যে মানুষটি একদিন আপন ছিল
মোঃ বুলবুল হোসেন
শহরের এক ব্যস্ত রাস্তায় পাশাপাশি হাঁটছিল রায়হান আর নাবিল। দুজনের বন্ধুত্বের বয়স তখন প্রায় পনেরো বছর। স্কুলজীবনের শুরু থেকে তাদের পরিচয়। একই বেঞ্চে বসা, একই মাঠে খেলাধুলা করা, পরীক্ষার আগে একসঙ্গে পড়া, বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো সবকিছুতেই তারা ছিল একসঙ্গে।
রায়হান প্রায়ই বলত,
জীবনে অনেক মানুষ আসবে, অনেক মানুষ চলে যাবে। কিন্তু তুই থাকলে আমার আর কাউকে দরকার নেই।
নাবিল হেসে বলত,
আমি কোথাও যাচ্ছি না। যত দিন বাঁচি, বন্ধুত্বটা থাকবে।
তখন তাদের কাছে কথাগুলো খুব সত্যি মনে হতো। তাদের বিশ্বাস ছিল, সময় যতই বদলাক, মানুষের জীবন যতই ব্যস্ত হোক, তাদের সম্পর্ক কখনো বদলাবে না।
কিন্তু জীবন কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতির নিশ্চয়তা দেয় না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাদের জীবনে পরিবর্তন শুরু হলো। রায়হান পড়াশোনার পাশাপাশি একটি ছোট চাকরি নিল। সংসারে তার দায়িত্ব ছিল বেশি। অন্যদিকে নাবিল পড়াশোনায় মন দিল এবং ধীরে ধীরে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে শুরু করল।
প্রথমদিকে বিষয়টি কেউ গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি।
আগের মতো প্রতিদিন কথা না হলেও সপ্তাহে কয়েকবার কথা হতো। তারপর সপ্তাহে একবার। একসময় সেই কথাও কমে গেল।
রায়হান মাঝে মাঝে ফোন করত।
কী করিস?
ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলি।
এই পরে আর আসত না।
একদিন রায়হান অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে আবার ফোন করল। নাবিল ধরল না। কিছুক্ষণ পর একটি ছোট্ট বার্তা এল,
ভাই, আজ একটু ব্যস্ত। কাল কথা বলব।
রায়হান ফোনটা টেবিলে রেখে চুপ করে বসে রইল।
কাল এল। কিন্তু কথাটি আর হলো না।
এভাবে কয়েক মাস কেটে গেল।
রায়হান বুঝতে পারছিল, কিছু একটা বদলে গেছে। কিন্তু সে নিজেকে বোঝাত, মানুষ ব্যস্ত হয়, জীবন বদলায়, তাই বলে বন্ধুত্ব তো বদলায় না।
একদিন রায়হানের চাকরি চলে গেল।
সে ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। সংসারের খরচ, বাবার ওষুধ, ছোট বোনের পড়াশোনা সবকিছু মিলিয়ে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
সবার আগে যার কথা তার মনে পড়ল, সে নাবিল।
রায়হান ফোন করল।
অনেকক্ষণ পর নাবিল ফোন ধরল।
হ্যালো।
নাবিল, কেমন আছিস?
ভালো। বল।
রায়হান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
আমার চাকরিটা চলে গেছে। একটু বিপদে পড়েছি। তুই যদি কোনো জায়গায় একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারিস।
ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর নাবিল বলল,
দেখ, আমি চেষ্টা করব। তবে এখন আমার নিজেরও অনেক ঝামেলা।
আমি বুঝি। তুই শুধু কোথাও একটা কথা বলিস।
আচ্ছা, দেখি।
ফোন কেটে গেল।
রায়হান সেই দেখি কথাটার ওপর ভরসা করল।
একদিন গেল।
দুই দিন গেল।
এক সপ্তাহ গেল।
নাবিল আর ফোন করল না।
রায়হান নিজে ফোন করল। ফোন বন্ধ।
পরের দিন আবার করল। রিং হলো, কিন্তু কেউ ধরল না।
তারপর আর ফোন করল না।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রায়হান একটি ছোট প্রতিষ্ঠানে কাজ পেয়ে গেল। বেতন আগের চেয়ে কম, কাজ বেশি। তবু সে সন্তুষ্ট ছিল। অন্তত সংসারটা চালানো যাবে।
একদিন বাজারে হঠাৎ নাবিলের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।
নাবিলের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। তারা সবাই হাসতে হাসতে কথা বলছিল।
রায়হান এগিয়ে গেল।
কী রে, কেমন আছিস?
নাবিল একটু থেমে বলল,
ভালো। তুই?
আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।
চাকরি পেয়েছিস?
হ্যাঁ।
ভালো হয়েছে।
কথা শেষ।
মাত্র কয়েকটি শব্দ।
অথচ একসময় এই দুজন মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলত। কথা শেষ করার মতো বিষয় তাদের কখনো ফুরিয়ে যেত না।
রায়হান নাবিলের দিকে তাকিয়ে বুঝল, মানুষটি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু আগের সেই নাবিলটি যেন আর নেই।
সে বাড়ি ফিরে অনেকক্ষণ জানালার পাশে বসে রইল।
তার মনে হচ্ছিল, সে কি কোনো ভুল করেছে?
সে কি বন্ধুত্বে কোনো ঘাটতি রেখেছিল?
সে কি কোনো কথায় নাবিলকে কষ্ট দিয়েছিল?
অনেক ভেবে সে কোনো উত্তর পেল না।
কয়েকদিন পর রায়হানের মা তাকে বললেন,
কী হয়েছে তোর?
কিছু না।
কিছু না হলে মানুষ এত চুপচাপ থাকে?
রায়হান মৃদু হেসে বলল,
কখনো কখনো মানুষকে হারানো যায় না মা, শুধু তার সঙ্গে আগের সম্পর্কটা হারিয়ে যায়।
মা কিছু বললেন না। শুধু ছেলের মাথায় হাত রাখলেন।
রায়হান ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করল। সে নাবিলকে হারায়নি। বরং সে হারিয়েছে নাবিলকে নিয়ে নিজের তৈরি করা একটি ধারণা।
তার ধারণা ছিল, যে মানুষটি একদিন তাকে আপন বলেছে, সে চিরকালই আপন থাকবে।
কিন্তু মানুষ স্থির নয়।
পরিস্থিতি বদলায়, প্রয়োজন বদলায়, অগ্রাধিকার বদলায়। কখনো কখনো মানুষের অনুভূতিও বদলে যায়।
এই সত্য মেনে নেওয়া খুব কঠিন।
তারপরও জীবন থেমে থাকে না।
রায়হান নিজের কাজে মন দিল। সকালে অফিস, সন্ধ্যায় বাড়ি। ছুটির দিনে বোনের পড়াশোনা দেখত। নিজের জন্যও কিছু সময় রাখত। বই পড়তে শুরু করল। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করল।
কিছুদিন পর সে লক্ষ করল, তার মন আর আগের মতো নাবিলকে খুঁজে বেড়ায় না।
একসময় যে প্রশ্ন তাকে প্রতিদিন কষ্ট দিত, নাবিল কেন বদলে গেল, সেই প্রশ্নটাও ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাল।
এক সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরার পথে নাবিল ফোন করল।
রায়হান ফোনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর ধরল।
হ্যালো।
রায়হান, কেমন আছিস?
ভালো। তুই?
ভালো। অনেক দিন কথা হয় না।
রায়হান হেসে বলল,
হ্যাঁ, অনেক দিন।
নাবিল বলল,
তোর সঙ্গে একটা কথা ছিল।
বল।
আমার কিছু টাকা দরকার ছিল। কয়েক দিনের জন্য। তুই যদি
রায়হান চুপ করে রইল।
তার মনে পুরোনো অনেক কথা ভেসে উঠল। সেই স্কুলের দিনগুলো, একই বেঞ্চে বসা, একসঙ্গে হাসা, বিপদে পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি।
কিন্তু একই সঙ্গে মনে পড়ল সেই দিনটির কথা, যখন সে চাকরি হারিয়ে সাহায্য চেয়েছিল।
রায়হান শান্তভাবে বলল,
ভাই, এখন আমারও কিছু আর্থিক দায়িত্ব আছে। এই মুহূর্তে টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারব না। তবে অন্য কোনোভাবে যদি পারি, বলিস।
ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা।
নাবিল বলল,
ঠিক আছে।
ফোন কেটে গেল।
রায়হানের বুকের ভেতর কোনো রাগ হলো না। কোনো অভিমানও হলো না।
বরং অদ্ভুত এক শান্তি অনুভব করল।
সে বুঝতে পারল, ক্ষমা করা আর আগের জায়গায় কাউকে ফিরিয়ে নেওয়া এক বিষয় নয়।
কাউকে ভালোবাসা যায়, কিন্তু তার ওপর নিজের সমস্ত সুখ নির্ভর করতে হয় না।
কাউকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু নিজের জীবন থামিয়ে তার অপেক্ষায় থাকা জরুরি নয়।
কাউকে আপন ভাবা যায়, কিন্তু সে যদি দূরে চলে যায়, তাকে জোর করে ধরে রাখাও ভালোবাসা নয়।
সময়ের সঙ্গে রায়হানের জীবন আরও বদলাতে লাগল।
সে নিজের কাজের দক্ষতা বাড়াল। কিছু টাকা জমাতে শুরু করল। কয়েক বছর পর একটি ছোট ব্যবসা শুরু করল। প্রথমদিকে অনেক সমস্যা হলো। কখনো ব্যবসা ভালো গেল, কখনো খারাপ।
কিন্তু এবার সে একটা জিনিস শিখে ফেলেছিল। কোনো পরিস্থিতিতেই নিজের পুরো জীবনকে একজন মানুষের ওপর নির্ভর করে রাখা যাবে না।
তার জীবনে নতুন কিছু মানুষ এল। তাদের মধ্যে কেউ খুব কাছের হলো, কেউ কিছুদিন পর দূরে চলে গেল।
আগের মতো আর প্রতিটি বিচ্ছেদ তাকে ভেঙে দিত না।
কারণ সে বুঝে গিয়েছিল, সব সম্পর্কের একই পরিণতি হয় না।
কেউ জীবনে আসে দীর্ঘদিন থাকার জন্য।
কেউ আসে কিছু দূর পথ হাঁটার জন্য।
কেউ আসে আমাদের আনন্দ দিতে।
কেউ আসে আমাদের ভুল দেখিয়ে দিতে।
আবার কেউ আসে এমন একটি শিক্ষা দিয়ে যেতে, যা কোনো বই শেখাতে পারে না।
একদিন রায়হান পুরোনো আলমারি পরিষ্কার করছিল। হঠাৎ একটি পুরোনো ছবি হাতে এল।
ছবিতে সে আর নাবিল পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। দুজনের মুখে প্রাণখোলা হাসি।
ছবিটা দেখে রায়হান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তার মনে হলো, এই মানুষটির সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। শুধু তার রূপ বদলে গেছে।
সে ছবিটা ফেলে দিল না।
আবার বুকের কাছে ধরে রাখলও না।
সযত্নে ছবিটা একটি পুরোনো খামে রেখে আলমারির এক পাশে তুলে রাখল।
কারণ অতীতকে মুছে ফেলতে হয় না।
অতীতকে শুধু তার নিজের জায়গায় রাখতে হয়।
কয়েক মাস পর একদিন রাস্তায় আবার নাবিলের সঙ্গে দেখা।
নাবিল এবার একাই ছিল।
দুজন কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
নাবিল বলল,
তুই কি আমার ওপর রাগ করে আছিস?
রায়হান মৃদু হেসে বলল,
না।
তাহলে আগের মতো কথা বলিস না কেন?
রায়হান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
কারণ আগের মতো আমরা আর নেই।
নাবিল মাথা নিচু করল।
রায়হান বলল,
তুই বদলেছিস, আমিও বদলেছি। হয়তো আমাদের জীবনও বদলে গেছে। এটা নিয়ে কারও ওপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই।
নাবিল বলল,
তুই আমাকে খুব সহজে ক্ষমা করে দিলি?
রায়হান উত্তর দিল,
ক্ষমা করা কঠিন ছিল না। কঠিন ছিল মেনে নেওয়া যে, যাকে আমি সারাজীবন একই জায়গায় ভেবেছিলাম, সে হয়তো সেখানে আর নেই।
নাবিল চুপ করে রইল।
রায়হান আবার বলল,
জানিস, আগে ভাবতাম মানুষ বদলে গেলে সেটা আমার ব্যর্থতা। এখন বুঝি, সব পরিবর্তনের জন্য কাউকে দোষী করা যায় না। মানুষের জীবনে নতুন মানুষ আসে, নতুন দায়িত্ব আসে, নতুন স্বপ্ন আসে। কখনো সেই পরিবর্তনের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক তাল মিলিয়ে চলতে পারে না।
নাবিল ধীরে ধীরে বলল,
তাহলে আমাদের বন্ধুত্ব শেষ?
রায়হান মৃদু হেসে বলল,
শেষ কিনা জানি না। তবে এখন থেকে বন্ধুত্বটা আগের স্মৃতির ওপর নয়, বর্তমান বাস্তবতার ওপর দাঁড়াবে।
নাবিল প্রথমবারের মতো একটু হাসল।
দুজন কিছুক্ষণ পাশাপাশি হাঁটল।
আগের মতো নয়।
তবু একেবারে অপরিচিতও নয়।
সেদিন বাড়ি ফেরার পথে রায়হানের মনে হলো, জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কখনো কখনো বই থেকে আসে না, আসে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মধ্য দিয়ে।
সে শিখেছে, ভালোবাসা মানে কাউকে নিজের করে আটকে রাখা নয়।
বিশ্বাস মানে নিজের সমস্ত নিরাপত্তা অন্য একজনের হাতে তুলে দেওয়া নয়।
আর সম্পর্ক মানে নিজের অস্তিত্ব ভুলে যাওয়া নয়।
একজন মানুষ পাশে থাকলে তার মূল্য দিতে হয়। তার যত্ন নিতে হয়। কিন্তু সে একদিন দূরে চলে গেলে নিজের জীবনকেও থামিয়ে রাখা যায় না।
কারণ জীবন কারও জন্য অপেক্ষা করে না।
রায়হান এখন আর কাউকে হারানোর ভয়ে ভালোবাসে না।
সে ভালোবাসে, কিন্তু নিজের মূল্যও বোঝে।
সে বিশ্বাস করে, কিন্তু নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ধরে রাখে।
সে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়, কিন্তু নিজের শান্তিকে বিসর্জন দেয় না।
তার কাছে এখন সম্পর্কের অর্থ অনেক সহজ।
যতদিন কেউ পাশে আছে, তাকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসো।
যতদিন সম্পর্ক আছে, যত্ন নাও।
যদি ভুল বোঝাবুঝি হয়, কথা বলে ঠিক করার চেষ্টা করো।
কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে, কাউকে জোর করে নিজের জীবনে আটকে রেখো না।
কারণ কিছু মানুষকে হারানো মানে জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়।
কিছু মানুষ চলে যায়, যাতে আমরা নিজেদের আরও ভালোভাবে চিনতে পারি।
কেউ আমাদের ভালোবাসার অর্থ শেখায়।
কেউ বিশ্বাসের মূল্য শেখায়।
কেউ শেখায় অপেক্ষা করতে।
আবার কেউ শেখায়, নিজের মূল্য অন্য কারও আচরণের ওপর নির্ভর করে না।
রায়হান জানত, নাবিল তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
সেই অধ্যায়ে অনেক আনন্দ ছিল, কিছু কষ্ট ছিল, কিছু ভুল ছিল, কিছু সুন্দর স্মৃতি ছিল।
কিন্তু একটি অধ্যায় শেষ হওয়া মানেই পুরো বই শেষ হয়ে যাওয়া নয়।
জীবনের বইয়ে নতুন পৃষ্ঠা আসতেই থাকে।
আর প্রতিটি নতুন পৃষ্ঠা আমাদের নতুন কিছু শেখায়।
সেদিন রাতে রায়হান জানালার পাশে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল।
তার মনে কোনো অভিযোগ ছিল না।
ছিল না কোনো অভিমানও।
শুধু মনে হলো,
মানুষ বদলে যায়।
সম্পর্ক বদলে যায়।
সময় বদলে যায়।
কিন্তু সেই পরিবর্তনের মধ্যেও মানুষ যদি নিজের ভেতরের ভালো মানুষটিকে ধরে রাখতে পারে, তবে কোনো বিচ্ছেদই তাকে পুরোপুরি হারিয়ে দিতে পারে না।
রায়হান জানালাটা বন্ধ করে ঘরের আলো জ্বালাল।
তারপর নিজের কাজের টেবিলে ফিরে বসল।
জীবন তার সামনে তখনও অনেকটা পথ রেখে দিয়েছে।
সে পথের পাশে কে থাকবে, কে থাকবে না, তা সে জানে না।
এখন আর জানার চেষ্টাও করে না।
শুধু জানে, যে আসবে তাকে সম্মান দেবে, যে থাকবে তাকে ভালোবাসবে, আর যে চলে যাবে তাকে তার পথের স্বাধীনতা দেবে।
কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষকে ধরে রাখার চেয়ে, নিজের ভেতরের শান্তিটাকে ধরে রাখাই বেশি জরুরি।
আর সেই দিন থেকে রায়হান একটি সত্যকে মেনে নিয়ে বাঁচতে শিখল।
সব সম্পর্ক চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু প্রতিটি সম্পর্কের রেখে যাওয়া শিক্ষা আমাদের সারাজীবন সঙ্গে থাকে।

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।