পর্ব ১২: বাবার আসল নাম

“জন্মসনদে লেখা তারিখ মানুষকে পৃথিবীতে আসার দিনটা জানায়। কিন্তু কেউ যদি তোমার জন্মের আগেই তোমার গল্প লিখে রাখে, তাহলে তোমার আসল জন্মদিন কোনটা?”

১. রাত বারোটার অপেক্ষা

রাত তখন এগারোটা চল্লিশ।

নানাভাইয়ের পুরোনো বাড়িতে আমি একা। মা ফোনে বারবার বলছেন, যেন রাতটা বাড়িতে না কাটাই। শওকত রহমানের কোনো খোঁজ নেই। আর আহমাদ মূসা—সে আমার মেসেজের উত্তর দিচ্ছে না।

টেবিলের ওপর লাল ডায়েরিটা রাখা।

সেই ডায়েরি, যার পাতায় পাতায় আমার অতীতের এমন সব ঘটনা লেখা আছে, যেগুলো মনে করার কথা আমার নয়।

আমি ডায়েরিটা খুললাম।

প্রথম পাতায় নানাভাইয়ের হাতের লেখা—

“যে মানুষ নিজের জন্মের গল্প জানে না, সে অন্যের লেখা গল্পে নিজের পরিচয় খুঁজে বেড়ায়।”

পাতা উল্টাতে উল্টাতে শেষের দিকে এলাম।

শেষ পাতাটা অন্য পাতাগুলোর চেয়ে মোটা। মনে হলো, ভেতরে কিছু একটা লুকানো আছে। পাতার নিচের অংশে সরু একটা ভাঁজ।

আমি সাবধানে ভাঁজটা খুলতেই একটা ছোট্ট ছবি মেঝেতে পড়ে গেল।

ছবিতে এক যুবক, কোলে একটা শিশু। পাশে দাঁড়িয়ে একজন নারী।

যুবকটির মুখ দেখেই আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

এই মুখ আমি দেখেছি।

পুরোনো ছবিতে।

হাসপাতালের নথিতে।

আর আহমাদ মূসার পাঠানো সেই ছবিতেও।

ছবির পেছনে লেখা—

“রৌদ্রময়ীর জন্মের সাত বছর আগে। ২৮ অক্টোবর ১৯৯৮।”

আমি ছবিটা উল্টে আবার দেখলাম।

শিশুটির গলায় একটা ছোট্ট লকেট। লকেটের ওপর খোদাই করা—A.M.

আর যুবকটির নিচে লেখা নাম—

আহমাদ মূসা।

আমার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।

নানাভাইয়ের ডায়েরিতে যে নামকে এতদিন একটা রহস্যময় ছদ্মনাম ভেবেছি, সেই নামের মানুষ একটা শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

কিন্তু ছবির পেছনে আরও একটা লাইন ছিল।

“এই শিশুর জন্মের কথা কেউ জানবে না। কারণ একদিন এই শিশুই এমন একটি গল্প লিখবে, যার মধ্যে তার নিজের জন্মের রহস্য লুকিয়ে থাকবে।”

আমি ছবিটা শক্ত করে ধরে রইলাম।

শিশুটি কে?

আমি?

নাকি অন্য কেউ?

ঠিক তখনই ঘড়িতে বারোটা বাজল।

আমার ফোনে একটা মেসেজ এল।

আহমাদ মূসা।

“শেষ পাতাটা খুলেছ?”

আমি লিখলাম, “হ্যাঁ। ছবির শিশুটি কে?”

উত্তর এল—

“তোমার জন্মসনদটা দেখো।”

২. যে জন্মসনদে দুটি জন্মতারিখ

ডায়েরির শেষ পাতার ভেতর থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করলাম।

পুরোনো জন্মসনদ।

কাগজের ওপর আমার নাম লেখা—রৌদ্রময়ী মীরা।

মায়ের নাম—মীরা রহমান।

বাবার নামের জায়গায় লেখা—

আহমাদ মূসা।

কিন্তু জন্মতারিখের ঘরে যা লেখা ছিল, সেটা পড়ে আমার নিশ্বাস আটকে গেল।

২৮ অক্টোবর ১৯৯৮।

আমি তো জানি, আমার জন্ম ২৮ অক্টোবর ২০০৫-এ!

আমার জন্মের তারিখটা সাত বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে?

নাকি আমার জানা জন্মতারিখটাই মিথ্যে?

কাগজের নিচে একটা লাল কালির দাগ। তার পাশে হাতে লেখা—

“প্রথম নথি বাতিল। দ্বিতীয় পরিচয় কার্যকর: ২৮ অক্টোবর ২০০৫।”

আমি বারবার লাইন দুটো পড়লাম।

একই শিশুর দুটি জন্মতারিখ।

একই নামের দুটি জীবন।

একটি ১৯৯৮ সালের, অন্যটি ২০০৫ সালের।

হঠাৎ মনে পড়ল, ছোটবেলায় মা আমার জন্মদিনে কখনো পুরোনো ছবি দেখাতেন না। বলতেন, সব ছবি হারিয়ে গেছে।

কিন্তু ছবি হারায়নি।

ছবিগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

কেন?

আমি আহমাদ মূসাকে লিখলাম—

“আমার জন্ম কি ১৯৯৮ সালে?”

উত্তর এল না।

তার বদলে একটা অডিও ফাইল এল।

ফাইলের নাম—

“রৌদ্রময়ী_জন্মের_সত্য.mp3”

আমি প্লে করলাম।

একজন বৃদ্ধের কণ্ঠ।

নানাভাই।

“রৌদ্রময়ী, তুমি যদি এই রেকর্ডিং শুনে থাকো, তাহলে বুঝব আমি তোমাকে সত্যিটা বলতে পারিনি।

তোমার জন্মের তারিখ বদলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তোমার জন্ম বদলে দেওয়া হয়নি।

তুমি ১৯৯৮ সালের ২৮ অক্টোবর জন্মেছিলে—এ কথা সত্যি নয়।

আবার ২০০৫ সালের ২৮ অক্টোবর তোমার জন্ম—এ কথাও পুরো সত্যি নয়।

কারণ জন্ম শুধু শরীরের নয়, পরিচয়েরও হয়।

আর তোমার জীবনে দুটো জন্ম ঘটেছিল।”

আমি রেকর্ডার থামিয়ে দিলাম।

আমার মাথার ভেতর সবকিছু ঘুরছিল।

নানাভাই কি বলতে চাইছেন, আমার শৈশবের কোনো অংশ মুছে ফেলা হয়েছে?

রেকর্ডিং আবার চালু করলাম।

“তোমার প্রথম পরিচয় ছিল অন্য একটি নামে। সেই পরিচয়কে মুছে দিয়ে তোমাকে রৌদ্রময়ী করা হয়েছিল। কারণ তোমার বাবা বিশ্বাস করতেন, তার লেখা গল্প একদিন বাস্তবের মানুষের জীবন বদলে দেবে।

তিনি ভুল ছিলেন না।

কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি, গল্পের সবচেয়ে বিপজ্জনক চরিত্রটা তার নিজের মেয়ে হয়ে উঠবে।”

রেকর্ডিং শেষ।

আমি টেবিলে মাথা রেখে বসে পড়লাম।

আমার বাবা কি সত্যিই লেখক ছিলেন?

তিনি কি আহমাদ মূসা?

আর আমার প্রথম নামটা কী ছিল?

৩. বাবার কণ্ঠ

রাত বারোটা সতেরো মিনিটে ফোন বেজে উঠল।

অজানা নম্বর।

আমি ধরতেই ওপাশ থেকে এক পুরুষের কণ্ঠ এল।

—রৌদ্রময়ী?

—কে বলছেন?

—আমি জানি, তুমি এখন লাল ডায়েরির শেষ পাতা পড়ছ।

আমি চুপ করে রইলাম।

—তুমি নিশ্চয়ই ভাবছ, তোমার বাবা আহমাদ মূসা। কিন্তু নামটা আমার ছিল না।

আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

—তাহলে আপনি কে?

—আমি সেই মানুষ, যে আহমাদ মূসাকে প্রথমবার নিজের নাম হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

—আপনি কি আমার বাবা?

ওপাশে দীর্ঘ নীরবতা।

তারপর কণ্ঠটা বলল,

—তোমার বাবা হওয়ার জন্য একজন মানুষের তোমাকে জন্ম দিতে হয়। কিন্তু তোমার জীবনের গল্পে বাবা হওয়ার জন্য আমাকে তার চেয়েও বেশি কিছু করতে হয়েছিল।

—আপনি কি অনিরুদ্ধ সেন?

—না।

—মাহতাব রহমান?

—না।

—তাহলে আপনার নাম কী?

লোকটা ধীরে ধীরে বলল,

—আমার নাম একসময় ছিল আরিফের বাবা।

আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।

আরিফের বাবা?

তাহলে কি তিনি সেই অনিরুদ্ধ সেন, যিনি দাবি করেছিলেন আহমাদ মূসা তাঁর ছদ্মনাম? নাকি অন্য কেউ?

আমি প্রশ্ন করার আগেই লোকটা বলল,

—তুমি আরিফকে খুঁজছ। কিন্তু আরিফকে খুঁজে পাওয়ার আগে তোমাকে জানতে হবে, তোমার জন্মের আগে সে কীভাবে তোমার জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছিল।

—এটা কীভাবে সম্ভব?

—কারণ আরিফ তোমার চেয়ে সাত বছর বড় ছিল। তোমার জন্মের আগেই তার জীবনে আহমাদ মূসা নামের মানুষটি ছিল। আর তোমার জন্মের পর সেই নাম তোমার জীবনেও ঢুকে পড়ে।

—কেন?

—কারণ তোমার বাবা একটা গল্প লিখেছিলেন। সেই গল্পে এমন একটি মেয়ের জন্মের কথা ছিল, যে একদিন তার বাবার লেখা শেষ করবে।

আমি ফিসফিস করে বললাম,

—আমি?

—হ্যাঁ, রৌদ্রময়ী। কিন্তু একটা কথা মনে রেখো। গল্পে ভবিষ্যৎ লেখা যায়। বাস্তবে ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায় না।

তারপর লোকটা বলল,

—তোমার আসল নাম জানতে চাইলে আগামীকাল তোমার মায়ের কাছে যাও। তাকে জিজ্ঞেস করবে, জন্মের পর প্রথমবার সে তোমাকে কী নামে ডেকেছিল।

—আপনি কি আমার বাবা?

এবার লোকটা উত্তর দিল।

—আমি তোমার বাবাকে চিনি। কিন্তু তোমার বাবা কে, সেটা তোমার মা-ই বলতে পারবে।

কল কেটে গেল।

৪. যে নামটি মা মুছে দিয়েছিলেন

আমি মাকে ফোন করলাম।

তিনি প্রথমবারেই ধরলেন।

—মা, আমার জন্মের পর তুমি আমাকে প্রথম কী নামে ডেকেছিলে?

ওপাশে কোনো শব্দ নেই।

—মা?

অনেকক্ষণ পর তিনি বললেন,

—তুই ডায়েরিটা পেয়েছিস?

—হ্যাঁ।

—তাহলে ছবিটাও দেখেছিস?

—হ্যাঁ। আর জন্মসনদও।

মা কাঁদতে শুরু করলেন।

—আমি তোকে রক্ষা করতে চেয়েছিলাম।

—কিসের থেকে?

—একটা নামের থেকে।

আমি চোখ বন্ধ করলাম।

—আমার আসল নাম কী ছিল?

মা কাঁপা গলায় বললেন,

—তোর প্রথম নাম ছিল…

তিনি থেমে গেলেন।

তারপর ফিসফিস করে বললেন—

“আহমাদ।”

আমি যেন কথাটা বুঝতেই পারলাম না।

—কী?

—তোর জন্মের পর তোর বাবা তোকে আহমাদ বলে ডাকতেন। তিনি বলতেন, এই নামের মধ্যে তার নিজের অতীত লুকিয়ে আছে। কিন্তু আমি চাইনি, তুই সারাজীবন তার অতীতের বোঝা বয়ে বেড়াস। তাই তোর নাম বদলে রাখি রৌদ্রময়ী।

আমি কাঁপা গলায় বললাম,

—তাহলে আহমাদ মূসা আমার নামেরই একটা অংশ?

—না, মা। তোর বাবা সেই নাম ব্যবহার করতেন। কিন্তু আহমাদ মূসা শুধু তোর বাবার নাম ছিল না। এটা ছিল একটা পরিচয়, যেটা একাধিক মানুষ ব্যবহার করেছে।

—আমার বাবা কোথায়?

মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন,

—আমি জানি না।

—তুমি কি তাঁকে কখনো দেখেছ?

—শেষবার দেখেছিলাম, যেদিন তিনি তোর জন্য একটা চিঠি রেখে গিয়েছিলেন।

—চিঠিটা কোথায়?

মা উত্তর দিলেন,

—তোর নানাভাইয়ের বাড়িতে। লাল ডায়েরির ঠিক নিচে।

আমি টেবিলের দিকে তাকালাম।

ডায়েরিটা এখনও সেখানে পড়ে আছে।

আমি দ্রুত ডায়েরির নিচে হাত ঢুকিয়ে একটা পাতলা খাম বের করলাম।

খামের ওপরে লেখা—

“আমার মেয়ে আহমাদের জন্য।”

আমার চোখ ঝাপসা হয়ে এল।

খামটা খুলতেই একটা চিঠি বেরিয়ে এল।

“আমার মেয়ে,

তুমি যখন এই চিঠি পড়বে, তখন হয়তো তোমার মনে হবে, আমি তোমাকে একটা মিথ্যে পরিচয়ের মধ্যে রেখে গেছি।

তুমি ভুল ভাববে না।

আমি তোমাকে মিথ্যে পরিচয় দিতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম, তুমি নিজের পরিচয় নিজে বেছে নাও।

তোমার নাম আমি রেখেছিলাম আহমাদ। তোমার মা রেখেছে রৌদ্রময়ী।

এই দুই নামের মধ্যে কোনটা সত্যি, সেটা আমি তোমাকে বলে যাব না।

কারণ নাম মানুষকে পরিচয় দেয়, কিন্তু মানুষ তার নামের চেয়েও বড়।

আমি তোমাকে একদিন বলব, কেন আমি আহমাদ মূসা নামটা ব্যবহার করতাম। কিন্তু তার আগে তোমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে—

আহমাদ মূসা নামের প্রথম মালিক কে ছিল?

যেদিন সেই মানুষটিকে খুঁজে পাবে, সেদিনই তুমি আমাকে খুঁজে পাবে।

—তোমার বাবা”

চিঠির নিচে কোনো স্বাক্ষর নেই।

শুধু একটা ছোট্ট চিহ্ন।

একটা বৃত্তের মধ্যে লেখা A.M.

আমি চিঠিটা বুকের কাছে চেপে ধরলাম।

সাত বছর ধরে আমি যে নামের পেছনে ছুটেছি, সেই নামের সঙ্গে আমার নিজের নামের সম্পর্ক আছে।

কিন্তু এর অর্থ কী?

আমি কি শুধু একজন লেখকের মেয়ে?

নাকি এই গল্পের জন্মই হয়েছিল আমাকে ঘিরে?

৫. শেষ মেসেজ

রাত একটা বেজে গেছে।

আমি ফোনে আহমাদ মূসার ইনবক্স খুললাম।

নতুন মেসেজ এসেছে।

“তুমি তোমার প্রথম নামটা জেনেছ?”

আমি লিখলাম,

“হ্যাঁ। আহমাদ।”

উত্তর এল—

“তাহলে এবার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর খুঁজো।”

“কী প্রশ্ন?”

“তোমার বাবা কেন তোমার নাম আহমাদ রেখেছিলেন, অথচ নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন আহমাদ মূসা?”

আমি লিখলাম,

“তুমি জানো?”

উত্তর এল—

“জানি। কিন্তু আমি বললে তুমি বিশ্বাস করবে না।”

“তাহলে প্রমাণ দাও।”

কয়েক সেকেন্ড পর একটা ছবি এল।

পুরোনো টাইপরাইটারে লেখা একটা পাণ্ডুলিপি। প্রথম পাতায় শিরোনাম—

“অস্তিত্বহীন আহমাদ মূসা”

লেখকের নামের জায়গায় লেখা—

রৌদ্রময়ী আহমাদ।

আমার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

আমি তো এই গল্প লিখিনি!

ছবির নিচে আহমাদ মূসার মেসেজ—

“এই পাণ্ডুলিপি লেখা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। তোমার জন্মের আগে।”

আমি কাঁপা হাতে লিখলাম,

“তাহলে লেখক কে?”

উত্তর এল—

“যে মানুষটি তোমাকে জন্ম দিয়েছে, সে নয়। যে মানুষটি তোমার নাম রেখেছে, সেও নয়।”

তারপর আরেকটা মেসেজ।

“তোমার বাবা এই গল্পের লেখক নন, রৌদ্রময়ী। তিনি নিজেও এই গল্পের একটা চরিত্র।”

আমি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলাম।

আরেকটা মেসেজ এল।

“আগামীকাল তোমার মা তোমাকে একটা সত্য বলবেন। কিন্তু তিনি যা বলবেন, তার অর্ধেক বিশ্বাস করবে। কারণ তোমার জন্মের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।”

আমার হাত অবশ হয়ে গেল।

মা যদি আমার জন্মের সময় সেখানে না থাকেন, তাহলে আমাকে জন্ম দিয়েছিল কে?

ঠিক তখনই ফোনের স্ক্রিনে আরেকটা নোটিফিকেশন ভেসে উঠল।

প্রেরক—নীরব পাঠক।

মেসেজে লেখা—

“রৌদ্রময়ী, আহমাদ মূসাকে আর খুঁজো না। কারণ তুমি যাকে খুঁজছ, সে কোনোদিন তোমার বাবা ছিল না।”

আমি উত্তর লিখতে গেলাম।

কিন্তু তার আগেই অ্যাকাউন্টটা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেল।

আর লাল ডায়েরির শেষ পাতায়, যেখানে একটু আগেও কোনো লেখা ছিল না, সেখানে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল নতুন একটা বাক্য।

কালো কালিতে লেখা—

“২৮ অক্টোবর ১৯৯৮-এ জন্মেছিল যে শিশু, সে-ই ২৮ অক্টোবর ২০২৬-এ আহমাদ মূসার মৃত্যু ঘটাবে।”

আজ ২৮ অক্টোবর ২০২৬।

আর ঘড়িতে তখন ঠিক রাত একটা সতেরো মিনিট।

পরবর্তী পর্ব: ১৩ — “যে শিশুর জন্ম হয়নি”

রৌদ্রময়ী কি সত্যিই ২০০৫ সালে জন্মেছিল? নাকি তার পরিচয় তৈরি করা হয়েছিল সাত বছর আগে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার আড়াল করতে?

আর সবচেয়ে বড় রহস্য—যে শিশুর জন্মসনদে ১৯৯৮ সালের তারিখ লেখা, সে কি রৌদ্রময়ী নিজেই, নাকি এমন কেউ, যার অস্তিত্ব মুছে দিয়ে তাকে নতুন নাম দেওয়া হয়েছিল?

২৮ অক্টোবর ২০২৬—আহমাদ মূসার মৃত্যুর দিন।