।

এই দৃষ্টিকোন থেকে আমাদের বর্তমান সমাজের প্রায় ৯৫% নারীই জাহান্নামী। আবার আরেকদল আছে বলে যে, মনের পর্দা সবচেয়ে বড় পর্দা; তবে যার মনের পর্দা আছে তার বাহিরেও পর্দা আছে। আর যার মনে পর্দা নাই তার বাহিরেও পর্দা নাই। আজকাল আবার কিছু নারীর ইজ্জতের মূল্যও হয়ে গেছে কিছু অর্থের সমতুল্য। আর সুদ? ভাই, প্রতিটি ব্যাংকে একটা ফিক্সড ডিপোজিট নামে একটা খাত আছে, যেখানে টাকা রাখলে দ্বিগুনটাকা সুদ দেয়। আবার ব্যাংকে ডিপিএস নামেও একটা খাত আছে যেখানেও একই কারবার। আবার টাকা জমা দিলেও আপনাকে দেয়া লভ্যাংশ। এই লভ্যাংশই সুদ। একটাবার ভেবে দেখেছেন এই লভ্যাংশ আসে কোথা হতে? ব্যাংক হলো একটা সুদের কারখানা। আর যা গ্রহণ করে আমাদের সমাজের মানুষরা নিজের মায়ের সাথে জিনাহ করার মতো পাপ করছে। অর্থ-সম্পত্তির আর প্রতিপত্তির নেশায় আজকে অন্ধ হয়ে যে পাপগুলো করছেন সেগুলো কি একবার ভেবে দেখছেন? এই অর্থ-সম্পত্তি নিজের সন্তানের জন্য করছেন? আপনার সন্তান ঠিক আছে তো? সে কি আদর্শ হচ্ছে? নাকি অসভ্যই রয়ে যাচ্ছে? একবার চিন্তা করে দেখুন তো। আজকের অধিকাংশ পিতা-মাতারই বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই মিলছে, কেনো জানেন? আপনার এই পাপই আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে। আপনার এই সুদের টাকা দিয়ে কখনোই আপনার এবং আপনার সন্তানের মঙ্গল হতে পারে না। যা হবে তা আপনার এবং আপনার সন্তানের অমঙ্গলই বটে। সমাজের কাছে নিজেকে বড় করছেন? কি লাভ ভাই নিজের সন্তান যদি ঠিক না থাকে? আদর্শ না হয়। নিজেও ভেবে দেখুন আপনি নিজে কতটা আদর্শ? আজকাল তো জিন্স আর টপস, পালাজো, চুইস পায়জামা পড়ে বাহিরে আসা নারীর অভাব নেই। আবার শাড়ী পড়ে নিজের বুক সমান, উপরে নাই কাপড়। নিজের রূপ আর সজ্জা মানুষকে দেখাচ্ছেন? ভাই লাভ কি এতে? নিজে তো পাপ কামাচ্ছেন। আরে মানুষটি আপনাকে নয় দাম দিচ্ছে আপনার রূপ আর সজ্জাকে। নিজের দাম নিজেই কমাচ্ছেন। যদি আপনি পর্দাশীলভাবে বের হোন, তবে আপনাকে কেউ খারাপ বলবে না বরং ভালো বলবে এবং এক্ষেত্রে আপনি আপনার নিজের রূপের নয় আপনার নিজের দাম পাবেন, সাথে জাহান্নামের আজাব থেকেও বেঁচে যাবেন। তবে বেপর্দাশীলভাবে বের হলে আপনাকে ভালো তো কেউ বলবেই না বরং খারাপই বলবে। আর যদি কেউ ভালো বলেই থাকে তবে বুঝুন সে আপনাকে নয় সে আপনার রূপ আর সজ্জাকে দাম দিয়েছে। সেও আপনার জাত ভাই। লজ্জাহীন আর ইজ্জতহীন নারী বা যে নারীর ইজ্জতে একবার কলঙ্ক লেগে যায় সে নারী একটা পঁচা কাঠালের সমতুল্য; আমার কথা নয়, আমার চেয়ে বিজ্ঞরাই বলে গিয়েছেন এটি। আবার আজকাল তো দেখি পর্দাকে অনেকেই বলে ক্ষেত। ভাই আপনি যে পর্দাকে ক্ষেত বলছেন, তাহলে কি আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলাম ক্ষেত? এর নিয়মগুলো ক্ষেত? আবার দেখি অনেকেই বলে রাস্তার ছেলেগুলোর চোখ খারাপ, আপনি যে একটা ছেলেকে খারাপ বলছেন আপনার রুচি ঠিক আছে তো? আপনি কুরুচিসম্পন্ন বেপর্দাভাবে বের হয়ে বলছেন বাহিরের ছেলেটির চোখ খারাপ তা আপনি কোন দৃষ্টিকোন থেকে বলছেন? একবার ইসলামে যেভাবে পর্দার কথা বলা আছে সেভাবে পর্দা করে বের হয়ে দেখুন কয়জন আপনাকে খারাপ বলে বা কয়টা ছেলে আপনার দিকে খারাপ নজরে তাকায়। আবার নিজে নিজে পর্দার বিধানের আবিষ্কার করে নয়, ইসলামিক পর্দার বিধান অনুযায়ী বের হয়ে দেখবেন। আজকের বাবা-মা যদি সন্তানকে সঠিক ইসলামিক পর্দা শিখায় তবে কখনোই তার সন্তান বেপর্দাশীলভাবে চলাফেরা করতে পারে না। রাস্তা দিয়ে যখন আপনার সন্তান একটা পর্দাশীলভাবে হেটে যাবে তখন কিন্তু রাস্তার মুরুব্বিয়ানরা বলবে মেয়েটি অনেক ভালো তার বাবা মা ভালো শিক্ষা দিয়েছে। তাছাড়া ভালো না বললেও খারাপ কেউ বলবে না। কিন্তু কেউ কখনোও খারাপ বলবে না। আর যদি আপনার সন্তান কুরুচিপূর্ণ আর বেপর্দাশীলভাবে রাস্তা দিয়ে হেটে যায় তখন কিন্তু তাকে মুরুব্বিয়ানরা এটা বলে যে মেয়ের বাবা-মা থেকেই এই শিক্ষা পেয়েছে, এই মেয়ের বাবা-মা ই গিয়ে দেখো ভালো না? তবে কি আপনি আপনার আদরের সন্তানের জন্য এইভাবে গালি শুনছেন? আপনার আদরের সন্তানকে মানুষ খারাপ বলছে এতে কি আপনি গর্বিত? তবে আপনি কিসের সন্তানের ভালো চাইলেন? সন্তানকে মানুষের সামনে খারাপরূপে তুলে ধরছেন। আপনি কিভাবে আদর্শ পিতা-মাতা হতে পারলেন?
আবার আমি মেয়েদের বেপর্দার বিরোধীতা করায় অনেকের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে ব্যাকডেটেড, তুমি স্টাইলিশ না, তুমি আদিম যুগেই পড়ে আছো, তুমি ডিজিটাল না ইত্যাদি ইত্যাদি। নিজের লজ্জাকে বিক্রি করে তুমি ডিজিটাল হতে চাচ্ছো ভাই? আরে ভাই তুমি যে আমাকে তোমার বেপর্দার বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাকে আদিম যুগের বলছো, ব্যাকডেটেড বলছো তাহলে কি তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের ও পূর্বনারীদেরও এইটা বললা? তাহলে কি তোমাদের দৃষ্টিতে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সঠিক নন? উনার বিবিগনরা সঠিক নন? উনার সাহাবিয়ানরা সঠিক নন? হযরত ফাতেমা (রাঃ) সঠিক নন? একটা কথা মনে রেখো প্রকৃত অর্থে সঠিক কিন্তু উনারাই। তোমাদের এই ডিজিটাল উনাদের পায়ের ধুলোর সমানও হতে পারবে না। তোমরা যে আজকে ফিটিং জামা পড়ছো এতে লাভ কি পোশাক পড়ে? পোশাক না পড়লেই তো পারো কেননা পোশাক পড়া ই তো হয় যাতে শরীরের আকার-আকৃতি শরীরে গঠন বুঝা না যায়। আবার বিভিন্ন পার্কে বেরিয়েছে ওয়াটার কিংডম; হাজারো পাবলিকের সামনে নিজের শরীরের গঠন আর আকার আকৃতি দেখাচ্ছো। ঐ সময় তো তোমার পোশাকের কোনো মূল্যই নেই, তখন তো সেটা নেটে পরিণত হয়। পোশাক পড়ছো কেনো তাহলে যদি নিজের শরীরের আকার আকৃতি আর নিজের শরীরের গঠন অন্যকে দেখানোর ই ইচ্ছা থাকে? একটু ভেবে দেখা উচিত আমাদের সমাজের প্রতিটি পিতা-মাতা ও মেয়েদের যে আমরা প্রকৃতঅর্থে কি করছি এসব? যদি আপনার বিবেকবোধ থেকে থাকে তবে একবার নিজের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, নিজে আবেগ তাড়িত হয়ে আর উত্তেজনার বসে এবং বিশ্রী সমাজের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে কি করছেন এসব? নিজের গুরুত্ব আর নিজের মূল্য নিজেই কমাচ্ছেন। নিজের গুরুত্ব দিতে শিখুন আর নিজের বিবেক দ্বারা উন্নত চিন্তাভাবনার সৃষ্টি করুন। নিজের মানসিকতা উন্নত করুন আর নিজেকে আদর্শরূপে এগিয়ে নিয়ে যান বহুদূর।

লেখকঃ-
জাবির আল মাহমুদ
বিষয়শ্রেণী: প্রবন্ধ
ব্লগটি ৭ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৪/০৪/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

 
Quantcast