বিকেলটা সেদিন অস্বাভাবিক নীরব ছিল।

শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে ছোট্ট একটা নদী। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর নদীটা অনেকটা পিছিয়ে গেছে। কাদামাটির গন্ধের সঙ্গে বাতাসে মিশে ছিল কাশফুলের মিষ্টি সুবাস। দূরে কয়েকটা নৌকা ধীরে ধীরে ঘাটের দিকে ফিরছিল।

নদীর পাড়ে একা বসে ছিল অয়ন।

হাতে একটা পুরোনো ডায়েরি।

ডায়েরির শেষ পাতাটা খোলা, অথচ সেখানে কোনো লেখা নেই।

প্রায় দশ মিনিট ধরে অয়ন একই সাদা পাতার দিকে তাকিয়ে ছিল। কী লিখবে, সে জানে না। অথবা হয়তো অনেক কিছুই জানে—শুধু যাকে উদ্দেশ্য করে লিখবে, তার নামটা লিখতে ভয় পাচ্ছে।

প্রেমা।

নামটা মনে আসতেই বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে ভারী হয়ে গেল।

তিন বছর।

তিন বছর ধরে অয়ন প্রেমাকে দেখেনি।

তবু আশ্চর্যের বিষয়, সময় মানুষের মুখ ভুলিয়ে দিতে পারলেও কিছু অনুভূতির বয়স বাড়াতে পারে না।

প্রেমার হাসিটা অয়নের এখনও মনে আছে।

বৃষ্টিতে ভিজে চুল কপালে লেগে থাকলে প্রেমা বিরক্ত হয়ে বলত,

তুমি এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

অয়ন হেসে বলত,

দেখছি।

কী?

যেটা দেখলে চোখ সরাতে ইচ্ছে করে না।

প্রেমা রাগ দেখানোর চেষ্টা করত।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেসে ফেলত।

সেই হাসিটাই অয়নের কাছে আজও সবচেয়ে বিপজ্জনক স্মৃতি।

কারণ পৃথিবীতে কিছু হাসি আছে, যেগুলো মানুষ একবার ভালোবেসে ফেললে আর কোনোদিন পুরোপুরি ভুলতে পারে না।

প্রেমার সঙ্গে অয়নের পরিচয় হয়েছিল এক বইমেলায়।

কোনো সিনেমার মতো ঘটনা ছিল না।

একটা সাধারণ বিকেল। চারপাশে মানুষের ভিড়, বইয়ের গন্ধ আর মাইকে লেখকদের নাম ঘোষণা।

অয়ন একটা কবিতার বই হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক তখন পাশ থেকে একটা মেয়ে একই বইয়ের দিকে হাত বাড়াল।

দুজনের হাত একসঙ্গে বইটার ওপর গিয়ে থেমে গেল।

মেয়েটা হাত সরিয়ে নিয়ে হেসে বলল,

আপনি নিন।

অয়ন বলল,

না, আপনি আগে নিয়েছেন।

কিন্তু বইটা তো আপনি আগে ধরেছিলেন।

তাহলে আমরা দুজনেই হারলাম।

মেয়েটা হেসে বলেছিল,

বইয়ের জন্য এত সহজে হার মানেন?

অয়ন সেদিন প্রথমবার তার চোখের দিকে তাকিয়েছিল।

মেয়েটার নাম প্রেমা।

সেই ছোট্ট কথোপকথন দিয়েই শুরু হয়েছিল তাদের গল্প।

প্রথমে কথা হতো বই নিয়ে।

তারপর কবিতা।

তারপর বৃষ্টি।

তারপর এমন কিছু বিষয়, যেগুলোর কোনো শুরু বা শেষ ছিল না।

একদিন অয়ন খেয়াল করল, প্রেমার সঙ্গে কথা না বলে একটা দিন কেটে গেলে তার দিনটাকে অসম্পূর্ণ মনে হয়।

প্রেমাও হয়তো একই জিনিস অনুভব করত।

এক রাতে প্রায় দুইটা পর্যন্ত কথা বলার পর প্রেমা বলেছিল,

তোমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে একটা সমস্যা হয়েছে।

অয়ন জিজ্ঞেস করেছিল,

কী সমস্যা?

তোমার সঙ্গে কথা বলা অভ্যাস হয়ে গেছে।

অয়ন একটু হেসে বলেছিল,

অভ্যাস খারাপ হলে?

প্রেমা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলেছিল,

তাহলে ছাড়তে অনেক কষ্ট হবে।

অয়ন তখনও জানত না, ভবিষ্যৎ তাকে ঠিক সেই কষ্টটাই দিতে চলেছে।

তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো ছিল খুব সাধারণ।

একসঙ্গে চা খাওয়া।

হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া।

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়া।

প্রেমার রাগ করে চুপ হয়ে থাকা।

অয়নের ইচ্ছে করে তাকে আরও রাগিয়ে আবার হাসিয়ে দেওয়া।

কখনো প্রেমা বলত,

তুমি খুব বিরক্তিকর।

অয়ন বলত,

তবুও কথা বলো কেন?

প্রেমা বলত,

জানি না

অয়ন বলত,

আমি জানি।

কী?

তুমি আমাকে পছন্দ করো।

প্রেমা মুখ ঘুরিয়ে বলত,

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ভালো না।

কিন্তু তার হাসিটা সবসময় অন্য কথা বলত।

একদিন বিকেলে নদীর ধারে বসে প্রেমা হঠাৎ অয়নকে জিজ্ঞেস করেছিল,

তুমি কি কখনো কাউকে হারানোর ভয় পাও?

অয়ন বলেছিল,

যাকে খুব কাছে পেতে চাই, তাকেই।

প্রেমা নদীর দিকে তাকিয়ে বলেছিল,

আর যদি সে নিজেই দূরে চলে যায়?

অয়ন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেছিল,

তাহলে অপেক্ষা করব।

প্রেমা মৃদু হেসে বলেছিল,

সব মানুষ অপেক্ষা করে ফিরে আসে না, অয়ন।

অয়ন তখন তার দিকে তাকিয়ে বলেছিল,

তুমি আসবে?

প্রেমা কোনো উত্তর দেয়নি।

শুধু নদীর পানির দিকে তাকিয়ে ছিল।

অয়ন বুঝতে পারেনি, সেই নীরবতার ভেতরেই তাদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে কঠিন কথাটা লুকিয়ে ছিল।

কয়েক সপ্তাহ পর প্রেমার জীবনে হঠাৎ বড় পরিবর্তন এল।

তার বাবার ব্যবসায় ভয়াবহ ক্ষতি হলো। পরিবারের অনেক দায়িত্ব একসঙ্গে তার কাঁধে এসে পড়ল। মায়ের চিকিৎসা, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা, সংসারের নানা সমস্যা—সবকিছু সামলানোর জন্য তাকে অন্য শহরে গিয়ে চাকরি নিতে হলো।

প্রেমা অয়নকে সবকিছু বলতে চেয়েছিল।

কিন্তু পারেনি।

সে জানত, অয়ন যদি সব শুনে তাকে বলত—

থেকে যাও।

তাহলে তার পক্ষে চলে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে যেত।

আর নিজের পরিবারের দায়িত্ব ফেলে প্রেমার থেকে যাওয়ার মতো স্বার্থপরতাও ছিল না।

তাই যাওয়ার আগের দিন সে অয়নের সঙ্গে দেখা করেছিল।

দুজনেই অনেকক্ষণ পাশাপাশি বসে ছিল।

কথা ছিল অনেক।

কিন্তু বলা হয়নি।

শেষে প্রেমা শুধু বলেছিল,

নিজের যত্ন নিও।

অয়ন ভেবেছিল, এটা হয়তো সাময়িক বিদায়।

সে জিজ্ঞেস করেছিল,

কবে ফিরবে?

প্রেমা উত্তর দেয়নি।

শুধু মৃদু হেসেছিল।

পরদিন সে শহর ছেড়ে চলে গেল।

অয়ন প্রথম কয়েক মাস অপেক্ষা করেছিল।

প্রথমে প্রতিদিন।

তারপর সপ্তাহে।

তারপর মাসে।

প্রেমাও নতুন শহর থেকে অনেকবার ফোন করতে চেয়েছিল।

অনেকবার অয়নের নম্বর খুলে মেসেজ লিখেছিল—

তোমাকে খুব মনে পড়ে।

তারপর মুছে ফেলেছিল।

কারণ সে জানত, নিজের সমস্যার মধ্যে অয়নকে টেনে এনে তার জীবনটাকেও অস্থির করতে চায় না।

একসময় যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।

অয়ন ভেবেছিল প্রেমা হয়তো তাকে ভুলে গেছে।

প্রেমা ভেবেছিল অয়ন হয়তো তার জন্য আর অপেক্ষা করছে না।

দুজনেই ভুল বুঝেছিল।

তিন বছর কেটে গেল।

এই তিন বছরে প্রেমা নিজের পরিবারের দায়িত্বগুলো সামলেছে।

মায়ের চিকিৎসা শেষ হয়েছে।

ছোট ভাই নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে।

সব দায়িত্ব একসময় কমে গেল।

শুধু প্রেমার নিজের ভেতরের একটা শূন্যতা কমল না।

একদিন পুরোনো জিনিসপত্র গোছাতে গিয়ে সে একটা বাক্স খুলল।

সেখানে অয়ন তাকে দেওয়া একটা বই ছিল।

বইটা খুলতেই মাঝখান থেকে একটা শুকনো শিউলি ফুল মাটিতে পড়ে গেল।

ফুলটা হাতে নিয়ে প্রেমা অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল।

তার চোখের সামনে একের পর এক পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসতে লাগল।

অয়নের সঙ্গে প্রথম দেখা।

বৃষ্টিতে ভেজা বিকেল।

চায়ের কাপ।

নদীর ধারে বসে থাকা।

তার অভিমান।

অয়নের হাসি।

আর সেই শেষ কথাটা—

“নিজের যত্ন নিও।”

হঠাৎ প্রেমা বুঝতে পারল—

তিন বছর ধরে সে নিজের দায়িত্ব থেকে পালায়নি।

কিন্তু নিজের সত্যিকারের অনুভূতিটাকে এড়িয়ে গেছে।

সে অয়নকে ভুলে যায়নি।

বরং প্রতিদিন একটু একটু করে আরও বুঝেছে, অয়ন তার জীবনে কতটা গভীর জায়গা নিয়ে আছে।

সেদিন রাতে সে অয়নের নম্বর বের করল।

নম্বরটা এখনও একই।

ফোন করার সাহস হলো না।

পরদিন সে শহরে ফিরে এল।

কোনো নাটকীয় পরিকল্পনা নিয়ে নয়।

শুধু একবার অয়নকে সামনে থেকে দেখতে।

একবার জানতে—

সে কি এখনও সেই মানুষটা আছে, যে একদিন তাকে থামাতে চেয়েও কিছু বলতে পারেনি?

আর সেই কারণেই আজ বিকেলে প্রেমা নদীর ঘাটে এসে দাঁড়িয়েছিল।

দূর থেকে সে অয়নকে দেখতে পেল।

একইভাবে বসে আছে।

হাতে ডায়েরি।

চোখ নদীর দিকে।

প্রেমা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে বলল,

তুমি এখনও সাদা পাতার সঙ্গে কথা বলো?

অয়নের হাত থেমে গেল।

সে ধীরে ধীরে পেছনে তাকাল।

প্রেমা।

তিন বছর পর।

একই চোখ।

একই হাসি।

শুধু মুখে সময়ের কিছু নতুন গল্প লেখা।

অয়ন কিছু বলতে পারল না।

প্রেমা মৃদু হেসে বলল,

এত বছর পরেও আমাকে দেখে কিছু বলবে না?

অয়ন অনেক কষ্টে বলল,

কী বলব?

যা মনে হচ্ছে।

অয়ন কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,

তুমি সত্যিই ফিরে এসেছ?

প্রেমা নিচের দিকে তাকিয়ে বলল,

ফিরে আসা আর ফিরে পাওয়া—এক জিনিস নয়।

অয়ন চুপ করে রইল।

তারপর জিজ্ঞেস করল,

এতদিন কোথায় ছিলে?

প্রেমা ধীরে ধীরে সব বলল।

পরিবারের কথা।

মায়ের অসুস্থতা।

দায়িত্বের কথা।

নতুন শহরের একাকিত্ব।

আর সেই পুরোনো বইয়ের কথা।

সবশেষে বলল,

আমি তোমাকে অনেকবার ফোন করতে চেয়েছিলাম।

অয়ন মৃদু হেসে বলল,

করোনি কেন?

ভয় পেয়েছিলাম।

কিসের?

তুমি যদি বলো, তুমি আমাকে ভুলে গেছো?

অয়ন নদীর দিকে তাকিয়ে বলল,

আর আমি ভয় পেয়েছিলাম তুমি যদি বলো, তুমি আমাকে ভুলে গেছো।

প্রেমা চোখ নামিয়ে ফেলল।

দুজনেই বুঝল—

তিন বছর ধরে তারা একই ভয় নিয়ে আলাদা ছিল।

কিছুক্ষণ পর প্রেমা জিজ্ঞেস করল,

তুমি কি আমাকে খুব ঘৃণা করেছিলে?

অয়ন মাথা নাড়ল।

না।

রাগ?

অনেক।

তাহলে?

অয়ন মৃদু গলায় বলল,

তোমার ওপর যতটা রাগ করেছি, তার চেয়ে বেশি রাগ করেছি নিজের ওপর।

কেন?

কারণ তোমাকে থামানোর মতো সাহস আমার ছিল না।

প্রেমার চোখ ভিজে উঠল।

সে বলল,

তুমি যদি সেদিন আমাকে বলতে, ‘থেকে যাও’, আমি হয়তো সত্যিই থেকে যেতাম।

অয়ন তাকিয়ে বলল,

তাহলে তুমি আমাকে বলোনি কেন?

প্রেমা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

কারণ আমিও অপেক্ষা করছিলাম—তুমি আগে বলবে।

নদীর বাতাস হঠাৎ যেন আরও ঠান্ডা হয়ে গেল।

তিন বছর ধরে জমে থাকা কথাগুলো যেন একে একে তাদের মাঝখান থেকে সরে যাচ্ছিল।

প্রেমা ধীরে বলল,

আমি তোমাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।

অয়ন জিজ্ঞেস করল,

পেরেছিলে?

প্রেমা মাথা নাড়ল।

না।

কেন?

কারণ তুমি আমার জীবনের কোনো একটা সময় ছিলে না, অয়ন। তুমি ছিলে সেই সময়টার সবচেয়ে সুন্দর অংশ।

অয়ন কিছু বলল না।

প্রেমা আবার বলল,

আমি ফিরে এসেছি শুধু তোমাকে দেখতে নয়।

অয়ন তাকাল।

তাহলে?

প্রেমা চোখে চোখ রেখে বলল,

যে কথাটা তিন বছর আগে বলতে পারিনি, সেটা বলতে।

অয়নের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

কী কথা?

প্রেমা খুব আস্তে বলল,

আমি তোমাকে ভালোবাসি।

অয়ন চোখ বন্ধ করল।

তিন বছর ধরে যে কথাটা সে নিজের ভেতরে কবর দিয়ে রেখেছিল, সেই কথাটাই আজ তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

কিছুক্ষণ পর অয়ন বলল,

এত দেরি করলে কেন?

প্রেমার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।

কারণ তখন আমি তোমাকে ভালোবাসতাম, কিন্তু দায়িত্বের কাছে হেরে গিয়েছিলাম। এখন দায়িত্বগুলো শেষ হয়েছে। আর বুঝেছি—জীবন শুধু দায়িত্ব পালন করার নাম নয়। কিছু মানুষকে নিজের জীবনে জায়গা দেওয়াও জীবনের একটা দায়িত্ব।

সূর্য তখন প্রায় ডুবে গেছে।

আকাশের শেষ আলো নদীর পানিতে লালচে রেখা এঁকে দিয়েছে।

প্রেমা উঠে দাঁড়াল।

অয়নও উঠে দাঁড়াল।

কেউ কাউকে জড়িয়ে ধরল না।

কেউ কোনো বড় প্রতিশ্রুতিও দিল না।

শুধু প্রেমা বলল,

কাল এখানে আসবে?

অয়ন হেসে বলল,

তুমি আসবে?

প্রেমা বলল,

তুমি থাকলে আসব।

অয়ন বলল,

তাহলে আমি থাকব।

প্রেমা কয়েক পা এগিয়ে আবার ফিরে তাকাল।

আর অয়ন?

হুম?

এবার কিন্তু আমাকে থামাতে হবে না।

অয়ন মৃদু হেসে বলল,

কেন?

প্রেমার চোখে তখন অদ্ভুত শান্তি।

সে বলল,

কারণ এবার আমি নিজেই থাকতে চাই।

প্রেমা ধীরে ধীরে চলে গেল।

অয়ন নদীর ধারে দাঁড়িয়ে রইল।

তার হাতে এখনও সেই ডায়েরি।

সে ডায়েরির শেষ পাতাটা খুলল।

যে সাদা পাতার দিকে এতক্ষণ তাকিয়ে ছিল, সেখানে এবার কলম রাখল।

একটা মাত্র লাইন লিখল—

কিছু অপেক্ষা মানুষকে ভেঙে দেয়, আর কিছু অপেক্ষা শেষ পর্যন্ত তাকে তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার কাছে ফিরিয়ে দেয়।

তারপর অয়ন কলমটা বন্ধ করল।

নদীর ওপারে সন্ধ্যা নেমে এসেছে।

দূরে একটা নৌকা ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

অয়ন জানত না আগামী দিনগুলো কেমন হবে।

তবে তিন বছর পর প্রথমবার তার মনে হলো—

সব গল্পের শেষ বিচ্ছেদ দিয়ে হয় না।

কিছু গল্প মাঝপথে থেমে যায় শুধু একটু সময় নেওয়ার জন্য।

তারপর একদিন, ঠিক কোনো এক শেষ বিকেলে—

ভালোবাসা আবার ফিরে আসে।