পর্ব ৭: নাজনীন কি সত্যিই মৃত?

“মৃত মানুষকে কবর দেওয়া যায়। তার স্মৃতিকে নয়। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর হলো—যাকে মৃত বলে বিশ্বাস করেছ, সে যদি একদিন তোমার নাম ধরে ডাকে।”

রাত আটটা বাজতে তখনও পনেরো মিনিট বাকি।

পুরোনো রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রৌদ্রময়ী বারবার ঘড়ি দেখছিল।

স্টেশনটা বহু বছর ধরে বন্ধ। ভাঙা বেঞ্চ, মরচে ধরা রেললাইন, আর মাথার ওপর ঝুলে থাকা একটা হলুদ বাতি—যেটা বাতাসের সঙ্গে দুলছিল।

এখানে আসার আগে সে মাকে কিছু জানায়নি।

আহমাদ মূসা তাকে একা আসতে বলেছিল।

কিন্তু সে জানত না, আহমাদকে বিশ্বাস করা উচিত কি না।

গত কয়েক দিনে এই মানুষটি তাকে এমন সব তথ্য দিয়েছে, যা তার জীবনের প্রতিটি পরিচিত সত্যকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে। অথচ প্রতিবারই সে তার কথা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছে।

ফোনটা বের করে সে শেষবারের মতো বার্তাগুলো পড়ল।

আহমাদ মূসা: পুরোনো রেলস্টেশনে এসো। একা।

রৌদ্রময়ী: নাজনীন কি সত্যিই বেঁচে আছেন?

আহমাদ মূসা: তুমি নিজেই জিজ্ঞেস করবে।

রৌদ্রময়ী: আর তুমি?

আহমাদ মূসা: আমি তো কখনো কোথাও যাইনি, রৌদ্রময়ী।

এই উত্তরটার অর্থ সে বুঝতে পারেনি।

হঠাৎ প্ল্যাটফর্মের অন্য প্রান্তে একটা ছায়া দেখা গেল।

একজন বৃদ্ধা।

সাদা শাড়ি, হাতে কাঠের লাঠি, মাথার চুল প্রায় সম্পূর্ণ সাদা। তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিলেন।

রৌদ্রময়ী স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

বৃদ্ধা তার সামনে এসে থামলেন।

কিছুক্ষণ মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন—

“তুমি মীরার মেয়ে?”

রৌদ্রময়ীর গলা শুকিয়ে গেল।

“আপনি কি নাজনীন?”

বৃদ্ধার চোখে জল চিকচিক করে উঠল।

“হ্যাঁ।”

রৌদ্রময়ী এক পা পিছিয়ে গেল।

“কিন্তু আপনার তো মৃত্যু হয়েছিল ২৮ অক্টোবর, ১৯৯৮ সালে!”

নাজনীন মৃদু হাসলেন।

“আমার মৃত্যু হয়েছিল কাগজে। মানুষের মনে। একটা গল্পের পাতায়। কিন্তু মানুষ যখন বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কাগজের লেখা সব সময় তাকে মেরে ফেলতে পারে না।”

“আপনি এত বছর কোথায় ছিলেন?”

নাজনীন উত্তর দিলেন না।

বরং রৌদ্রময়ীর হাতের দিকে তাকালেন।

“তুমি কি সেই পাণ্ডুলিপিটা এনেছ?”

রৌদ্রময়ী ব্যাগ থেকে নীল মলাটের বইটি বের করল।

বইটা দেখেই নাজনীন আঁতকে উঠলেন।

“এটা তোমার হাতে এল কীভাবে?”

“কালো বাক্সে ছিল।”

নাজনীন চোখ বন্ধ করলেন।

“তাহলে মীরা শেষ পর্যন্ত বাক্সটা খুলেছে।”

রৌদ্রময়ী চমকে উঠল।

“আপনি আমার মাকে চেনেন?”

“তোমার মা শুধু আমাকে চিনতেন না, রৌদ্রময়ী। তিনি জানতেন, তোমার জন্মের আগেই তোমার জীবন নিয়ে একটি গল্প লেখা হচ্ছিল।”

“কে লিখেছিল?”

নাজনীন ধীরে ধীরে তার দিকে তাকালেন।

“তোমার বাবা।”

রৌদ্রময়ীর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

“আহমাদ মূসা?”

নাজনীন মাথা নাড়লেন।

“না। আহমাদ মূসা ছিল তাঁর তৈরি করা নাম।”

“তাহলে তাঁর আসল নাম কী?”

নাজনীন উত্তর দেওয়ার আগেই স্টেশনের অন্ধকার থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল।

“নাজনীন, ওকে এখনো সব বলো না।”

রৌদ্রময়ী ঘুরে দাঁড়াল।

কেউ নেই।

শুধু পুরোনো টিকিটঘরের জানালায় একটি ছায়া।

নাজনীন আতঙ্কিত হয়ে ফিসফিস করে বললেন—

“সে এসে গেছে।”

১. যে মানুষটি নিজের মৃত্যুর গল্প লিখেছিল

টিকিটঘরের দরজা ধীরে ধীরে খুলে গেল।

ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন একজন মধ্যবয়স্ক পুরুষ। ধূসর কোট, হাতে কালো ছাতা, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা।

তাঁকে দেখে রৌদ্রময়ীর মনে হলো, কোথাও যেন এই মুখটা আগে দেখেছে।

কিন্তু কোথায়?

লোকটি কাছে এসে বললেন, “রৌদ্রময়ী, তোমাকে অনেক দিন ধরেই দেখতে চেয়েছিলাম।”

“আপনি কে?”

“আমার নাম শওকত রহমান। একসময় মাহতাব রহমানের সঙ্গে কাজ করতাম।”

রৌদ্রময়ী সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞেস করল, “মাহতাব কোথায়?”

“মাহতাব অনেক আগেই মারা গেছেন।”

“তাঁর মৃত্যুর আগে তিনি আমার বাবার মৃত্যুসনদে স্বাক্ষর করেছিলেন কেন?”

শওকত দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

“কারণ তোমার বাবা চেয়েছিলেন, পৃথিবী বিশ্বাস করুক যে তিনি মারা গেছেন।”

“কেন?”

“কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর লেখা গল্প বাস্তব মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে।”

রৌদ্রময়ী অবিশ্বাসের চোখে তাকাল।

“গল্প তো বাস্তব জীবন বদলাতেই পারে। তাই বলে একজন মানুষ নিজের মৃত্যুর ভান করবে?”

শওকত মাথা নাড়লেন।

“তোমার বাবার গল্পে শুধু কল্পনা ছিল না। ছিল মানুষের গোপন কথা, এমন কিছু ঘটনা, যেগুলো ঘটার আগেই তিনি লিখে ফেলতেন। প্রথমে সবাই এটাকে কাকতালীয় মনে করেছিল। পরে কিছু মানুষ তাঁর লেখা ব্যবহার করে অন্য মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।”

“কারা?”

“সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মাহতাব নিজের জীবন হারিয়েছিলেন।”

রৌদ্রময়ী নাজনীনের দিকে তাকাল।

“আপনি জানতেন?”

নাজনীন চোখ নামিয়ে বললেন, “আমি সব জানতাম না। কিন্তু আমি জানতাম, তোমার বাবার লেখা শেষ পাণ্ডুলিপিটা প্রকাশিত হলে অনেক মানুষের জীবন বিপদে পড়বে।”

“সেই পাণ্ডুলিপি কোথায়?”

শওকত বললেন, “তোমার কাছেই।”

রৌদ্রময়ী অবাক হয়ে নীল বইটার দিকে তাকাল।

“এটা?”

“না। বইটা শুধু প্রথম খসড়া। আসল পাণ্ডুলিপির শেষ পাতা তোমার কাছে আছে।”

রৌদ্রময়ী তাড়াতাড়ি ব্যাগের ভেতর হাত দিল।

কালো বাক্স থেকে পাওয়া ছবিটি বের করল। ছবির পেছনে যে কথাগুলো লেখা ছিল, সেগুলো তার মনে পড়ল।

“আমি তাকে ছেড়ে যাইনি। আমি শুধু এমন একটি গল্পের ভেতরে আটকে গিয়েছিলাম, যার শেষ আমি নিজেও জানতাম না।”

“এই ছবির কথা বলছেন?”

শওকত ছবিটা দেখে দীর্ঘক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর বললেন—

“তাহলে সে সত্যিই তোমার কাছে ফিরে এসেছে।”

“কে?”

শওকত উত্তর দিলেন না।

বরং নাজনীনকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি ওকে বলেছ, আরিফের মৃত্যুর রাতে কী হয়েছিল?”

নাজনীনের মুখ সাদা হয়ে গেল।

“না।”

“তাহলে এখনই বলো।”

২. আরিফের শেষ রাত

নাজনীন প্ল্যাটফর্মের পুরোনো বেঞ্চে বসে পড়লেন।

“২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর,” তিনি বলতে শুরু করলেন, “আরিফ আমাকে ফোন করেছিল। সে বলেছিল, সে এমন একটা সত্য জেনে গেছে, যেটা জানার কথা তার ছিল না।”

রৌদ্রময়ী নিঃশ্বাস আটকে শুনছিল।

“সে বলেছিল, আহমাদ মূসা কোনো মানুষ নয়। আবার পুরোপুরি কল্পনাও নয়। সে এমন একজনের তৈরি করা পরিচয়, যার মুখ কেউ কোনোদিন দেখেনি।”

“আরিফ কি জানত তার বাবা কে?”

“জানত। কিন্তু সে তার বাবার নাম জানত না।”

রৌদ্রময়ী অবাক হলো।

“এটা কীভাবে সম্ভব?”

“কারণ আরিফের বাবা নিজের আসল নাম, ছবি, পরিচয়—সবকিছু মুছে ফেলেছিলেন। আরিফ শুধু তাঁর লেখা পড়ে বড় হয়েছিল। সে ভেবেছিল, একদিন বাবাকে খুঁজে পাবে।”

নাজনীন একটু থামলেন।

“সেই রাতে আরিফ আমাকে বলেছিল, সে একটি পুরোনো চিঠি পেয়েছে। চিঠিতে লেখা ছিল—আহমাদ মূসার গল্প শেষ করতে হলে রৌদ্রময়ীকে তার নিজের লেখা শেষ করতে হবে।”

রৌদ্রময়ী ফিসফিস করে বলল, “আমার লেখা?”

“হ্যাঁ। তোমার ছোটবেলার ডায়েরি। তোমার সেই গল্প, যেটার প্রথম পাতায় তুমি আহমাদ মূসার নাম লিখেছিলে।”

রৌদ্রময়ীর মনে পড়ল লাল মলাটের ডায়েরিটা।

“কিন্তু আরিফের দুর্ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?”

নাজনীন চোখ মুছলেন।

“আরিফ তোমাকে খুঁজতে বেরিয়েছিল। সে জানত না, তোমার নামও সেই পাণ্ডুলিপিতে লেখা আছে। সে শুধু চেয়েছিল, তুমি যেন নিজের জীবন থেকে সেই গল্পটাকে মুছে ফেলতে পারো।”

রৌদ্রময়ীর গলা ধরে এল।

“তাহলে দুর্ঘটনার রাতে…”

নাজনীন মাথা নিচু করলেন।

“আমি সেখানে ছিলাম না। কিন্তু পরদিন সকালে একটা ফোন পাই। ফোনের ওপাশ থেকে একজন বলেছিল, আরিফ মারা গেছে। আর তার সঙ্গে যে মেয়েটি ছিল, সে বেঁচে আছে।”

রৌদ্রময়ী চুপ করে গেল।

তার মনে পড়ছিল ভাঙা ভাঙা কিছু দৃশ্য—বৃষ্টিভেজা রাস্তা, গাড়ির জানালায় আলো, আরিফের কণ্ঠস্বর, তারপর এক গভীর অন্ধকার।

কিন্তু সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, সে এখনো মনে করতে পারছিল না।

শওকত ধীরে বললেন, “তোমাকে দোষী করার জন্যই কিছু তথ্য লুকানো হয়েছিল। যাতে তুমি নিজের স্মৃতিকে বিশ্বাস না করো।”

“কারা লুকিয়েছিল?”

শওকত এবার সরাসরি তার দিকে তাকালেন।

“যারা চায়, আহমাদ মূসার গল্প কখনো শেষ না হোক।”

রৌদ্রময়ী ঠান্ডা গলায় বলল, “আর তারা কারা?”

শওকত উত্তর দিলেন—

“তাদের একজন তোমার খুব কাছের মানুষ।”

৩. ইনবক্সে যে মানুষটা নেই

রৌদ্রময়ী আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই ফোনে বার্তা এল।

আহমাদ মূসা।

আহমাদ মূসা: তুমি নাজনীনের সঙ্গে দেখা করেছ?

রৌদ্রময়ী দ্রুত লিখল—

রৌদ্রময়ী: হ্যাঁ। তুমি কে, সেটা এবার বলো।

উত্তর এল—

আহমাদ মূসা: আমি তোমার বাবার সবচেয়ে অসমাপ্ত কাজ।

রৌদ্রময়ী: তুমি কি মানুষ?

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর—

আহমাদ মূসা: তুমি কি নিশ্চিত, মানুষ হওয়ার জন্য শরীর থাকা জরুরি?

রৌদ্রময়ী বিরক্ত হয়ে ফোনটা শক্ত করে ধরল।

রৌদ্রময়ী: ধাঁধা বন্ধ করো। আমার বাবা কোথায়?

উত্তর এল—

“যে মানুষটিকে তুমি খুঁজছ, তিনি তোমার সঙ্গে বহুবার কথা বলেছেন।”

রৌদ্রময়ীর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

সে পুরোনো বার্তাগুলো খুলল। প্রথম রাতের কথোপকথন থেকে শুরু করে প্রতিটি মেসেজ পড়তে লাগল।

আহমাদ মূসা তার কষ্টের কথা জানত।

তার পুরোনো ডায়েরির কথা জানত।

আরিফের মৃত্যুর কথা জানত।

তার মায়ের গোপন কথাগুলোও জানত।

কিন্তু কখনোই সে বলেনি, এসব তথ্য কোথা থেকে পেয়েছে।

রৌদ্রময়ী লিখল—

রৌদ্রময়ী: তুমি কি আমার পরিচিত কেউ?

উত্তর এল—

“তোমার পরিচিত মানুষদের মধ্যে একজন তোমাকে মিথ্যা বলছে।”

সে শওকতের দিকে তাকাল।

“আপনি কি আমার বাবাকে চেনেন?”

শওকত মাথা নাড়লেন।

“হ্যাঁ।”

“তাহলে তাঁর নাম বলুন।”

শওকত দীর্ঘক্ষণ তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর বললেন—

“তোমার বাবার নাম বলার আগে তোমাকে একটা ছবি দেখাতে হবে।”

তিনি কোটের পকেট থেকে একটি পুরোনো ছবি বের করলেন।

ছবিতে তিনজন মানুষ—মাহাতাব রহমান, নাজনীন, আর একজন তরুণ পুরুষ।

তরুণ পুরুষটির মুখ দেখে রৌদ্রময়ী যেন জমে গেল।

এ মুখ সে আগে দেখেছে।

কোথায়?

হঠাৎ মনে পড়ল—তার নিজের ফোনে।

প্রোফাইলের ছবিতে নয়, কারণ আহমাদ মূসার কোনো প্রোফাইল ছবি ছিল না।

সে এই মুখ দেখেছিল সাত বছর আগে, আরিফের সঙ্গে তোলা ছবির পেছনের ছায়ায়।

“এই লোকটা কে?” রৌদ্রময়ী ফিসফিস করে বলল।

শওকত উত্তর দিলেন—

“এটাই তোমার বাবা।”

“নাম?”

শওকত ছবিটা উল্টে দিলেন।

পেছনে লেখা ছিল—

আরিফের বাবা: অনিরুদ্ধ সেন।

রৌদ্রময়ী নামটা আগে কখনো শোনেনি।

কিন্তু নাজনীন নামটা পড়েই কেঁদে উঠলেন।

“না… এই নামটা ওর ছিল না।”

শওকত বিস্মিত হয়ে বললেন, “কী বলছ?”

নাজনীন ছবিটা কাঁপা হাতে ধরে বললেন—

“অনিরুদ্ধ সেন ছিল তার ছদ্মনাম। তার আসল নাম…”

তিনি বাক্য শেষ করতে পারলেন না।

কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে স্টেশনের সব আলো নিভে গেল।

অন্ধকারের ভেতর থেকে একটি পুরুষকণ্ঠ শোনা গেল।

“নাজনীন, অনেক হয়েছে।”

রৌদ্রময়ী ফোনের আলো জ্বালল।

প্ল্যাটফর্মের শেষ মাথায় একজন দাঁড়িয়ে আছে।

লোকটির মুখ দেখা যাচ্ছে না।

কিন্তু তার হাতে ধরা নীল বইটির মলাট স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

অস্তিত্বহীন আহমাদ মূসা।

লোকটি ধীরে ধীরে বলল—

“রৌদ্রময়ী, তুমি তোমার বাবাকে খুঁজছ। অথচ তুমি জানো না, তোমার বাবা তোমাকে খুঁজে পেতে কত মানুষকে হারিয়েছেন।”

রৌদ্রময়ী চিৎকার করে উঠল, “আপনি কে?”

লোকটি বইটা মাটিতে রেখে বলল—

“আমি সেই মানুষ, যে এই গল্পের প্রথম পাতা লিখেছিল।”

তারপর এক মুহূর্ত থেমে যোগ করল—

“আর তুমি সেই মেয়ে, যে শেষ পাতায় আমার মৃত্যুর কথা লিখবে।”

পরবর্তী পর্ব: লেখকের মুখোশ

অনিরুদ্ধ সেন কে? আহমাদ মূসা কি সত্যিই একটি ছদ্মনাম, নাকি একই নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে একাধিক মানুষ? আর রৌদ্রময়ীর জীবনের গল্পটা যদি তার নিজের লেখা হয়, তাহলে কে তার হাতে কলম তুলে দিয়েছিল?

পরের পর্বে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবে রৌদ্রময়ী ও সেই অচেনা লেখক—যে দাবি করছে, তার জন্মের আগেই সে রৌদ্রময়ীর শেষ পরিণতি লিখে রেখেছিল।