অ্যাঁ! আমি হতভম্ব হইয়াছি! সচরাচর এই বিলম্ব কারণের ন্যায় হতভম্ব হইবার পাত্র অথবা পাত্রী আমি নই। হতভম্ব হইবার ফলে কী না জানি না, মনে অপদার্থ পর্যায়ের চিন্তাভাবনা ছলাৎ-ছলাৎ শব্দ করে গ্রামোফোনের একটানা সুরের মতন বেজেই যাচ্ছে তো যাচ্ছে! হাতের লেখা অত্যন্ত খারাপ হচ্ছে, বকের ঠ্যাং কিংবা কাকের ঠোঁটের মতন সরু; তবে সোজা যাচ্ছে না কেন লেখা? আশ্চর্য, অথচ এই লিখনির জন্য মহাবিদ্যালয়ে একটি কলা-জয়ী কাণ্ড বাঁধিয়া গিয়েছিল; ইংরেজি ক্লাস হইতেছিল—শিক্ষিকা পণ করিয়াছিল একদিনেই হ্যামলেটসহ শেক্সপিয়র আমাদের মস্তকে আছড়াইয়া-আছড়াইয়া ঢুকাইবেন! আমি নোট লইতেছি, আচমকা পিছন থেকে একটি বালিকা আলতো করিয়া খোঁচা দিল। বলছি বটে আলতো, তবে যেদিকটায় সে খোঁচা দিয়াছিল, পিঠের সেদিকটায় এখনও বহাল তবিয়তেই একটি কালো চিহ্ন উজ্জ্বল আছে, এবং আলো পড়লে ও ব্যাটা বিচ্ছুরিত হয়! যাই হোক, মেয়েটি তার মুখ আমার কর্ণের একেবারে কাছে আনিয়া বলল—“আমার হাতের লেখা অত্যন্ত সুন্দর—‘যেন মুক্তো ঝরে পড়ছে, নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।’” জানি না কেন বলল, বোধকরি পছন্দ করেছিল আমায়। তাহার মুখ থেকে নির্গত শ্বাসে আমার কর্ণপটহ ভীষণ চুলকাইতে শুরু করিল; তর্জনী দ্বারা কর্ণ খোঁচাইতে-খোঁচাইতে বললাম—“বাঁদরের গলায় কী মুক্তোর মালা মানায়?” আশ্চর্য! মেয়েটা ক্ষণিক আমার দিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের ন্যায় তাকিয়ে—“ইউ বাস্টার্ড, সান অব..., বদ, হারামজাদাসহ আরও প্রভূত বিশেষণ কহিতে-কহিতে শ্রেণিকক্ষ ছাড়িয়া প্রস্থান করিল। রেগে গেল কেন? যাহোক, তখন হতভম্ব হয়েছিলাম—খেয়াল করলে দেখবেন প্রথম বাক্যটি সাধু ভাষায় লিখিয়াছিলাম, অথচ পরে প্রমথ চৌধুরীর চলিত ভাষায় লিখছি। আদৌ কী হতভম্ব হলাম? এখন দেখছি হিন্দিমে ভি বাত করনা শুরু হো গ্যায়া, ইয়ে কিস তরহ কা বিমারি হ্যায়! ঈশ্বর, হতভম্ব কেন হলাম?