www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

আমাদের মুসলমানীত্ব

একটু মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।

আমরা মুসলমান। ইসলাম আমাদের ধর্ম। যা পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। কুরআন আমাদের জীবন পাথেয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদর্শ। ঈমান আমাদের দাবী।
রাসূল সা. বলেছেন: ঈমানের সত্তরটির উপরে শাখা-প্রশাখা রয়েছে, সর্বোত্তম হল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সর্বনিম্ন হল- রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা; আর লজ্জা ঈমানের একটি অংশ। সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম শুধু কালেমাতে বিশ্বাস থাকলেই পূর্নাঙ্গ ঈমানদার হওয়া যাবে না। একজন মুসলমানের জন্য মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, লজ্জাশীলতা,পরোপকার করা, ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে রাষ্ট্রীয় এমনকি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও ইসলামি বিধানকে সমুন্নত করা ঈমানের দাবী।

আজ আমরা কেউ নামে, কেউ জন্মসূত্রে মুসলমান। আমরা জানি না, কী আমাদের কর্তব্য, কী আমাদের অধিকার। আমরা কীভাবে আমাদের পথকে চালিত করব। হালাল' বা হারাম, জায়েয বা নাজায়েয কী? অথবা জেনেও না জানার ভান করছি। আমাদের অনেকে নিয়মিত নামায পড়ি, দাড়ি রেখেছি, গায়ে লম্বা জামা চড়িয়েছি কিন্তু মানুষের হকের ক্ষেত্রে উদাসীন। ভুলেই গেছি- পরের অধিকার গ্রাসের কী শাস্তি? ভুলে গেছি, পরের হক নষ্ট করলে আল্লাহ পাক তা মাফ করেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাফ ব্যতীত।

একজন মুসলমানের অপর মুসলমানের প্রতি কিছু হক বা অধিকার রয়েছে। যেমন- দেখা হলে সালাম বিনিময়, রোগীর সেবা বা পরিচর্যা, জানাযার পিছনে চলা, হাঁচিদাতার আলহামদু বলার জবাব দেয়া, দূর্বলের সাহায্য করা, মজলুমের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, কসম বা শপথ পূরণ করা। ইত্যাদি। আজ আমরা এসবের ধার -ধারি না।

একজন মুসলমান তার ব্যক্তি পর্যায় থেকে পরিবার,সমাজ, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামি বিধান মেনে চলতে বাধ্য। অর্থ্যাৎ তা ফরজ। কিন্তু আমরা কী জানি, কী সেসব বিধান? অনেক ক্ষেত্রেই জবাব-না। আমরা জানি না, কী আমাদের পারস্পরিক হক, কী হক আত্মীয়তার, কী হক প্রতিবেশির, কী হক রাস্তার, কী হক রাষ্ট্রের, কী হক চাকর-বাকরদের।

একজন মুসলমান তার জীবনে যা করতে পারে না, তার সংক্ষিপ্ত তালিকা:-
হারাম উপার্জন, অবৈধ উপায়ে রিযকের ব্যবস্থা।
সুদ., মদ বা হারাম খাদ্য ভক্ষণ।
পিতা-মাতার অবাধ্যতা।
চোখলখুরি, গীবত-পরচর্চা, দুমুখি আচরণ,হিংসা করা।
অহঙ্কার করা। লোক দেখানো কাজ বা ইবাদত।
খারাপ ধারণা।
কারো সম্পর্কে সন্দেহ বা খারাপ বলা।
আত্মীয়তার অধিকার হরণ, সম্পর্ক ছিন্ন।
কারো অধিকার বা হক নষ্ট করা।
কারো সম্মানহানী করা।
কারো প্রতি জুলম করা।
সম্পদ বা জমি দখল।
প্রাপ্ত বস্তুর দাবীদারকে দাবী ফিরিয়ে না দেয়া।
জেনে -শোনে-বুঝে নালিশে বা বিচারে অন্যায়কে প্রশয় দেয়া, রায়কে নিজের পক্ষে আনা, মিথ্যে ফায়সাল করা।
ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি
লুটপাট, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি,ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ।
মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া।
কারো ন্যায্য পাওনা না দেয়া।
অংশীদারের কাজে সততা বজায় না রাখা,পরের সম্পদে চোখ।
গরীব বা নিরীহদের সাথে খারাপ আচরণ।
অধীনস্থদের সাথে খারাপ আচরণ করা।

উপরের তালিকার দিকে ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, আমাদের মাঝে অনেকে এমনকি সুফি-সাধকবেশিদেরও এসব হক বা অধিকারের দিকে নজর না দিয়ে বহু গর্হিত কাজ করে যাচ্ছেন। নামায পড়েন অথচ সুদ বা ঘুষ খান, মুখে দাড়ি অথচ মিথ্যা কথা বলেন, গায়ে লম্বা জোব্বা অথচ হালাল হারামের ধার ধারেন না। সুন্নতের তাবেদার বলে দাবি করেন, অথচ রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইসলামের বিধানকে উপেক্ষা করেন। বুঝতে চান না, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী?

আজ আমরা মুসলমান দাবি করি, আর বলি আমরা শ্রেষ্ঠ; অথচ নিজেদের মাঝে পরস্পরিক অধিকারটুকু আদায় করি না। পরের ধন-সম্পদে লোভ আর লালসায় আমরা কাউকে উপকার করতে ভুলে গেছি। অথচ আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে পরের জন্য। যেমন কবি বলেছেন- আপনাকে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। এই আদর্শটাই ইসলামের আদর্শ।

কোথায় আমরা:-

ইসলামের সোনালি যুগে, রাসূল সা.-এর পক্ষ থেকে সাধারণ দানের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরে সাহাবীরা কায়িক পরিশ্রম করে, বাজারে গিয়ে ব্যবসা করে অর্জিত মুনাফা বা উপার্জনটুকু সাধারণ গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। তারা শুধু পরের জন্য মুজুরী দিতেন, উপার্জন করতেন।
আজ আমরা পাশের হতভাগ্য দরীদ্রদের নিজেদের অর্জিত সম্পদের প্রাপ্য অংশ তথা যাকাত দিতেও কুন্ঠা বোধ করি। দান করব তো দূরের কথা, পারলে বা সুযোগ পেলে গরীবের সম্পদ লুটতেও হাত কাঁপে না।
আবু আশআরী রা. বলেন:- আশআর গোত্রের লোকেরা কত না উত্তম, তারা যখন অভাবে পড়ে তখন তারা পরস্পরের সম্পদ একত্রে জমা করে সবার মাঝে সমান ভাবে বন্টন করে দেয়, তাতে তাদের বরকত হয়। কত না সুন্দর তাদের ব্যবস্থা।
আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন: তোমাদের ধন-ভান্ডার যার যাকাত আদায় করা হয় না, বিষাক্ত কালো সাপের আকৃতি ধারণ করবে। বুখারি.
নবী করীম স. বলেন:- মুমিনদের পরস্পর সম্পর্ক এরূপ হওয়া চাই, যেরূপ একটি দেয়ালের ইটসমূহ। তারা একে অপরের দ্বারা শক্তিশালী হয়। তারপর তিনি এক হাতের আঙ্গুল অপর হাতের আঙ্গুলে প্রবেশ করে দেখান। বুখারি.
হুযাইফা রা. বলেন;- কে কুরআন অধ্যয়ণকারী, তোমরা দৃঢ় থাকো, কেননা তোমরা অনেক পিছনে পড়ে গেছ, তোমরা যদি ডানে বা বামের দিকে পথ অনুসরণ করো তাহলে হেদায়েত থেকে দূরে চলে যাবে। বুখারি.
সবশেষে বলতে চাই সে কথা, যা বলেছেন আমাদের নবী করীম সা.। তিনি বলেছেন: তোমরা সহজ পন্থা অবলম্বন করো, কঠিন হইওনা , মানুষকে শান্তি ও স্বস্তি দাও, মানুষের মাঝে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িওনা।

আমরা যদি আমাদের আদর্শ সম্পর্কে জানতাম, আমাদের বিধি-বিধান জানতাম, তাহলে মুসলমান সমাজে কোনো কুসংস্কার থাকত না, ভুল কোনো ধারণা থাকত না।
আমরা আমাদের কাঙ্খিত পথ থেকে দূরে চলে যাওয়াতে আমরা এখন পীর বা মাযারের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি। সহজ পন্থায় জান্নাতে যাবার লোভে প্রতারক ধর্ম-ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পা ফেলছি । আজ মুসলমানরা রোগ নিরাময়ে কবরের মাটি গায়ে মাখে, মাযারের জন্য মান্নত করে,নষ্ট বা ভ্রষ্টদের পায়ের উপর সাজদা দেয়।
আসুন আমরা ইসলাম সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ জ্ঞান লাভ করি, সহজ ভাবে জীবনকে দেখি।
বিষয়শ্রেণী: সমসাময়িক
ব্লগটি ৫৫৪ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ৩১/১০/২০১৩

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • জুবায়ের চৌধুরী ০১/১১/২০১৩
    খুব প্রাঞ্জল ভাবে সত্যকে উদ্ভাসিত করার চেষ্ঠা করেছেন
    ধন্যবাদ
  • কবীর হুমায়ূন ০১/১১/২০১৩
    আসুন, আমরা পরিপূর্ণ ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করি এবং জীবনকে সহজভাবে দেখি।

    ভালো লাগলো লেখা। আমরা সত্য ও সুন্দরের উপর দৃঢ়ভাবে অবস্থান করার জন্য সর্বদা ব্রতী থাকি। আমিন।
  • সাখাওয়াৎ ৩১/১০/২০১৩
    বরাবরের মতোই আমি আপনার ধর্মীীয় লেখার ফ্যান। অসম্ভব ভালো লিখেন আপনি যদিও লেখাটি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।আপনি খুব সুন্দর ভাবে ইসলামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।আল্লাহ আমাদের সব কিছু মেনে চলার তৌফিক দিন।আমিন।
 
Quantcast