এক গ্রামে সরকারি ভিটায় একটা আমগাছ ছিলো। গ্রামটিতে যথেষ্ট বাগান না থাকায় বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ এলে হতদরিদ্র পরিবারের বাড়ন্ত ছেলে-মেয়েগুলো ওই গাছের আম কুড়িয়েই সন্তুষ্ট থাকতো যা সহজভাবে মেনে নিতে পারে না এক ধনীর দুলাল।

গোপনে ফন্দি এঁটে -
সেবার মৌসুমে সে প্রতিদিন প্রাত্যুষে আম চুরি পূর্বক দোষ দিতে থাকে বাদুড়ের। লোকজনও ভাবে- ঝুলন্ত আম বাদুড়ে খাবে এই তো স্বাভাবিক! এহেন পরিস্থিতিতে পাহারাদার খোঁজার বোকামি না করে চুপ থাকাটাই শ্রেয়। যার ভাগ্যের যে অংশ নিশ্চয় সে তা পাবেই!

বিপত্তি ঘটে অন্যভাবে -
গাছে চড়ে সেদিন আম চুরির উদ্দেশ্যে হাত বাড়াতেই ওই আধো আঁধারে হাজির আন্দু পাগলা আর তা আঁচ অন্তে তাল সামলাতে না পেরে ধপাস করে নীচে পড়ে ছেলেটি। অথচ কি আশ্চর্য! আন্দু যেন কিছুই দেখেনি, ভাবলেশহীন। যাবার সময় ঘাড় বাঁকিয়ে শুধু প্রশ্ন রেখে যায়- 'ভাইজান! টুনটুনি কি উড়েছে?'
ও উত্তর দিতে পারেনি, ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে ছিলো মগডালে। কারণ ওর জানা- আন্দু পাগলা হলেও মাঝে মধ্যেই বলে অত্যন্ত 'গুরুভেদী কথা'।