পর্ব ৮: লেখকের মুখোশ
“যে মানুষ গল্প লেখে, সে চরিত্রের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। কিন্তু কোনো চরিত্র যদি একদিন লেখকের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করে—‘আমার জীবনটা নষ্ট করার অধিকার তোমাকে কে দিয়েছে?’—তখন লেখক কী উত্তর দেবে?”
পুরোনো রেলস্টেশনের অন্ধকারে লোকটা দাঁড়িয়ে ছিল।
তার পায়ের কাছে পড়ে আছে নীল মলাটের বই—অস্তিত্বহীন আহমাদ মূসা।
রৌদ্রময়ী ফোনের আলোটা লোকটার মুখের দিকে ধরল।
“আপনি কে?”
লোকটি উত্তর দিল না।
বরং বলল, “তোমার হাতে যে বইটা আছে, তার শেষ পাতাটা পড়েছ?”
“না।”
“তাহলে তুমি এখনো জানো না, তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় মিথ্যেটা কে লিখেছিল।”
রৌদ্রময়ী এক পা এগিয়ে গেল।
“আপনি কি আমার বাবা?”
লোকটি হাসল।
“এই প্রশ্নটা তোমার বাবা নিজেকেও করতেন।”
“মানে?”
“তিনি জানতেন না, তিনি একজন মানুষ, নাকি এমন একটা চরিত্র, যাকে অন্য কেউ লিখছে।”
নাজনীন হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন, “চুপ করো! তুমি আবার ওকে বিভ্রান্ত করতে এসেছ!”
লোকটি এবার নাজনীনকে দেখল।
“তুমি তো বলেছিলে, এই গল্পটা আর কখনো খুলবে না।”
“আমি ভুল করেছিলাম।”
“না, নাজনীন। তুমি ভুল করোনি। তুমি শুধু ভেবেছিলে, একটা গল্পের শেষ পাতা ছিঁড়ে ফেললেই গল্পটা শেষ হয়ে যায়।”
লোকটি ধীরে ধীরে রৌদ্রময়ীর দিকে এগিয়ে এল।
“তোমার বাবা একটা পাণ্ডুলিপি লিখেছিলেন। সেই পাণ্ডুলিপিতে তাঁর ছেলের মৃত্যু ছিল, তাঁর স্ত্রীর অন্তর্ধান ছিল, আর ছিল এমন একটি মেয়ের জন্ম—যে একদিন এসে তাঁর লেখা সবকিছু বদলে দেবে।”
রৌদ্রময়ীর গলা শুকিয়ে গেল।
“মেয়েটি কি আমি?”
“তোমার জন্মের আগেই তোমার নাম লেখা হয়েছিল, রৌদ্রময়ী।”
“কেন?”
লোকটি এবার তার মুখের খুব কাছে এসে দাঁড়াল।
“কারণ তোমার বাবা চেয়েছিলেন, কেউ একজন যেন তাঁর গল্পের শেষটা লিখতে পারে।”
রৌদ্রময়ী মাথা নাড়ল।
“আমি আর এসব ধাঁধা শুনতে চাই না। আপনার আসল নাম বলুন।”
লোকটি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল—
“আমার নাম অনিরুদ্ধ সেন। আর এই নামেই আমাকে একদিন মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল।”
১. মৃত মানুষের পরিচয়
শওকত রহমান যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
“অনিরুদ্ধ!”
লোকটি তাঁর দিকে তাকাল।
“অনেক বছর হয়ে গেল, শওকত।”
“তুমি বেঁচে আছ?”
“তোমার কাছে আমি বহু আগেই মারা গেছি। কিন্তু আমার গল্পটা তো বেঁচে আছে।”
শওকত পেছনে সরে গেলেন।
“তোমার মৃত্যুসনদ আমি নিজের হাতে দেখেছি।”
“মৃত্যুসনদে একটা নাম লেখা ছিল। একটা মুখ নয়।”
রৌদ্রময়ী দুজনের দিকে তাকিয়ে রইল।
“আপনারা কী নিয়ে কথা বলছেন? কেউ কি আমাকে সত্যিটা বলবেন?”
অনিরুদ্ধ এবার তার দিকে ফিরলেন।
“তোমার বাবা ছিলেন লেখক। তিনি নিজের আসল নাম গোপন রেখে লিখতেন। প্রথমে আহমাদ মূসা নামে, পরে অন্য নামে। তাঁর গল্পগুলোতে তিনি নিজের জীবনের ঘটনাগুলো লিখে রাখতেন।”
“তাহলে আহমাদ মূসা কি আপনার ছদ্মনাম?”
“একসময় ছিল।”
“আর এখন?”
অনিরুদ্ধের মুখে অদ্ভুত একটা হাসি ফুটল।
“এখন আহমাদ মূসা আমার চেয়েও বড় হয়ে গেছে।”
রৌদ্রময়ী বুঝতে পারল না।
অনিরুদ্ধ বলতে লাগলেন, “তোমার বাবা যখন প্রথম আহমাদ মূসা নামটা ব্যবহার করেন, তখন তিনি কেবল একটা পরিচয় লুকাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর লেখা পড়ে মানুষ চরিত্রটাকে বাস্তব বলে বিশ্বাস করতে শুরু করল। কেউ তাকে ভালোবাসল, কেউ ভয় পেল, কেউ আবার নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তার ওপর নির্ভর করল।”
“কিন্তু একটা কাল্পনিক চরিত্র কীভাবে এত কিছু করতে পারে?”
“চরিত্র নিজে কিছু করে না। মানুষ তার নামে কাজ করে।”
এই কথাটা শুনে রৌদ্রময়ীর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
তাহলে এত দিন যে আহমাদ মূসা তাকে মেসেজ পাঠিয়েছে, সে কি কোনো মানুষ?
কেউ কি তার বাবার পুরোনো পরিচয় ব্যবহার করছে?
নাকি সত্যিই কোনো মানুষ তাদের সবার জীবনকে একটা গল্পের মতো সাজিয়ে রেখেছে?
রৌদ্রময়ী ফোন বের করে আহমাদ মূসার ইনবক্স খুলল।
তারপর অনিরুদ্ধের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল—
“আপনি কি আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছেন?”
“না।”
“তাহলে কে পাঠিয়েছে?”
অনিরুদ্ধের চোখ হঠাৎ গম্ভীর হয়ে উঠল।
“যে তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসতে চায়।”
২. আরিফের শেষ চিঠি
শওকত রহমান পকেট থেকে একটি ছোট খাম বের করলেন।
“অনিরুদ্ধ, এবার ওকে চিঠিটা দাও।”
অনিরুদ্ধ কিছুক্ষণ দ্বিধা করলেন। তারপর খামটা রৌদ্রময়ীর হাতে দিলেন।
খামের ওপর আরিফের হাতের লেখা।
রৌদ্রময়ীর জন্য। যদি কোনোদিন সত্যিটা জানার সময় আসে।
রৌদ্রময়ীর হাত কাঁপছিল।
সে চিঠিটা খুলল।
রৌদ্র,
যদি তুমি এই চিঠি পড়ো, তাহলে বুঝবে, আমি তোমাকে সত্যিটা বলতে পারিনি।
তোমার সঙ্গে আমার পরিচয় হওয়ার আগেই আমি তোমার নাম জানতাম। কারণ আমার বাবা তাঁর পাণ্ডুলিপিতে তোমার নাম লিখেছিলেন। প্রথমে ভেবেছিলাম, এটা নিছক কাকতালীয়। পরে বুঝলাম, তিনি এমন সব ঘটনা লিখে রেখেছেন, যেগুলো বাস্তবে ঘটছে।
আমি বাবাকে খুঁজতে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তাঁকে খুঁজে পেলে সব প্রশ্নের উত্তর পাব। কিন্তু তাঁর কাছে পৌঁছানোর আগেই জানতে পারি, আমার জীবনের অনেক ঘটনা অন্য কেউ লিখে রেখেছে।
তোমার নামও।
আমি চাইনি তুমি সেই গল্পের অংশ হও। আমি চেয়েছিলাম, তুমি নিজের জীবন নিজে বেছে নাও।
যদি আমার সঙ্গে কিছু ঘটে, মনে রেখো—তোমার কোনো দোষ ছিল না।
আর একটা কথা।
আহমাদ মূসাকে কখনো জিজ্ঞেস কোরো না, সে কে। তাকে জিজ্ঞেস কোরো, সে কাকে ভয় পায়।
—আরিফ
চিঠিটা পড়ে রৌদ্রময়ীর চোখ ঝাপসা হয়ে গেল।
সাত বছর ধরে সে নিজেকে দোষী ভেবেছে।
আরিফের মৃত্যু, নিজের ভাঙা স্মৃতি, জীবনের সেই অন্ধকার রাত—সবকিছুর জন্য সে নিজেকেই দায়ী করেছে।
কিন্তু আরিফের শেষ চিঠিতে স্পষ্ট লেখা—তার কোনো দোষ ছিল না।
সে ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
“আপনি কি আরিফকে শেষবার দেখেছিলেন?”
অনিরুদ্ধ মাথা নাড়লেন।
“হ্যাঁ।”
“সেদিন কী ঘটেছিল?”
অনিরুদ্ধ উত্তর দিতে গিয়ে থেমে গেলেন।
“সেদিন আরিফ আমাকে খুঁজে পেয়েছিল। সে চেয়েছিল, আমি যেন আহমাদ মূসার গল্পটা শেষ করি। আমি রাজি হইনি।”
“কেন?”
“কারণ গল্পের শেষ পাতায় তার মৃত্যু লেখা ছিল।”
রৌদ্রময়ী শিউরে উঠল।
“আপনি কি জানতেন, সে মারা যাবে?”
“আমি সেটা লিখেছিলাম। কিন্তু আমি চাইনি, সেটা সত্যি হোক।”
“তবু আপনি গল্পটা শেষ করেননি?”
অনিরুদ্ধ চোখ নামিয়ে বললেন, “কখনো কখনো মানুষ নিজের লেখা থেকে পালাতে গিয়ে সেই লেখাকেই সত্যি করে ফেলে।”
রৌদ্রময়ী এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
“আপনারা সবাই গল্প, পাণ্ডুলিপি, চরিত্র নিয়ে কথা বলছেন! কিন্তু আরিফ তো সত্যিই মারা গেছে! আমি সত্যিই সাত বছর ধরে কষ্ট পেয়েছি! আমার জীবনটা কি আপনাদের কাছে শুধু একটা গল্প?”
অনিরুদ্ধ কোনো উত্তর দিলেন না।
প্রথমবারের মতো তাঁর মুখে অপরাধবোধ স্পষ্ট হয়ে উঠল।
“না, রৌদ্রময়ী। তোমার কষ্ট কোনো গল্প নয়। আরিফের মৃত্যুও নয়। আমি শুধু এত দিন নিজের ভুলের মুখোমুখি হতে ভয় পেয়েছি।”
৩. আহমাদ মূসা কাকে ভয় পায়?
রৌদ্রময়ী আরিফের চিঠিটা ভাঁজ করে ব্যাগে রাখল।
তারপর ফোন বের করে লিখল—
রৌদ্রময়ী: তুমি কাকে ভয় পাও?
বার্তাটা পাঠানোর পর সে অনিরুদ্ধের দিকে তাকাল।
“আরিফ আমাকে বলেছিল, আহমাদ মূসাকে জিজ্ঞেস করতে—সে কাকে ভয় পায়।”
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে উত্তর এল।
আহমাদ মূসা: তুমি কি অনিরুদ্ধ সেনের সঙ্গে দেখা করেছ?
রৌদ্রময়ী লিখল—
রৌদ্রময়ী: হ্যাঁ।
উত্তর এল—
আহমাদ মূসা: তাহলে তুমি ভুল মানুষকে খুঁজে পেয়েছ।
রৌদ্রময়ীর বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
রৌদ্রময়ী: তুমি কাকে ভয় পাও?
এবার অনেকক্ষণ কোনো উত্তর এল না।
স্টেশনের বাতাসে শুকনো পাতার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
তারপর ফোন কেঁপে উঠল।
“আমি সেই মানুষকে ভয় পাই, যে আমার লেখা পড়ে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত বদলে দেয়।”
রৌদ্রময়ী লিখল—
রৌদ্রময়ী: তুমি কি মানুষ?
উত্তর এল—
“এই প্রশ্নের উত্তর জানলে তুমি আমাকে আর বিশ্বাস করবে না।”
রৌদ্রময়ী: তুমি কি আমার বাবা?
এবার উত্তর এল খুব দ্রুত।
“না।”
রৌদ্রময়ী কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর লিখল—
রৌদ্রময়ী: তাহলে তুমি কে?
উত্তর এল—
“আমি সেই চরিত্র, যাকে তোমার বাবা নিজের জীবনের সত্যিটা লুকানোর জন্য তৈরি করেছিলেন।”
তারপর আরেকটি বার্তা।
“কিন্তু এখন আমি তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই।”
রৌদ্রময়ী ফোনটা নামিয়ে ফেলল।
“এটা কীভাবে সম্ভব?”
অনিরুদ্ধ তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি জানি না।”
“আপনি তো লেখক!”
“লেখক হওয়া মানে সব প্রশ্নের উত্তর জানা নয়।”
ঠিক তখনই শওকত রহমানের ফোন বেজে উঠল।
তিনি কলটা ধরতেই তাঁর মুখের রং বদলে গেল।
“কী বলছেন? কখন?”
তিনি ফোন নামিয়ে রৌদ্রময়ীর দিকে তাকালেন।
“মীরাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।”
রৌদ্রময়ীর বুকটা ধক করে উঠল।
“কী হয়েছে আমার মায়ের?”
“বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে।”
রৌদ্রময়ী দৌড়ে স্টেশনের বাইরে চলে গেল।
কিন্তু গাড়িতে ওঠার আগে তার ফোনে আরেকটি বার্তা এল।
আহমাদ মূসা: তোমার মায়ের কিছু হয়নি। তাঁকে অচেতন করা হয়েছে, কারণ তিনি এমন একটা নাম জানেন, যেটা কেউ প্রকাশ করতে চায় না।
রৌদ্রময়ী কাঁপা হাতে লিখল—
রৌদ্রময়ী: নামটা কী?
উত্তর এল—
“যে মানুষটি প্রথম আহমাদ মূসার নাম ব্যবহার করেছিল।”
তারপর—
“আর সেই মানুষটি অনিরুদ্ধ সেন নয়।”
৪. পাণ্ডুলিপির শেষ লাইন
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রৌদ্রময়ী জানতে পারল, তার মা বিপদমুক্ত। চিকিৎসকেরা বলেছেন, তাঁকে সাময়িকভাবে অচেতন করা হয়েছিল; কীভাবে, তা তখনো নিশ্চিত নয়।
মায়ের জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় সে করিডরে বসে ছিল।
অনিরুদ্ধ তার পাশে এসে দাঁড়ালেন।
“রৌদ্রময়ী, তোমার কাছে কি পাণ্ডুলিপিটা আছে?”
সে ব্যাগ থেকে নীল বইটা বের করল।
“এটা কেন?”
“শেষ পাতাটা দেখো।”
রৌদ্রময়ী বইটা খুলল।
প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাতা উল্টিয়ে সে দেখল, শেষ পাতায় আগে লেখা কয়েকটি লাইন রয়েছে। কিন্তু তার নিচে নতুন করে আরেকটি বাক্য যোগ করা হয়েছে।
কালি এখনো শুকায়নি।
বাক্যটি পড়ে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
“লেখক যখন নিজের চরিত্রকে চিনতে পারবে, তখন চরিত্রটি তার জীবন থেকে বেরিয়ে আসবে।”
তার নিচে লেখা—
“পরবর্তী অধ্যায়ের নায়ক: অনিরুদ্ধ সেন।”
রৌদ্রময়ী অনিরুদ্ধের দিকে তাকাল।
“এটা আপনি লিখেছেন?”
“না।”
“তাহলে কে?”
অনিরুদ্ধ বইটা হাতে নিয়ে লেখাটার দিকে তাকালেন।
তাঁর চোখে এবার স্পষ্ট ভয়।
“এই হাতের লেখা…”
“আপনি চিনতে পেরেছেন?”
অনিরুদ্ধ ধীরে মাথা নাড়লেন।
“হ্যাঁ।”
“কার?”
তিনি উত্তর দেওয়ার আগেই হাসপাতালের কক্ষ থেকে নার্স বেরিয়ে এলেন।
“রৌদ্রময়ী? আপনার মা জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন। তিনি আপনাকে ডাকছেন।”
রৌদ্রময়ী দ্রুত ভেতরে ঢুকল।
মা বিছানায় শুয়ে ছিলেন। চোখ খুলতেই তিনি রৌদ্রময়ীর হাত শক্ত করে ধরলেন।
“তুই অনিরুদ্ধের সঙ্গে দেখা করেছিস?”
“হ্যাঁ, মা।”
“তাহলে শোন। আরিফের বাবা অনিরুদ্ধ নয়।”
রৌদ্রময়ী স্তব্ধ হয়ে গেল।
“কিন্তু তিনি তো—”
“অনিরুদ্ধ শুধু আহমাদ মূসার পরিচয়টা ব্যবহার করেছিল। আসল লেখক অন্য কেউ।”
“কে?”
মা কষ্ট করে শ্বাস নিলেন।
“যে মানুষটা তোর জন্মের সময় হাসপাতালে ছিল। যে তোর নাম রেখেছিল। যে তোকে ছোটবেলায় গল্প শোনাত।”
রৌদ্রময়ীর চোখ বড় হয়ে গেল।
“কে, মা?”
মা তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললেন—
“তোর নানাভাই।”
রৌদ্রময়ী কিছু বলার আগেই মায়ের চোখ আবার বন্ধ হয়ে গেল।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে তার ফোনে একটি নতুন বার্তা এল।
প্রেরক: আহমাদ মূসা।
“এবার তুমি সঠিক মানুষটির কাছে পৌঁছে গেছ। আগামীকাল তোমার নানাভাইয়ের বাড়িতে যাও। তাঁর বইয়ের আলমারিতে একটি লাল ডায়েরি আছে।
সেই ডায়েরির প্রথম পাতায় লেখা—
‘আমি আহমাদ মূসা। আর আমার অস্তিত্বের সাক্ষী আমার নিজের নাতনি।’”
রৌদ্রময়ী ফোনটা শক্ত করে ধরে রইল।
তার নানাভাই মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে।
তবু তাঁর নামে আসা সেই বার্তাটি শেষ হয়েছিল একটি বাক্যে—
“রৌদ্রময়ী, কাল দেখা হবে।”
পরবর্তী পর্ব: মৃত নানাভাইয়ের ডায়েরি
মৃত মানুষ কি চিঠি লিখতে পারে? নাকি কেউ তাঁর নাম ব্যবহার করে রৌদ্রময়ীকে ফাঁদে ফেলছে? আর আহমাদ মূসার অস্তিত্বের সঙ্গে তার নিজের পরিবারের সম্পর্ক কতটা গভীর?
পরের পর্বে রৌদ্রময়ী খুলবে নানাভাইয়ের বন্ধ ঘর—যেখানে সাত বছর ধরে একটি লাল ডায়েরি অপেক্ষা করছে।

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।