পর্ব ১০: আরিফের দ্বিতীয় জীবন

“মৃত্যু সব সময় মানুষের শরীর থামিয়ে দেয় না। কখনো কখনো মৃত্যু শুধু একটা নাম মুছে দেয়—আর সেই নামের আড়ালে মানুষটা বেঁচে থাকে।”

১. যে মানুষটির মৃত্যু হয়নি

লোকটা ছবিটা টেবিলের ওপর রেখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।

ছবিতে আমি, আরিফ আর সে।

তারিখ—২৮ অক্টোবর ২০১৯।

সাত বছর আগের একটা দিন। যে দিনটাকে আমি এতদিন আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর রাত বলে জেনেছি। যে রাতের পর সবাই আমাকে বুঝিয়েছিল, আরিফ আর নেই।

কিন্তু ছবির পেছনে লেখা কথাটা আমার সমস্ত বিশ্বাসকে এক মুহূর্তে ভেঙে দিল।

“যে মারা গেছে, সে নয়। যে বেঁচে আছে, সে-ই মৃত।”

আমি লোকটার দিকে তাকালাম।

—আপনি কে?

সে মৃদু হাসল।

—এই প্রশ্নের উত্তর জানলে তুমি আমাকে আর বিশ্বাস করবে না।

—আপনি কি আরিফকে চেনেন?

—চিনতাম।

—আরিফ কি বেঁচে আছে?

এবার তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

—এই প্রশ্নটার উত্তর দেওয়ার আগে তোমাকে একটা জিনিস শুনতে হবে।

সে কোটের ভেতর থেকে ছোট্ট একটা কালো রেকর্ডার বের করল। পুরোনো যন্ত্র। গায়ে ধুলো, পাশে আঁচড়ের দাগ। তার নিচে সাদা কাগজে লেখা—

ARIF — FINAL RECORDING

আমি রেকর্ডারটা হাতে নিতেই লোকটা বলল,

—এটা আজ সকালেই পেয়েছি। তোমার নানাভাইয়ের বাড়ির পেছনের ঘরে, মেঝের নিচে।

আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

—নানাভাই তো পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন!

—মানুষ মারা যাওয়ার পরও অনেক কিছু রেখে যায়, রৌদ্রময়ী। কখনো সম্পত্তি, কখনো অপরাধ, কখনো এমন সত্য—যেটা জানার পর বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে যায়।

আমি প্লে বোতামে চাপ দিলাম।

প্রথমে শোঁ শোঁ শব্দ।

তারপর একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস।

আর তারপর—

—রৌদ্রময়ী… যদি তুমি এই রেকর্ডিং শুনে থাকো, তার মানে আমি আমার দ্বিতীয় জীবনটাও হারিয়ে ফেলেছি।

আমার হাত থেকে রেকর্ডারটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।

কণ্ঠটা আরিফের।

সাত বছর ধরে যে কণ্ঠকে আমি শুধু স্বপ্নে শুনেছি, যে কণ্ঠের স্মৃতি আমার ভেতরে অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেই কণ্ঠই আমাকে ডাকছে।

—তুমি হয়তো ভাবছ, আমি মরে গেছি। সবাই তোমাকে সেটাই বলেছে। কিন্তু আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই—আমি মারা যাইনি। অন্তত সেদিন না।

রেকর্ডিং থেমে গেল।

আমি হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম,

—বাকি অংশ কোথায়?

লোকটা রেকর্ডারটা আমার হাত থেকে নিয়ে আবার চালু করল।

আরিফের কণ্ঠ ফিরে এল।

—২৮ অক্টোবর ২০১৯-এ আমার মৃত্যু হয়েছিল কাগজে-কলমে। কিন্তু তার আগের রাতে আমি জানতে পেরেছিলাম, আমার জীবনটা অন্য একজনের লেখা গল্পের অংশ। আমার নাম, আমার পরিবার, এমনকি আমার মৃত্যুর তারিখও কেউ আগে থেকে লিখে রেখেছিল।

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর আরিফ বলল,

—আমি পালিয়ে গিয়েছিলাম, রৌদ্রময়ী। কিন্তু পালানোর আগে একটা ভুল করেছিলাম। আমি তোমাকে সত্যিটা জানাইনি।

আমি চোখ বন্ধ করলাম।

আমার মাথার ভেতরে একটা কথাই ঘুরছিল।

আরিফ বেঁচে ছিল। সাত বছর ধরে।

তাহলে এতদিন আমি কাকে হারানোর শোক বয়ে বেড়িয়েছি?

আর আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা এত কিছু জানে কীভাবে?

২. আগামীকালের তারিখ

রেকর্ডিংয়ের শেষ অংশে একটা অদ্ভুত শব্দ হলো।

টিক।

তারপর আরিফের কণ্ঠ—

—যদি কখনো আহমাদ মূসা তোমার সঙ্গে আবার কথা বলে, তাকে একটা প্রশ্ন করবে। জিজ্ঞেস করবে, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সে কোথায় থাকবে।

আমি চমকে উঠে রেকর্ডারের ডিসপ্লের দিকে তাকালাম।

সেখানে ছোট ছোট অক্ষরে লেখা ছিল—

RECORDING DATE: 28 OCT 2026

আমার গলা শুকিয়ে গেল।

আজ ২৭ অক্টোবর ২০২৬।

রেকর্ডিংটা তাহলে আগামীকালের?

অসম্ভব।

আমি লোকটার দিকে তাকিয়ে বললাম,

—এটা কীভাবে সম্ভব? আজ তো সাতাশে অক্টোবর!

লোকটা শান্তভাবে উত্তর দিল,

—রেকর্ডারটা আমি আজ পেয়েছি। কিন্তু এর ভেতরের রেকর্ডিং আগামীকালের তারিখে সংরক্ষিত।

—আপনি কি বলতে চাইছেন, আরিফ আগামীকাল এই রেকর্ডিং করেছে?

—আমি কিছুই বলতে চাইছি না। আমি চাই তুমি নিজেই বুঝে নাও।

—আপনি কি আরিফ?

প্রশ্নটা করেই আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম।

লোকটা মাথা নাড়ল।

—না।

—তাহলে আপনি কে?

সে এবার পকেট থেকে একটা পরিচয়পত্র বের করল। পরিচয়পত্রটা পুরোনো, ছবিটা প্রায় মুছে গেছে। কিন্তু নামটা স্পষ্ট—

শওকত রহমান।

আমি নামটা চিনতে পারলাম। মাহতাব রহমানের পুরোনো সহকর্মী। সেই মানুষ, যিনি একদিন বলেছিলেন—কিছু মানুষ অন্যের লেখা পড়ে নিজের জীবন বদলে ফেলে।

আমি ফিসফিস করে বললাম,

—আপনি তো বলেছিলেন, আরিফকে চিনতেন।

—চিনতাম। ও যখন নিজের মৃত্যু সাজিয়েছিল, তখন ওর পাশে আমিই ছিলাম।

—কেন?

শওকত রহমান জানালার বাইরে তাকালেন।

—কারণ ও জানতে পেরেছিল, আহমাদ মূসা আসলে একজন মানুষ নয়। এটা একটা নাম, যেটা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ ব্যবহার করেছে। আর সেই নামের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এমন কিছু ঘটনা, যেগুলো প্রকাশ পেলে কয়েকটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যেত।

—তাহলে আমার সঙ্গে যে ফেসবুকে কথা বলে?

—সে-ও একজন মানুষ। কিন্তু সে আরিফ নয়।

আমার বুকের ভেতর হিমশীতল একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল।

—তাহলে সে কে?

শওকত রহমান উত্তর দিলেন না।

শুধু বললেন,

—এই প্রশ্নের উত্তর পেলে তুমি বুঝবে, তোমার গল্পে সবচেয়ে বড় মিথ্যাটা কে লিখেছিল।

৩. আহমাদ মূসার উত্তর

আমি কাঁপা হাতে ফোন বের করলাম।

আহমাদ মূসার ইনবক্স খুলে লিখলাম—

“২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তুমি কোথায় থাকবে?”

মেসেজটা পাঠানোর পর কয়েক সেকেন্ড কোনো উত্তর এল না।

তারপর স্ক্রিনে ভেসে উঠল—

Ahmad Musa is typing…

আমার নিঃশ্বাস আটকে গেল।

উত্তর এল।

“তুমি রেকর্ডিংটা শুনেছ?”

আমি লিখলাম,

“তুমি জানলে কীভাবে?”

“কারণ আমি জানতাম, শওকত তোমার কাছে যাবে।”

আমি শওকতের দিকে তাকালাম।

তিনি নির্বিকারভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

আমি আবার লিখলাম,

“আগামীকাল তুমি কোথায় থাকবে?”

এবার উত্তর আসতে একটু সময় লাগল।

“যেখানে আমার প্রথম মৃত্যু হয়েছিল।”

আমার আঙুল থেমে গেল।

“তোমার প্রথম মৃত্যু?”

“হ্যাঁ, রৌদ্রময়ী। কারণ আহমাদ মূসার মৃত্যু একবার হয়নি।”

আমি লিখলাম,

“তুমি কি আরিফ?”

উত্তর এল না।

তার বদলে একটা ছবি এল।

ছবিটা দেখে আমার মনে হলো, ঘরের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে গেছে।

একটা হাসপাতালের করিডর। দেয়ালে ঝোলানো পুরোনো ঘড়ি। ঘড়ির কাঁটা আটটা সতেরো মিনিটে থেমে আছে।

করিডরের শেষ মাথায় একটা দরজা।

দরজার ওপর লেখা—

মৃত রোগীর নথি — ২৮ অক্টোবর ২০১৯

ছবির নিচে আহমাদ মূসা লিখেছে—

“তোমার মা যে রাতে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন, সেদিন তিনি একটা নাম বলেছিলেন। তুমি কি জানো, সেই নামটা কার?”

আমি লিখলাম,

“কার?”

উত্তর এল—

“রৌদ্রময়ী।”

আমি অবাক হয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলাম।

—আমার নাম?

শওকত রহমান ধীরে ধীরে আমার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ছবিটা দেখলেন। তারপর তাঁর মুখের রং বদলে গেল।

—এটা কোথায় পেলে?

—আহমাদ মূসা পাঠিয়েছে।

তিনি ছবিটা বড় করে দেখলেন। হাসপাতালের দরজার পাশে একটা ছোট্ট ফলক ছিল, যা প্রথমে আমার চোখে পড়েনি।

সেখানে লেখা—

“বিশেষ পর্যবেক্ষণ কক্ষ — রোগী: রৌদ্রময়ী মীরা।”

আমি পিছিয়ে গেলাম।

—এটা কীভাবে সম্ভব? আমি তো কখনো এই হাসপাতালে ভর্তি হইনি!

শওকত রহমান কোনো উত্তর দিলেন না।

কিন্তু তাঁর চোখে আমি এমন একটা ভয় দেখলাম, যা আগে কখনো দেখিনি।

৪. যে রাতের কথা কেউ বলেনি

আমি মাকে ফোন করলাম।

একবার।

দুবার।

তিনবার।

কেউ ধরল না।

চতুর্থবার ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে মায়ের দুর্বল কণ্ঠ ভেসে এল।

—রৌদ্রময়ী?

—মা, তুমি কি ২৮ অক্টোবর ২০১৯-এর রাতে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলে?

ওপাশে নীরবতা।

—মা, উত্তর দাও!

মা কাঁপা গলায় বললেন,

—তুই এসব কোথায় শুনলি?

—আমি কি ওই রাতে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম?

মায়ের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।

—তুই কিছু মনে করতে পারিস না, মা। ডাক্তাররা বলেছিল, কিছু স্মৃতি ফিরে এলে তোর আবার সমস্যা হতে পারে।

আমার পায়ের নিচের মাটি যেন সরে গেল।

—কী হয়েছিল আমার?

মা কাঁদতে শুরু করলেন।

—তুই সেদিন একটা দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে এসেছিলি। তোর সঙ্গে আরিফ ছিল না। অন্তত, আমরা যখন পৌঁছাই, তখন ও সেখানে ছিল না।

—তাহলে সবাই বলল, আরিফ মারা গেছে কেন?

—কারণ পুলিশ একটা মৃতদেহ পেয়েছিল। আর সেই দেহের পাশে আরিফের পরিচয়পত্র ছিল।

আমি ফিসফিস করে বললাম,

—কিন্তু মৃতদেহটা কি আরিফের ছিল?

মা উত্তর দিলেন না।

আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম,

—মা, তুমি কি জানো মৃতদেহটা কার ছিল?

অনেকক্ষণ পর মা বললেন,

—আমি জানতাম না। কিন্তু তোর নানাভাই জানতেন।

—তাহলে তিনি আমাকে বলেননি কেন?

মায়ের কণ্ঠ আরও নিচু হয়ে এল।

—কারণ তোর নানাভাই বিশ্বাস করতেন, কিছু সত্য মানুষকে বাঁচায় না। শুধু তাদের অস্তিত্ব বদলে দেয়।

হঠাৎ ফোনের ওপাশে একটা শব্দ হলো।

যেন কেউ মায়ের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নিল।

তারপর অপরিচিত একটা কণ্ঠ বলল,

—মীরাকে আর প্রশ্ন কোরো না, রৌদ্রময়ী।

আমি জমে গেলাম।

কণ্ঠটা পুরুষের।

কিন্তু কোথায় যেন শুনেছি।

—আপনি কে?

লোকটা হালকা হাসল।

—তুমি আমাকে অনেক বছর ধরে চেনো।

—আপনি কি আহমাদ মূসা?

—না।

একটু বিরতি।

তারপর সে বলল,

—আমি সেই মানুষ, যে আরিফের মৃতদেহের পরিচয় বদলে দিয়েছিল।

কল কেটে গেল।

৫. দ্বিতীয় জীবনের দরজা

রাত তখন প্রায় শেষের দিকে।

শওকত রহমান আমাকে নানাভাইয়ের বাড়ির পেছনের ঘরে নিয়ে গেলেন। মেঝের নিচে যেখানে রেকর্ডারটা পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে একটা ছোট্ট লোহার বাক্স ছিল।

বাক্সের ভেতর তিনটি জিনিস।

একটা হাসপাতালের নথি।

একটা পুরোনো সিমকার্ড।

আর একটা চিঠি।

চিঠির ওপরে আমার নাম।

“রৌদ্রময়ীর জন্য। শুধু তখনই খুলবে, যখন আরিফের দ্বিতীয় জীবনের কথা জানতে পারবে।”

আমি কাঁপা হাতে চিঠিটা খুললাম।

ভেতরে মাত্র কয়েকটি লাইন।

“রৌদ্রময়ী,

তুমি যদি এই চিঠি পড়ে থাকো, তাহলে বুঝতে হবে, আমার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।

আমি আরিফকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কাউকে বাঁচানোর জন্য কখনো কখনো তার পরিচয় কেড়ে নিতে হয়।

তোমরা যাকে আরিফ বলে চিনতে, সে সাত বছর আগে মারা যায়নি। সে বেঁচে আছে, কিন্তু আরিফ নামে নয়।

তার নতুন নাম আমি লিখে রাখিনি।

কারণ নামটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় বিপদ।

তবে একটা কথা মনে রেখো—তোমার জীবনে যে মানুষটি বারবার ফিরে এসেছে, সে হয়তো তোমাকে চিনত তোমার নিজের চেয়েও বেশি।

আর সেই কারণেই তাকে বিশ্বাস করা বিপজ্জনক।

—নানাভাই”

চিঠিটা পড়ে আমি শওকত রহমানের দিকে তাকালাম।

—আরিফ এখন কোথায়?

তিনি বললেন,

—আমি জানি না।

—কিন্তু আপনি তো ওকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন!

—সাত বছর আগে। তারপর থেকে ও নিজেই নিজের পথ বেছে নিয়েছে।

—তাহলে আহমাদ মূসা কে?

শওকত রহমান এবার আমার চোখের দিকে তাকালেন।

—এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এসে গেছে। কিন্তু উত্তরটা আমি দেব না।

তিনি বাক্সের ভেতর থেকে পুরোনো সিমকার্ডটা তুলে আমার হাতে দিলেন।

—এটা একটা ফোনে ঢোকাও। শেষবার এই সিম থেকে যে নম্বরে কল করা হয়েছিল, সেটাই তোমাকে আরিফের কাছে নিয়ে যাবে।

আমি সিমকার্ডটা শক্ত করে মুঠোয় ধরলাম।

ঠিক তখনই আমার ফোনে নতুন একটা মেসেজ এল।

আহমাদ মূসা।

“কাল সকাল আটটা সতেরো মিনিটে পুরোনো হাসপাতালের ১৭ নম্বর কক্ষে এসো। একা।”

তারপর আরেকটা মেসেজ।

“তুমি যদি জানতে চাও, আরিফ কেন নিজের মৃত্যু লিখেছিল, তাহলে আগামীকাল তোমাকে তোমার নিজের মৃত্যুর গল্পটাও পড়তে হবে।”

আমি স্থির হয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলাম।

কয়েক মুহূর্ত পর আরেকটা মেসেজ এল।

এবার প্রেরক—

নীরব পাঠক।

“আহমাদ মূসাকে বিশ্বাস কোরো না। আগামীকাল যে তোমার সঙ্গে দেখা করবে, সে আরিফ নয়।”

আমি দ্রুত লিখলাম,

“তাহলে কে?”

উত্তর এল সঙ্গে সঙ্গে।

“যে মানুষটাকে তুমি সাত বছর আগে নিজের হাতে কবর দিয়েছিলে।”

আমার হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল।

কারণ আমি হঠাৎ মনে করতে পারলাম—

২৮ অক্টোবর ২০১৯-এর রাতে, হাসপাতালের সাদা ঘরে, একটা মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে আমি কেঁদেছিলাম।

আমি সেই মৃতদেহের মুখ দেখিনি।

কিন্তু কফিনে মাটি দেওয়ার আগে নিজের হাতে একটা কাগজ রেখেছিলাম।

সেই কাগজে লেখা ছিল—

“বিদায়, আহমাদ মূসা।”

পরবর্তী পর্ব: ১১ — “সকাল ৮টা ১৭ মিনিট”

আগামীকাল পুরোনো হাসপাতালের ১৭ নম্বর কক্ষে কে অপেক্ষা করবে—আরিফ, আহমাদ মূসা, নাকি এমন কেউ, যার অস্তিত্ব রৌদ্রময়ী নিজেই মুছে দিয়েছিল?

আর সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্ন—

সাত বছর আগে সে কাকে কবর দিয়েছিল?