পর্ব ২ — বন্ধ প্রোফাইলের গোপন দরজা
“কিছু রহস্যের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ থাকে না। সেগুলো বন্ধ থাকে মানুষের স্মৃতির ভেতরে। আর চাবিটা থাকে এমন কারও হাতে, যার অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ।”
রাত ১১টা ৪৩ মিনিট।
রৌদ্রময়ী ল্যাপটপের সামনে বসে আছে।
ঘরের দরজা বন্ধ। টেবিলের ওপর আধখাওয়া এক কাপ চা। পাশে খোলা ডায়েরি, যদিও ডায়েরিটা তার নিজের নয়—এটা সেই ডায়েরির ছবি, যেটা কিছুক্ষণ আগে আহমাদ মূসা তাকে পাঠিয়েছে।
২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর।
সাত বছর আগের একটা তারিখ।
অথচ ডায়েরির পাতায় লেখা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর রৌদ্রময়ীর সঙ্গে আহমাদ মূসার পরিচয় হবে।
এটা কীভাবে সম্ভব?
কেউ কি তার সঙ্গে নিষ্ঠুর একটা খেলা খেলছে?
নাকি এমন কোনো সত্য আছে, যেটা সে এখনো বুঝতে পারেনি?
রৌদ্রময়ী আবার গুগলে সার্চ করল।
আহমাদ মূসা — লেখক।
এবারও অসংখ্য নাম উঠে এল। কিন্তু তার খোঁজা মানুষটাকে পাওয়া গেল না।
সে সার্চের ধরন বদলাল।
“অলিখিত অধ্যায়” “আহমাদ মূসা”
কয়েকটি ফলাফল আসার পর একটা পুরোনো ওয়েবসাইট চোখে পড়ল। ওয়েবসাইটটা এখন আর ঠিকমতো খোলে না। সাদা পৃষ্ঠার ওপর কালো অক্ষরে কিছু লেখা দেখা যায়।
লেখকের নামের পাশে একটা ইমেইল ঠিকানা।
রৌদ্রময়ী ঠিকানাটা কপি করে সার্চ করল।
কোনো ফলাফল নেই।
তারপর ওয়েবসাইটের পুরোনো পাতাগুলো ঘাঁটতে গিয়ে সে একটা অদ্ভুত তথ্য পেল।
অলিখিত অধ্যায়ের শেষ গল্প প্রকাশিত হয়েছিল ২৭ অক্টোবর, ২০১৯ সালে।
গল্পের নাম—
“যে মানুষটি নিজের লেখককে খুঁজছিল।”
রৌদ্রময়ী গল্পটায় ক্লিক করল।
কিন্তু পৃষ্ঠায় মাত্র একটি বাক্য দেখা গেল।
“এই গল্পটি আর কখনো পড়া উচিত নয়।”
তার নিচে একটা তারিখ।
২৮ অক্টোবর, ২০১৯।
আরেকটু নিচে লাল অক্ষরে লেখা—
AUTHOR ACCOUNT DEACTIVATED.
লেখকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ।
রৌদ্রময়ী চেয়ারে হেলান দিল।
সাত বছর আগে ঠিক এই সময়েই কি কিছু একটা ঘটেছিল?
কী ঘটেছিল সেই লেখকের জীবনে?
আর তার গল্পের সঙ্গে রৌদ্রময়ীর সম্পর্ক কী?
ঠিক তখনই ফোনটা কেঁপে উঠল।
মেসেঞ্জারে নতুন মেসেজ।
আহমাদ মূসা: খুঁজে পেয়েছ?
রৌদ্রময়ী দ্রুত লিখল—
রৌদ্রময়ী: আপনার পাঠানো তথ্যগুলো সত্যি হলে, আপনিই আমাকে সব বলতে পারেন।
আহমাদ মূসা: পারি।
রৌদ্রময়ী: তাহলে বলছেন না কেন?
আহমাদ মূসা: কারণ তুমি এখনো ভুল জায়গায় খুঁজছ।
রৌদ্রময়ী: কোথায় খুঁজব?
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল।
আহমাদ মূসা: তোমার নিজের পুরোনো স্মৃতিতে।
রৌদ্রময়ী বিরক্ত হয়ে লিখল—
রৌদ্রময়ী: আমার জীবনে আপনার সঙ্গে আগে কখনো পরিচয় হয়নি। আমি আপনাকে চিনি না।
আহমাদ মূসা: তুমি আমাকে চেনো না। কিন্তু আমার লেখককে হয়তো চেনো।
রৌদ্রময়ী: কীভাবে?
আহমাদ মূসা: সাত বছর আগে তোমার বয়স কত ছিল?
রৌদ্রময়ী কিছুক্ষণ ভাবল।
তারপর লিখল—
রৌদ্রময়ী: চৌদ্দ।
আহমাদ মূসা: তখন কি তুমি ডায়েরি লিখতে?
রৌদ্রময়ীর আঙুল থেমে গেল।
লিখত।
খুব ছোটবেলায় সে ডায়েরি লিখত। তার মা বলতেন, মন খারাপ হলে কাগজের সঙ্গে কথা বলতে হয়।
কিন্তু নবম শ্রেণিতে ওঠার পর সে ডায়েরি লেখা ছেড়ে দিয়েছিল।
কারণ?
সেটা তার মনে পড়ছে না।
সে লিখল—
রৌদ্রময়ী: লিখতাম। কিন্তু এসব জিজ্ঞেস করছেন কেন?
উত্তর এল—
আহমাদ মূসা: তোমার পুরোনো ডায়েরিগুলো খুঁজে দেখো।
রৌদ্রময়ী আর কোনো উত্তর দিল না।
সে উঠে দাঁড়াল।
ঘরের এক কোণে কাঠের পুরোনো আলমারি। ছোটবেলার বই, পুরোনো খাতা আর অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র সেখানে রাখা।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটা নীল রঙের বাক্স পেল সে।
বাক্সের ভেতরে স্কুলের খাতা, কয়েকটা পুরোনো ছবি, শুকিয়ে যাওয়া ফুল আর একটা লাল মলাটের ডায়েরি।
ডায়েরিটা হাতে নিয়েই রৌদ্রময়ীর বুকটা ধক করে উঠল।
মলাটের ওপর ছোট অক্ষরে লেখা—
“আমার না-বলা গল্প।”
সে বিছানায় বসে প্রথম পাতা খুলল।
তারিখ—১২ জুন, ২০১৯।
“আজ স্কুলে সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছে। আমি নাকি খুব চুপচাপ। কেউ জানে না, আমার মাথার ভেতরে কত গল্প থাকে। আমি বড় হয়ে লেখক হতে চাই।”
রৌদ্রময়ী মৃদু হাসল।
পরের পাতাগুলোয় স্কুলের গল্প, বান্ধবীদের কথা, ছোট ছোট স্বপ্ন।
তারপর একটা পাতা এসে সে থেমে গেল।
তারিখ—২৭ অক্টোবর, ২০১৯।
পাতায় লেখা—
“আজ একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নে একজন ছেলে আমাকে বলেছে, আমার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার রাতে সে আমার সঙ্গে কথা বলবে। তার নাম আহমাদ মূসা। আমি জানি না, সে কে। কিন্তু তার চোখ দুটো আমার খুব চেনা মনে হয়েছে।”
রৌদ্রময়ীর হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
সে দ্রুত পরের পাতা উল্টাল।
পাতাটা ছেঁড়া।
তার পরের পাতাটাও।
শেষের কয়েকটি পাতা কেউ সাবধানে ছিঁড়ে ফেলেছে।
রৌদ্রময়ী উঠে দাঁড়িয়ে মাকে ডাকল।
— মা!
রান্নাঘর থেকে উত্তর এল, “কী হয়েছে?”
— আমার পুরোনো ডায়েরির শেষের পাতাগুলো কোথায়?
মা ঘরে এসে ডায়েরিটা দেখে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর বললেন, “তুই তো ছোটবেলায় ডায়েরি লিখতিস। একদিন খুব রাগ করে সব ছিঁড়ে ফেলেছিলি।”
— কেন?
মা কপাল কুঁচকে ভাবলেন।
— ঠিক মনে নেই। তুই কয়েক দিন খুব অসুস্থ ছিলি। রাতে ঘুমের মধ্যে কী সব বলতিস। তারপর একদিন বললি, তোর ডায়েরিতে এমন একজনের কথা লেখা আছে, যে নাকি সত্যি হয়ে যাবে।
রৌদ্রময়ী মায়ের হাত চেপে ধরল।
— মা, আমি কি কাউকে চিনতাম? আহমাদ মূসা নামে কাউকে?
মায়ের মুখের রং বদলে গেল।
এক মুহূর্তের জন্য।
কিন্তু রৌদ্রময়ীর চোখ এড়াল না।
— মা?
মা দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
— না তো। এমন নাম কোথায় শুনলি?
— তুমি মিথ্যা বলছ।
— রৌদ্রময়ী, অনেক রাত হয়েছে। এসব নিয়ে আর ভাবিস না।
মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
কিন্তু দরজার কাছে গিয়ে থেমে একবার পেছনে তাকালেন।
সেই দৃষ্টিতে এমন একটা ভয় ছিল, যা রৌদ্রময়ী আগে কখনো মায়ের চোখে দেখেনি।
রাত ১২টা ২৬ মিনিট
রৌদ্রময়ী আবার মেসেঞ্জারে ঢুকল।
রৌদ্রময়ী: আমি আমার পুরোনো ডায়েরি খুঁজে পেয়েছি।
আহমাদ মূসা: জানি।
রৌদ্রময়ী: কীভাবে জানেন?
আহমাদ মূসা: কারণ তুমি যে পাতাটা পড়েছ, সেই পাতাটা আমিই লিখেছিলাম।
রৌদ্রময়ী কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর টাইপ করল—
রৌদ্রময়ী: আপনি কি আমার ডায়েরি পড়েছেন?
আহমাদ মূসা: না।
রৌদ্রময়ী: তাহলে আমার ডায়েরিতে আপনার নাম এল কীভাবে?
আহমাদ মূসা: এই প্রশ্নের উত্তর তোমাকে একদিন দিতেই হবে।
রৌদ্রময়ী: আপনি কি আমার অতীত জানেন?
আহমাদ মূসা: তোমার অতীতের একটা অংশ জানি। কিন্তু পুরোটা নয়।
রৌদ্রময়ী: আপনার লেখক কে?
এবার দীর্ঘ নীরবতা।
রৌদ্রময়ী অপেক্ষা করতে লাগল।
এক মিনিট।
দুই মিনিট।
তারপর উত্তর এল।
আহমাদ মূসা: তুমি যাকে খুঁজছ, সে তোমার খুব কাছেই আছে।
রৌদ্রময়ী: আমার মা?
কোনো উত্তর নেই।
রৌদ্রময়ী: আপনি কি আমার মাকে চেনেন?
উত্তর এল—
আহমাদ মূসা: তোমার মা আমাকে চেনেন না। কিন্তু তিনি জানেন, আমার নাম একদিন তোমার জীবনে ফিরে আসবে।
রৌদ্রময়ীর বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
তার মা কি সত্যিই কিছু জানেন?
কিন্তু সাত বছর আগে তার বয়স ছিল মাত্র চৌদ্দ। তখন তো আরিশের সঙ্গেও তার পরিচয় হয়নি। তার বর্তমান জীবনের এত কিছু কীভাবে একটা পুরোনো ডায়েরিতে লেখা থাকতে পারে?
সে লিখল—
রৌদ্রময়ী: আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই।
আহমাদ মূসা: সেটা সম্ভব নয়।
রৌদ্রময়ী: কেন?
আহমাদ মূসা: কারণ আমি সেখানে নেই।
রৌদ্রময়ী: কোথায় নেই?
আহমাদ মূসা: বাস্তব পৃথিবীতে।
রৌদ্রময়ী এবার ফোনটা নামিয়ে রাখল।
লোকটা কি তাকে পাগল বানিয়ে ফেলতে চাইছে?
নাকি সবকিছুর পেছনে এমন একটা সত্য আছে, যা সে বুঝতে পারছে না?
ঠিক তখনই মেসেঞ্জারে একটা নতুন ছবি এল।
আহমাদ মূসা পাঠিয়েছে।
ছবিটা দেখে রৌদ্রময়ীর পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল।
এটা তার নিজের ছবি।
কিন্তু বর্তমানের নয়।
ছবিতে চৌদ্দ বছরের একটা মেয়ে স্কুলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। সাদা-নীল পোশাক। কাঁধে ব্যাগ। চোখে অদ্ভুত এক বিষণ্নতা।
রৌদ্রময়ী ছবিটা চিনতে পারল।
এটা তার স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানের ছবি।
কিন্তু ছবিটার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে আরেকজন।
একটা ছেলে।
কালো শার্ট পরা।
মুখটা ঝাপসা।
রৌদ্রময়ী এই ছেলেটাকে কখনো দেখেনি।
ছবির নিচে আহমাদ মূসা লিখেছে—
“তুমি কি এই মানুষটাকে চিনতে পারছ?”
রৌদ্রময়ী কাঁপা হাতে উত্তর দিল—
“না। ও কে?”
উত্তর এল—
“তোমার গল্পের প্রথম পাঠক।”
তারপর আরও একটা মেসেজ।
“আর তোমার জীবনের প্রথম মিথ্যা সাক্ষী।”
রৌদ্রময়ী ছবিটা বড় করে দেখল।
ছেলেটার মুখ স্পষ্ট নয়। কিন্তু তার ডান হাতের কবজিতে একটা কালো সুতো বাঁধা।
অদ্ভুত ব্যাপার, রৌদ্রময়ীর নিজের কবজিতেও ঠিক একই রকম একটা সুতো বাঁধা।
সুতোটা সে বহু বছর ধরে পরে আছে।
কোথা থেকে পেয়েছিল, মনে নেই।
কেউ একজন নাকি ছোটবেলায় তাকে দিয়েছিল।
কিন্তু কে?
সে তাড়াতাড়ি মায়ের ঘরের দিকে ছুটল।
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে শুনতে পেল, মা ফোনে কথা বলছেন।
মায়ের কণ্ঠস্বর কাঁপছে।
— আমি তো ভেবেছিলাম, সব শেষ হয়ে গেছে।
ওপাশের মানুষটার কথা শোনা গেল না।
মা আবার বললেন—
— না। ওর জানার কথা নয়। সাত বছর ধরে আমি ওকে কিছু জানতে দিইনি।
রৌদ্রময়ী দরজার সামনে জমে গেল।
তারপর মায়ের পরের কথাটা শুনে মনে হলো, পৃথিবীর সমস্ত শব্দ থেমে গেছে।
“আহমাদ মূসা যদি আবার ফিরে এসে থাকে, তাহলে আমাদের দুজনেরই বিপদ।”
পর্বের শেষ দৃশ্য
রৌদ্রময়ী নিজের ঘরে ফিরে এল।
ফোনে আহমাদ মূসার চ্যাট তখনো খোলা।
সে লিখল—
রৌদ্রময়ী: আমার মা আপনাকে চেনেন।
এবার উত্তর আসতে দেরি হলো না।
আহমাদ মূসা: আমি জানি।
রৌদ্রময়ী: তিনি বললেন, আপনি ফিরে এসেছেন। কোথা থেকে ফিরে এসেছেন?
আহমাদ মূসা উত্তর দিল—
“যেখান থেকে একজন কাল্পনিক চরিত্রের ফিরে আসার কথা নয়।”
রৌদ্রময়ী লিখল—
“আপনি কি আমার মায়ের কোনো ক্ষতি করতে চান?”
উত্তর এল—
“না। আমি শুধু জানতে চাই, সাত বছর আগে তোমার মা কেন আমার গল্পের শেষ অধ্যায়টা ছিঁড়ে ফেলেছিলেন।”
তারপর আরেকটা মেসেজ।
“রৌদ্রময়ী, তোমার মাকে জিজ্ঞেস করো—২৮ অক্টোবর, ২০১৯ সালের রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?”
রৌদ্রময়ী তারিখটা মনে রাখল।
আগামীকাল ২৮ অক্টোবর।
সাত বছর আগে এই তারিখেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল লেখক আহমাদ মূসার অ্যাকাউন্ট।
আর সেই রাতেই তার জীবনের গল্পে প্রথমবারের মতো প্রবেশ করেছিল এমন একজন মানুষ, যার অস্তিত্ব থাকার কথা নয়।
ফোনের স্ক্রিনে শেষবারের মতো একটা মেসেজ ভেসে উঠল।
আহমাদ মূসা: একটা কথা মনে রেখো, রৌদ্রময়ী। যে গল্পের শেষ অধ্যায় কেউ ছিঁড়ে ফেলে, সেই গল্পের চরিত্ররা কোনোদিন নিজেদের শেষটা জানতে পারে না।
তারপর প্রোফাইলটা অদৃশ্য হয়ে গেল।
রৌদ্রময়ী আবার সার্চ করল।
আহমাদ মূসা।
কোনো ফলাফল নেই।
যেন মানুষটা কখনো ছিলই না।
কিন্তু তার ইনবক্সে মেসেজগুলো রয়ে গেছে।
ছবিটাও রয়ে গেছে।
আর মায়ের বলা সেই নামটা—
আহমাদ মূসা।
রৌদ্রময়ী জানালার বাইরে তাকাল।
তারপর ফিসফিস করে বলল—
“তুমি যদি সত্যিই না থাকো, তাহলে আমাকে এত ভয় দেখাচ্ছ কেন?”
ঠিক সেই মুহূর্তে ফোনের স্ক্রিন নিজে থেকেই জ্বলে উঠল।
একটা নতুন মেসেজ।
প্রেরক—নীরব পাঠক।
মেসেজে মাত্র পাঁচটি শব্দ।
“তোমার মা পুরো সত্য জানেন না।”
চলবে...
পরবর্তী পর্ব: পর্ব ৩ — ২৮ অক্টোবরের সেই রাত।
সাত বছর আগের বন্ধ হয়ে যাওয়া অ্যাকাউন্ট, মায়ের গোপন অতীত এবং রৌদ্রময়ীর হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি—সবকিছুর সূত্র এক জায়গায় এসে মিলবে। কিন্তু সেই সূত্র ধরে এগোতে গিয়ে রৌদ্রময়ী আবিষ্কার করবে, আহমাদ মূসার গল্পের প্রথম খসড়ায় তার নিজের হাতের লেখাও রয়েছে।

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।