পর্ব ৬: যে মানুষটি মৃত হয়েও বেঁচে ছিল
“মৃত মানুষ ফিরে আসে না—এই কথাটা সবাই বিশ্বাস করে। কিন্তু কেউ যদি কোনোদিন মরেই না থাকে, অথচ তার মৃত্যুর গল্প লেখা হয়ে যায়, তখন?”
দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি আবার টোকা দিল।
টক। টক। টক।
রৌদ্রময়ী দরজার দিকে তাকিয়ে ছিল। তার হাতে ফোন, স্ক্রিনে আহমাদ মূসার শেষ বার্তাটি জ্বলছে।
“দরজা খুলবে না। ও মাহতাব রহমান নয়।”
কিন্তু দরজার ওপাশের কণ্ঠস্বর এতটাই পরিচিত যে তার সন্দেহ হচ্ছিল।
“রৌদ্রময়ী, আমি জানি তুমি ভেতরে আছ।”
লোকটি বলল, “তোমার মা তোমাকে অনেক কিছু বলেননি। কিন্তু আমি বলব। শুধু একবার দরজাটা খোলো।”
রৌদ্রময়ী মায়ের দিকে তাকাল।
“মা, তুমি সত্যিই বলছ, মাহতাব রহমান মারা গেছেন?”
মা কাঁপতে কাঁপতে মাথা নাড়লেন।
“সাত বছর আগে। আরিফের দুর্ঘটনার কিছুদিন পর। সবাই বলেছিল, হার্ট অ্যাটাক।”
“তাহলে বাইরে কে?”
“আমি জানি না।”
দরজার ওপাশের লোকটি এবার নিচু স্বরে বলল—
“তোমার মা জানেন, রৌদ্রময়ী। তিনি শুধু আবার সেই ভুলটা করতে ভয় পাচ্ছেন।”
মা হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেন।
“চুপ করো!”
দরজার ওপাশে হাসির শব্দ শোনা গেল।
“এত বছর পরেও তুমি একই রকম, মীরা। সত্যির সামনে দাঁড়ালেই ভয় পাও।”
রৌদ্রময়ীর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
লোকটি তার মায়ের নাম জানে।
শুধু নাম নয়—এমনভাবে বলছে, যেন বহু বছরের পুরোনো পরিচয়।
রৌদ্রময়ী ফোনে লিখল—
রৌদ্রময়ী: তুমি কে?
আহমাদ মূসার উত্তর এল।
আহমাদ মূসা: তোমার অতীতের একজন সাক্ষী।
রৌদ্রময়ী: তাহলে তুমি দরজার বাইরে কেন নেই?
কয়েক সেকেন্ড পর উত্তর এল।
আহমাদ মূসা: কারণ আমার জন্য কোনো দরজা খোলা নেই।
রৌদ্রময়ী কিছু বুঝতে পারল না।
ঠিক তখনই দরজার নিচ দিয়ে একটি খাম ভেতরে ঢুকে এল।
খামের ওপর লেখা—
রৌদ্রময়ীর জন্য। তার বাবার কাছ থেকে।
১. যে বাবাকে সে কোনোদিন দেখেনি
রৌদ্রময়ীর বাবা মারা গিয়েছিলেন—এটাই সে সারা জীবন জেনে এসেছে।
ছোটবেলায় বাবার কথা জানতে চাইলে মা বলতেন, তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। কোনো ছবি ছিল না, কোনো চিঠি ছিল না, এমনকি বাবার কণ্ঠস্বরের রেকর্ডিংও নয়।
রৌদ্রময়ী কখনো বেশি প্রশ্ন করেনি।
কিন্তু আজ দরজার নিচ দিয়ে আসা খামটা তার সমস্ত বিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিল।
“মা, আমার বাবা কি সত্যিই মারা গিয়েছিলেন?”
মা মুখ খুললেন, কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না।
“আমার দিকে তাকিয়ে উত্তর দাও।”
মা ধীরে ধীরে তার দিকে তাকালেন।
“তোর বাবা মারা গেছেন—এটা সত্যি।”
“তাহলে এই চিঠি কে পাঠিয়েছে?”
“আমি জানি না।”
রৌদ্রময়ী খামটা খুলল।
ভেতরে একটি পুরোনো ছবি এবং হাতে লেখা চিঠি।
ছবিতে একজন তরুণ পুরুষ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তরুণী মীরা—রৌদ্রময়ীর মা।
ছবির পেছনে তারিখ—
২৮ অক্টোবর, ১৯৯৮।
রৌদ্রময়ীর চোখ আটকে গেল ছবির নিচে লেখা নামটিতে।
আরিফের বাবা।
তার নিচে আরও একটি লাইন—
“রৌদ্রময়ী, তুমি জন্মানোর আগেই তোমার বাবাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর সনদে যে স্বাক্ষর ছিল, সেই মানুষটি আজও বেঁচে আছে।”
রৌদ্রময়ী চিঠিটা পড়তে লাগল।
“তোমাকে সত্যিটা বলার অধিকার আমার ছিল। কিন্তু আমি চুপ ছিলাম। কারণ তোমার জন্মের আগেই তোমার নাম এমন এক পাণ্ডুলিপিতে লেখা হয়ে গিয়েছিল, যেটা আমি নিজেই লিখেছিলাম।
আমি জানি, তুমি এখন আহমাদ মূসাকে খুঁজছ। কিন্তু তাকে খুঁজতে গিয়ে নিজের বাবাকে হারিয়ে ফেলো না।
তোমার বাবা কে, সেটা জানার আগে জানতে হবে—কে তাঁর মৃত্যুর সনদে স্বাক্ষর করেছিল।”
চিঠির শেষে কোনো নাম নেই।
শুধু একটি বাক্য—
“শেষ অধ্যায়ের লেখক কখনো প্রথম অধ্যায়ের চরিত্র হতে পারে না।”
রৌদ্রময়ী চিঠিটা নামিয়ে মায়ের দিকে তাকাল।
“আমার বাবা কে?”
মা এবার আর চোখ সরালেন না।
“তোর বাবা ছিলেন একজন লেখক।”
“নাম?”
মা কাঁপা গলায় বললেন—
“আহমাদ মূসা।”
২. একটি নাম, দুটি মৃত্যু
ঘরটা যেন হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
রৌদ্রময়ী কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারল না।
“তুমি বলতে চাইছ, আমার বাবা আহমাদ মূসা?”
মা চোখ মুছলেন।
“আমি বলছি, তোর বাবার লেখক-নাম ছিল আহমাদ মূসা।”
“তাহলে আরিফ কে?”
“আরিফ ছিল তাঁর ছেলের নাম।”
“কিন্তু আরিফের মা নাজনীন! আর আমার মা তুমি!”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে এই সম্পর্কগুলো কী?”
মা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“নাজনীন ছিলেন তোর বাবার প্রথম স্ত্রী। আরিফ তাঁদের সন্তান। পরে তোর বাবার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। কিন্তু তখন তাঁর অতীত সম্পর্কে আমি খুব কমই জানতাম।”
“তাহলে আরিফ আমার—”
“সৎভাই।”
রৌদ্রময়ী পেছনে সরে গেল।
আরিফ।
যে ছেলেটির সঙ্গে সে সাত বছর আগে এতটা সময় কাটিয়েছিল, যার স্মৃতি তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে—সে ছিল তার সৎভাই?
কিন্তু তাহলে তাদের সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল? আরিফ কি কখনো তাকে নিজের পরিচয় জানিয়েছিল? আর এই গল্পে তার ভূমিকা কতটা?
রৌদ্রময়ীর মাথায় একসঙ্গে অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরতে লাগল।
“না,” সে ফিসফিস করে বলল। “এটা হতে পারে না।”
মা তার কাছে এগিয়ে এলেন।
“তোর বাবা চেয়েছিলেন, তুই স্বাভাবিক জীবন কাটাস। তিনি চাননি তাঁর পুরোনো পরিচয় তোর জীবনে ফিরে আসুক।”
“তাহলে আমাকে সত্যিটা বলোনি কেন?”
“কারণ তোর বাবা নিখোঁজ হওয়ার আগে আমাকে একটা কথা বলেছিলেন।”
“কী কথা?”
মা তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন—
“যেদিন রৌদ্রময়ী আহমাদ মূসাকে খুঁজতে শুরু করবে, সেদিন বুঝবে—সে আর আমাদের মেয়ে নেই। সে হয়ে গেছে সেই গল্পের শেষ সাক্ষী।”
রৌদ্রময়ীর ফোন আবার কেঁপে উঠল।
আহমাদ মূসা: তোমার মা অবশেষে সত্যির একটা অংশ বলেছেন।
রৌদ্রময়ী দ্রুত লিখল—
রৌদ্রময়ী: তুমি কি আমার বাবা?
উত্তর এল না।
সে আবার লিখল—
রৌদ্রময়ী: তুমি কি আরিফের বাবাও?
এবার স্ক্রিনে তিনটি বিন্দু দেখা গেল।
তারপর একটি বার্তা—
“আমি তোমাদের দুজনের বাবার লেখা একটি চরিত্র।”
রৌদ্রময়ীর বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
রৌদ্রময়ী: তাহলে আমার বাবা কোথায়?
উত্তর এল—
“যেখানে তোমার গল্পের প্রথম পাতা লুকানো আছে।”
৩. মৃত মানুষের স্বাক্ষর
রৌদ্রময়ী সিদ্ধান্ত নিল, সে আর অপেক্ষা করবে না।
মাহতাব রহমানের পুরোনো কাগজপত্রের মধ্যে নিশ্চয়ই এমন কিছু আছে, যা তার বাবার পরিচয় প্রমাণ করতে পারে।
সে মাকে সঙ্গে নিয়ে পরদিন সকালে মাহতাব রহমানের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে গেল।
প্রতিষ্ঠানটি বহু বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। সামনের সাইনবোর্ডে ধুলো জমেছে, জানালার কাচে ফাটল, আর দরজায় মরচে ধরা তালা।
কিন্তু দরজার পাশে একটি ছোট কাগজ লাগানো ছিল।
“যাঁরা আহমাদ মূসাকে খুঁজছেন, তাঁরা পেছনের ঘরে আসুন।”
রৌদ্রময়ী কাগজটা দেখে মায়ের দিকে তাকাল।
“এটা কি তুমি লাগিয়েছ?”
মা মাথা নাড়লেন।
“না।”
পেছনের দরজাটা খোলা ছিল।
ভেতরে ঢুকতেই পুরোনো কাগজ আর স্যাঁতসেঁতে কাঠের গন্ধ নাকে এল। ঘরের মাঝখানে একটি টেবিল, তার ওপর কয়েকটি ফাইল এবং একটি ছোট টেপ রেকর্ডার।
ফাইলের ওপরে লেখা—
মৃত্যু সনদ: আহমাদ মূসা।
রৌদ্রময়ী ফাইল খুলল।
মৃত্যুর তারিখ: ২৮ অক্টোবর, ১৯৯৮।
মৃত্যুর স্থান: অজ্ঞাত।
মৃত্যুর কারণ: দুর্ঘটনাজনিত আঘাত।
আর সাক্ষীর স্বাক্ষর—
মাহতাব রহমান।
কিন্তু স্বাক্ষরের নিচে আরেকটি লাইন ছিল।
“আমি মৃতদেহ শনাক্ত করিনি।”
রৌদ্রময়ী অবাক হয়ে গেল।
“মৃতদেহ শনাক্ত না করেই তিনি মৃত্যুর সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন?”
মা বললেন, “তাহলে কি তোর বাবা সেদিন মারা যাননি?”
ঠিক তখনই টেপ রেকর্ডারের লাল বাতিটা জ্বলে উঠল।
কেউ যেন সেটি দূর থেকে চালু করেছে।
তারপর একটি পুরুষকণ্ঠ শোনা গেল।
“যদি এই রেকর্ডিং রৌদ্রময়ী শুনে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে, আমার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।”
রৌদ্রময়ী স্থির হয়ে গেল।
কণ্ঠটা অপরিচিত, অথচ কোথাও যেন চেনা।
“রৌদ্রময়ী, তোমার বাবার নাম আহমাদ মূসা ছিল না। ওটা ছিল তাঁর ছদ্মনাম। তাঁর আসল নাম ছিল—”
হঠাৎ রেকর্ডিং থেমে গেল।
রৌদ্রময়ী রেকর্ডারের বোতাম চাপল।
কিছুই হলো না।
তারপর রেকর্ডারের ভেতর থেকে ক্ষীণ শব্দ এল।
একটি শেষ বাক্য।
“তোমার বাবার আসল নাম—মাহতাব রহমান।”
রৌদ্রময়ী মায়ের দিকে তাকাল।
মা ফ্যাকাশে হয়ে দেয়ালের পাশে হেলে পড়েছেন।
“মা?”
মা কোনো উত্তর দিলেন না।
তারপর খুব ধীরে বললেন—
“তাহলে মাহতাবই… তোর বাবা?”
ঠিক তখনই রৌদ্রময়ীর ফোনে নতুন বার্তা এল।
আহমাদ মূসার কাছ থেকে।
“না। মাহতাব রহমান তোমার বাবা নন।”
পরের বার্তাটি আসতে কয়েক সেকেন্ড সময় নিল।
“কিন্তু তিনি জানেন, তোমার বাবা কোথায়।”
রৌদ্রময়ী লিখল—
রৌদ্রময়ী: তাহলে তুমি আমাকে সত্যিটা বলছ না কেন?
উত্তর এল—
“কারণ তোমার বাবা এখনো বেঁচে আছেন।”
রৌদ্রময়ীর হাত থেকে ফোনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
তারপর স্ক্রিনে আরও একটি বার্তা ভেসে উঠল।
“আর তিনি গত সাত বছর ধরে তোমার প্রতিটি গল্প পড়ছেন।”
৪. শেষ ছবির পেছনে
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ঘর থেকে বেরিয়ে রৌদ্রময়ী মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরল।
সারা পথ মা একটি কথাও বললেন না।
বাড়িতে পৌঁছে রৌদ্রময়ী আবার কালো বাক্সটা খুলল। তার মনে হচ্ছিল, পাণ্ডুলিপির মধ্যে নিশ্চয়ই আরও কিছু আছে, যা সে এখনো খেয়াল করেনি।
শেষ পাতার ভাঁজে আঙুল চালাতেই একটি ছোট ছবি বেরিয়ে এল।
ছবিতে একটি নবজাতক শিশু।
তার পাশে একজন পুরুষ বসে আছেন। মুখের অর্ধেক ছায়ায় ঢাকা।
ছবির পেছনে লেখা—
“আমার মেয়ে রৌদ্রময়ী। যদি কখনো সে জানতে পারে আমি কে, তাহলে তাকে বলবে—আমি তাকে ছেড়ে যাইনি। আমি শুধু এমন একটি গল্পের ভেতরে আটকে গিয়েছিলাম, যার শেষ আমি নিজেও জানতাম না।”
নিচে একটি তারিখ।
২৭ অক্টোবর, ২০২৬।
আজকের তারিখ।
রৌদ্রময়ী ছবিটা শক্ত করে ধরে রইল।
এত বছর ধরে সে ভেবেছে, তার জীবনের রহস্য অতীতে লুকানো।
কিন্তু ছবিটা প্রমাণ করছে, রহস্যটা এখনো ঘটছে।
আজও।
এই মুহূর্তেও।
তার ফোনে আবার বার্তা এল।
আহমাদ মূসা: কাল তোমাকে এমন একজনের সঙ্গে দেখা করতে হবে, যে তোমার বাবাকে শেষবার দেখেছিল।
রৌদ্রময়ী: তার নাম কী?
উত্তর এল—
“নাজনীন।”
রৌদ্রময়ী কেঁপে উঠল।
“কিন্তু নাজনীন তো মারা গেছেন!”
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল—
“যে মৃত্যুর গল্প তুমি পড়েছ, সেটা পাণ্ডুলিপিতে লেখা ছিল। বাস্তবে কী ঘটেছিল, তা তুমি এখনো জানো না।”
তারপর শেষ বার্তাটি এল।
“আগামীকাল রাত আটটায় পুরোনো রেলস্টেশনে এসো। একা। তোমার বাবার নামটা সঙ্গে নিয়ে এসো—আহমাদ মূসা।”
রৌদ্রময়ী জানালার বাইরে তাকাল।
বাইরে সন্ধ্যা নামছে।
তার মনে হলো, দূরে কোথাও একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। মুখ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু লোকটির হাতে একটি নীল মলাটের বই।
বইটির প্রচ্ছদে লেখা—
অস্তিত্বহীন আহমাদ মূসা।
আর বইয়ের শেষ পাতায়, যে বাক্যটি রৌদ্রময়ী এখনো পড়েনি, সেখানে লেখা—
“যেদিন মেয়ে তার বাবাকে খুঁজে পাবে, সেদিন গল্পের লেখককে মরতে হবে।”
পরবর্তী পর্ব: নাজনীন কি সত্যিই মৃত?
পুরোনো রেলস্টেশনে কে অপেক্ষা করছে রৌদ্রময়ীর জন্য? নাজনীন যদি বেঁচে থাকেন, তবে এত বছর কোথায় ছিলেন? আর আহমাদ মূসা কি সত্যিই কেবল একটি চরিত্র—নাকি এই গল্পের আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন একজন মানুষ, যিনি শুরু থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন?

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।