হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারি তোমাকে,
ইচ্ছে হলেই মিশে যেতে পারি তোমার ভেতর,
এই যে তোমার বাহুতলে জন্ম আমার।
তোমার শিথিলতা, তোমার স্নেহ,
তোমার রূপ-যৌবনে অভ্যস্ত আমিটা অবাক তাকিয়ে দেখি—
কখনো নিদারুণ হিংস্রতা তোমার,
কখনো প্রেম জাগানিয়া গল্প তোমার।
আগ্রাসনের তীব্রতা বাড়িয়ে কতোশতো প্রাণ
হয়েছে বলিদান; তোমার শরীর জানে।
শীতের নজরকাড়া প্রেমনিবেদন,
বরষার বর্ণনসীমা অতিক্রান্ত রণজোর।
একই চোখে তোমার দুই রূপ
দেখে দেখে আমার বেড়ে উঠা আমার।
তারপরও
তুমি যখন ঊর্মিডানায় চরণ ধোয়াও-
আমি শিহরিত হই,
পাহাড়ের পাদদেশে উঁকি দেওয়া অরুণ দেখে-
তুমি ধীরে ধীরে নিজের ভেতর টানো।
পড়ন্ত বিকালের পর- কচ্ছপগতিতে গিলে নাও তারে।
তোমার বাহুতলে ঘনাও আঁধার।
আমি অবাক তাকিয়ে রই;
ভাবি— এক দেহে কতো রূপ তোমার...!
অতিযৌবনের মৌসুম পেরিয়ে
তুমি যখন শিথিল হও, প্রেম বিলাও,
জোড়া কপোতের গল্প শোনাও-
আমি প্রভাবিত হই, স্বল্পকাল ভুলে যাই- তোমার হিংস্রতা।
তোমারে সঙ্গ দিই, তোমার আশীষ নিই।
তোমার অতিযৌবন শেষে রূপ-কিরণের দিনে
নিয়ম করে তোমারে অবগাহন করি সবার মতোই-
তোমারে ভালোবাসতে পারিনি-
কিন্তু তোমারে হতাশ করি ক্যামনে?
আমার ভালোবাসার রাজ্যজুড়ে নীলপাহড়ের ঢেউ;
তোমার জন্যেও ঘৃণা নেই মনে।
তুমি আমার পড়শী হয়ে আছো,
তুমি আমার বন্ধু হয়ে আছো।
তোমার বাহুতলে বাস করেও যার প্রতি হৃদটান,
তোমার ঊর্মিসুরে তাল তুলে যার স্মরণে গাই গান,
তোমার রঙে আঁচড় তুলে যার গলে আঁকি হার
তার গল্পটা বলবো একদিন "প্রাণের নীলপাহাড়"।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।