দু'বছর ধরে তোমাকে ভালোবাসি
শুধু ভালোবাসি বললে হয়তো কম বলা হবে,
তোমাকে ঘিরেই আমি
আমার প্রতিদিনের কত গল্প লিখেছি,
কত রাত নিঃশব্দে তোমার নাম ভেবেছি

শতবার বলেছি-
“আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
আর তুমি?
শতবারই বলেছো-
“আমি তোমাকে ভালোবাসি না।”

তবুও আমি হেরে যাইনি।

আমি বলেছিলাম,
তোমাকে পেতে যদি দশটা বছরও অপেক্ষা করতে হয়,
আমি অপেক্ষা করব।
সময়ের কাছে নিজেকে বন্ধক রেখেও
একদিন তোমাকে আমার করে নেব।

তুমি শুধু বলেছিলে-
“আচ্ছা, চেষ্টা করতে পারেন।”

কী অদ্ভুত, তাই না?
আমার কাছে সেটা ছিল
একটা অসম্ভব সুন্দর আশার দরজা,
আর তোমার কাছে হয়তো
ছিল কেবল একটা সাধারণ বাক্য।

কতবার বলেছি,
“আমাকে তুমি করে ডাকো।”

তুমি একবার ডেকেছিলে-
শুধু একবার।

সেই একটি “তুমি”
আমি কত যত্ন করে বুকে রেখেছিলাম,
যেন মরুভূমিতে পাওয়া
এক ফোঁটা বৃষ্টির জল।

তারপর আবার
“আপনি” হয়ে গেলাম তোমার কাছে।

একদিন সাহস করে বলেছিলাম-
“ভালো না বাসো, তবুও আমাকে তুমি করে ডাকো।”

তুমি সেটাও রাখোনি।

তখন বুঝেছিলাম,
কিছু মানুষকে কাছে পাওয়ার জন্য
ভালোবাসাই যথেষ্ট নয়-
কখনো কখনো
নিজের অস্তিত্বটুকুও তাদের কাছে
অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়।

দু'বছর ধরে
তোমার সঙ্গে একটানা কথা বলেছি।

তোমার ছোট্ট একটা হাসির জন্য
কত বিকেল অপেক্ষা করেছি,
তোমার মন খারাপের দিনে
নিজের মন খারাপ ভুলে
তোমার পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

তোমাকে শাড়ি দিয়েছি,
ঘড়ি দিয়েছি,
চকলেট দিয়েছি,
আইসক্রিম দিয়েছি-
আরও কত ছোট ছোট উপহার,
যেগুলোর দাম হয়তো খুব বেশি ছিল না,
কিন্তু প্রতিটির ভেতরে
আমার ভালোবাসার একটা অংশ ছিল।

কখনো তোমাকে বলিনি-
“আমার উপহারের একটা স্টোরি দিও।”

শুধু মনে মনে ভেবেছি,
হয়তো কোনো একদিন
তুমি নিজে থেকেই
আমার দেওয়া কিছু একটা
তোমার পৃথিবীর সামনে তুলে ধরবে।

কিন্তু তা হয়নি।

তুমি বলেছিলে,
ফেসবুকে স্টোরি দিলে
তোমার প্রাইভেসি নষ্ট হবে।

আমি মেনে নিয়েছিলাম।

কারণ ভালোবাসলে
কিছু প্রশ্নের উত্তর না পেলেও
মানুষ চুপ থাকতে শেখে।

কিন্তু একদিন হঠাৎ
তোমার ফেসবুক স্টোরিতে দেখলাম-
অনেকগুলো চুড়ি।

কেউ তোমাকে উপহার দিয়েছে।

আর সেই চুড়িগুলো
তুমি ভালোবেসে
তোমার পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেছো।

আমি কিছুক্ষণ
স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

তারপর নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলাম-

“তাহলে প্রাইভেসিটা কোথায় গেল?”

চুড়িগুলো কি এতটাই সুন্দর ছিল,
নাকি মানুষটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ?

আর আমি?

আমার দেওয়া শাড়ি,
ঘড়ি,
চকলেট,
আইসক্রিম-
আমার যত্ন,
আমার অপেক্ষা,
আমার অগণিত ভালোবাসা-
এসব কি কোনোদিনই
তোমার কাছে এতটুকুও গুরুত্বপূর্ণ ছিল না?

সেদিন প্রথমবার
নিজের জন্য খুব অসহায় লেগেছিল।

অন্য কারও দেওয়া চুড়ি
তোমার গল্প হয়ে উঠতে পারে,
অথচ আমার ভালোবাসা
দু'বছরেও তোমার গল্পের
একটা ছোট্ট লাইন হতে পারল না।

তখন বুঝলাম-
উপহারের দাম দিয়ে
কাউকে ভালোবাসা যায় না,
আর ভালোবাসার গভীরতা দিয়ে
কারও হৃদয়ে নিজের জায়গা
কেনা যায় না।

তুমি আমাকে ভালোবাসোনি-
এটা হয়তো আমি মেনে নিতে পারি।

কিন্তু যে মানুষটাকে
দু'বছর ধরে এতটা ভালোবেসেছি,
তার কাছে আমার ভালোবাসার
কোনো মূল্যই ছিল না-
এই সত্যিটা মেনে নেওয়া
অনেক বেশি কঠিন।

আজও তোমাকে ভালোবাসি কি না,
তার উত্তর হয়তো আমার হৃদয়ই জানে।

শুধু একটা প্রশ্ন থেকে যায়-

আমার এত যত্ন,
এত অপেক্ষা,
এত ভালোবাসা,
এতটা নিঃস্ব হয়ে তোমাকে চাওয়া-
এসবের কোনো মূল্যই কি ছিল না তোমার কাছে?

নাকি আমি শুধু
তোমার জীবনের সেই মানুষটি ছিলাম,
যে সবসময় পাশে ছিল বলে
তার উপস্থিতির মূল্য
তুমি কোনোদিন অনুভব করোনি?

হয়তো কোনো একদিন
আমি আর তোমাকে কিছু দেব না।

না কোনো উপহার,
না কোনো আবদার,
না কোনো “ভালোবাসি”,
না দশ বছরের অপেক্ষার প্রতিশ্রুতি।

শুধু নীরবে সরে যাব।
আর সেদিন যদি কখনো
আমার দেওয়া কোনো উপহার
তোমার চোখে পড়ে-

হয়তো তুমি এক মুহূর্ত থেমে ভাববে,
“মানুষটা আমাকে সত্যিই ভালোবাসত।”

আর আমি?

আমি হয়তো তখনও
তোমাকে ভালোবাসব-

কিন্তু আর তোমার কাছে
নিজের ভালোবাসার মূল্য
খুঁজতে যাব না।

---প্রিন্স আরিয়ান----