জীবন গল্প বলতে তোমরা কী বুঝ তা আমি জানি না, তবে আমি আমার জীবন গল্প থেকে একটা সময়ের কখা বলি | ভালো কথা তোমাদের তো আমার নামই বলা হয়নি | আমার নাম ইসমাইল খান | আমি এখন শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজ এর মানবিক বিভাগের অধ্যয়নরত একজন শিক্ষার্থী এবং আমার শেষন ২০২৪ - ২০২৫ | এখন তাহলে আসো আমরা মূল গল্পে চলে যাই | তখন সময় টা ২০১৯ সাল আমি ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি এবং আমি আমার স্কুল ক্যাম্পাস এ আবাসিক থেকে পড়াশোনা করতাম | আমার বেশ কিছু বন্ধু ছিল সেখানে যাদের সাথে আমি থাকতাম আবার মাঝে মাঝে নিজের মনের কথা শেয়ার করতা | কিছু বন্ধুদের নাম বিশেষ করে - রাকিব,জাফরান,মোবারক,ওসামা,শিহাব,জোবায়ের,মাহিম,তোফায়েল,নাজমুল,রিফাত,নয়ন ও জুয়েল | এখানে নাজমুল,জুয়েল,রিফাত,নয়ন ও ইমরান পাশের রুমে থাকত এবং বাকি অন্য বন্ধুরা আমরা এক রুমে থাকতাম | আমারা বিকেল বেলা স্কুল মাঠে কেউ খেলা করতাম আবার কেউ ফরহাদ স্যার এর রুমে গিয়ে বসে টিভি দেখতাম | আসো তোমাদের ফরহাদ স্যার এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেই | ফরহাদ স্যার হলো আমাদের ভবনের সবচেয়ে কঠোর স্যার যাকে দেখে আমাদের ভবন এর সকল ছাএরা ভয়ে কাপত আবার তাকে সব স্যার এর থেকে একটু বেশিই ভালোবাসতো | আসো আমাদের রুটিন সম্পর্কে বলি - আমাদের সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে ক্লাস এ যেতে হতো কারন আমাদের সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত মর্ণিং শিপ্ট হতো | মর্ণিং শিপ্ট শেষে আমরা ডাইনিং রুমে গিয়ে সকলের খাবার খাওয়া শেষ করে রুমে গিয়ে স্কুল ড্রেস পড়ে রেডি হয়ে ৯টা সময় ক্লাসে চলে যেতাম | আমাদের ক্লাসের কিছু শিক্ষক যেমন সকাওয়াত স্যার, মনির স্যার ও ইমদাত স্যার যারা সবসময় থেকে যাবে এ রিদয়ের আঙ্গিনায় | আমাদের ক্লাস দুপুরে টিফিন ব্রেক দিত | প্রতিদিন এর মতো লাইনে দাঁড়িয়ে টিফিন নিতে হতো এবং টিফিনে আমাদের বিস্কুট বা সিঙ্গারা দেওয়া হতো | টিফিন নিয়ে খাওয়া শেষে করে আমরা আমাদের স্কুলের আবাসিক ভবনের ৪র্থ তলায় গিয়ে যোহরের সালাত আদায় করতাম | আমাদের টিফিন ব্রেক এর সময শেষ হয়ে গেলে আমরা আবার ক্লাস এ চলে যেতাম | আমাদে ক্লাস শেষ হতে হতে বিকেল হয়ে যেত | ক্লাস ছুটির পর আমরা আমাদের রুমে গিয়ে পোশাক চেঞ্জ করে হাত মুখ ধুয়ে ডাইনিং রুমে গিয়ে খাবার খাওয়া শেষ করে রুমে চলে আসতাম এবং সকলে গোসল করে ফ্রেস হয়ে নিতাম | যদিও আমাদের ৩য় তলায় ১০ টি ওয়াশ রুম ছিল তবুও ছিরিয়াল লেগে যেত | তখন এর সমাধান এর জন্য আমরা অবশ্য ২ কি ৩ জন বন্ধু মিলে একশাথে গোসল দিতাম | তখন আমাদের বন্ধুত্ত গুলো ছিল সেরা মানের জুটি | যদিও আমাদের মাঝে মাঝে ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি হতো আবার একটা সময় মিল হয়ে যেতাম | গোসল শেষে কেউ মাঠে খেলাধুলা করত আবার কেউ ফরহাদ স্যার এর রুমে টিভি দেখতে বসত | কেউ কেউ আবার একএে বসে গল্প করতাম | আবার অনেকে হলের ভিতর দাবা, লুডু ও কেরাম বোর্ড খেলা নিয়ে ব্যাস্ত থাকত | এই কার্যক্রম সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত সন্ধ্যা বেলা মাগরিব এর আজান দিলে নামজ পড়ে আমরা ক্লাস এ চলে যেতাম ৮টা সময ক্লাস শেষ করে ডাইনিং রুমে গিয়ে খাবার খেয়ে রুমে চলে আসতাম তারপর টিভি দেখতাম বা অন্য কিছু করতাম | তারপর আবার রাত ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ক্লাস করে রুমে এসে ফ্রেস হয়ে অনেকে ঘুমিয়ে পড়ত আবার অনেকে বাটন ফোন এ ইয়ারফোন লাগিয়ে রেডিও শুনতাম | তখন ভূত এফএম ছিল আমাদের প্রিয় রেডিও শো | আমি প্রসাসনিক ভবনের ৩য় তলায় ৩০৬ নম্বর রুমে থামতাম | আমার রুমের সামনেই ছিল রহিম স্যার এর রুম সেখানে ইউনূস নামে এক ছেলে থাকত সে আমার জুনিয়র ও ছোট ভাই এর মতন তার পাশের রুমে ছোটভাই মারুফ এবং তার পাশের রুমে মানে ফরহাদ স্যার এ র রুমে থাকত আরো একটি ছেলে আমার ছোট ভাই এর মতন দেখতাম তাকে নাম সাইম এরা ছিল আমার তখকার সাথী যখন বিকেল বেলা আমার একা একা ভালো লাগত না | আরো একটি ছেলে ছিল যার নাম মনে পড়ছে না এদের সাথে রিগেন ও মেহেদী নামে দুজন ছেলে থাকত মেহেদীর অনেক সুন্দর গান গাইতে পাড়ত যদিও তারা আমাদের জুনিয়র ছিল | আমাদের ভবনের পশের আবাসিক ভবনের দেয়ালে ছিল মৌমাছির বিশাল চাক | আমি আর ইউনূস তথন সেই মৌমাছির ধরে এনে একটি ঝুড়িতে রাখতাম এবং ছোট চামচ এ করে মধু খেতে দিতাম | মৌমাছি পোশার মজাই আলাদা একবার আমাদে হাতে কামড়ে দিয়েছিল | পড়ে আমরা সকল মৌমাছি ছেড়ে দিয়েছিলাম | একদিন আমি আর ইউনূস আমাদের ভবনের ৩য় তলায় পশ্চিম পাশের একটা খালি রুমে গিয়ে বসে ছিলাম দেখতে পেলাম রুমে একটি পাখি ঘুরাঘুরি করছে তখন যেহেতু আমরা অনেক ছোট ছিলাম আমাদের মনে কত কিছু বলে | আমরা দুজন বুদ্ধি করলাম এই পখিটাকে ধরব এবং এর মাধ্যমে এর অপর জোড়া পাখিটি ধরে আমরা পালব | যেই ভাবা সেই কাজ আমারা পাখি দুটো ধরলাম এবং একটি ঝুড়িতে কিছু খাবার দিয়ে রেখে দিলাম কিন্তু আফসোস পরের দিন দেখতে পেলাম ১টি পাখি মারা গেছে যা ছিল খুবই দুঃখের | আমরা তৎক্ষনাৎ অপর পাখিটিকে মুক্ত করে দিলাম | মৃত পাখিটির জন্য আমার মন কেঁদে চলেছিল অনবত | তখন আমাদের বন্ধু মহলে ক্রিকেট খেলা দেখার নেশা ছিল | আমরা মাঝে মাঝে আমাদের রাতরে শিপ্টে ক্লাস বাদ দিয়ে খেলা দেখতাম | এরজন্য আমাদের স্যার এর কাছে অনেক সময় বকা খেতে হয়েছে | আমাদের গ্রুপ এ যাই হোক না কেন আমাদের মাঝে একটা ইউনিটি ছিল সেটি হলো প্রতি বৃহস্পতিবার এ মুড়ি পার্টি করা - এটি ছিল আমাদের হলের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম | তবে আজও নাজমুল এর ক্যাম্পস ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়কার সেই কথা - "বন্ধু চলে যাচ্ছি ভালো থাকিস" কথাটা বুকে গেঁথে থেকে যাবে বহুদিন যা ভোলা এত সহজ নয় | জুয়েল এর সেই মায়াবী মুখ ভুলব কেমন করে | শিহাব,জাফরান,রাকিব,ওসামা তোরা যেখানেই থাকিস না কেন তরা জীবনের একটা অধ্যায় হয়ে থেকে যাবি | জোবায়ের তুমি কোথায় আছ কেমন আছ পাইনি আর তোমার খোজ যেখানেই থাক ভালো থাক এই দোয়া মোর মনে | এভাবেই কেমনে কেটে গেলে স্মৃতি যুক্ত সেই দিন | এই সকল মধুর দিনগুলোর ইতি বা শেষ গঠেছিল ২০২০ সালের মহামারি লকডাউন এ তখন আমরা বন্ধুরা আলাদা হয়ে যাই এবং এর পর আর কারো সাথে দেখা হয়নি আমার | রুম নম্বর ৩০৬ স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে এ রিদয়ে বহুদিন | মনে গেথে থেকে যাবে সেই বিকেল বেলা বারান্দায় বসে প্রকৃতির সেই সৌন্দর্য ঘেরা সেই দৃশ্য দেখা | ১০ টাকা দিয়ে ক্যানটিন এর সেই মাংস পিঠা খাওয়া | সকাল বেলা খবরের কাগজ নিয়ে টানাটানি করা আর গল্পের পাতায় মন বসিয়ে পড়া | অনেক কথা লিখব ভেবেছিলাম লেখা হয়নি আর হবে কিনা তাও জানি না এ হৃদয়ে এর চেতনায় হাত কাপে বারেবার |
তোমাদের উৎসর্গে একটি কাব্য রেখে রেখে যাব আমি,
রুম নম্বর ৩০৬
- ইসমাইল খান
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।