পর্ব ১০ — শেষ পর্ব: শেষ ভালোবাসা
১. শেষ রাত, শেষ সুযোগ
১৭ অক্টোবর ২০২৬।
ঘড়িতে রাত ১১টা ৪৫ মিনিট।
মেহরিন দাঁড়িয়ে আছে মমের রাজ্যের শেষ প্রান্তে। তার হাতে আহমাদের আংটি।
আংটির ভেতর থেকে ক্ষীণ কণ্ঠ ভেসে আসছে।
— মেহরিন...
সে আংটিটি বুকে চেপে ধরল।
— আহমাদ, আমি এসেছি। এবার তোমাকে নিয়ে যাব।
— তুমি জানো না, কী করতে যাচ্ছ।
— জানি। পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে তোমাকে হারাতে হবে।
আহমাদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
— তুমি কি আমাকে ভুলে যেতে পারবে?
মেহরিন কাঁদতে কাঁদতে উত্তর দিল,
— তোমাকে ভুলে যাওয়ার চেয়ে কঠিন কিছু নেই। কিন্তু তোমাকে বন্দি করে রাখার চেয়ে কঠিন ভালোবাসা আর নেই।
ঠিক তখনই আকাশে একটি বিশাল ফাটল দেখা দিল।
সাদা মোমের বৃষ্টি শুরু হলো।
মমের রাজ্য পৃথিবীর সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।
২. ডক্টর রাশেদের শেষ স্বীকারোক্তি
মেহরিন ফিরে গেল প্রাসাদের ভেতরে।
ডক্টর রাশেদ এখনো মাটিতে পড়ে আছে।
তার বুকের ভেতরে কালো হৃদয়টি কাঁপছে।
মেহরিন বলল,
— নূরজাহানকে মুক্ত করো।
রাশেদ হেসে উঠল।
— তুমি কি জানো, আমি কেন মম তৈরি করেছিলাম?
— অমর হওয়ার জন্য।
— না। তার চেয়েও বড় কারণ ছিল।
সে ধীরে ধীরে উঠে বসল।
— ১৮৯৮ সালে আমার স্ত্রী মারা গিয়েছিল। তার নাম ছিল আয়েশা। আমি তাকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলাম। মৃত্যুকে মেনে নিতে পারিনি।
মেহরিন চুপ করে শুনল।
রাশেদ বলতে লাগল,
— নূরজাহান আমার গবেষণায় সাহায্য করেছিল। আমরা এমন এক পদার্থ তৈরি করলাম, যা মৃত মানুষের স্মৃতি ধরে রাখতে পারে। কিন্তু একসময় বুঝলাম, স্মৃতি ধরে রাখা আর আত্মাকে ফিরিয়ে আনা এক নয়।
— তারপরও তুমি থামোনি।
— কারণ আমি আয়েশার কণ্ঠ শুনতে পেতাম। সে আমাকে ডাকত। আমি ভাবতাম, সে ফিরে আসবে।
মেহরিন বলল,
— কিন্তু সেটা আয়েশা ছিল না। মম তার স্মৃতি ব্যবহার করে তোমাকে বন্দি করেছিল।
রাশেদ মাথা নিচু করল।
— হ্যাঁ। আমি এত বছর ধরে নিজের ভুলকে ভালোবাসা বলে চালিয়ে গেছি।
তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
— আমি অমর হতে চাইনি, মেহরিন। আমি শুধু তাকে আরেকবার দেখতে চেয়েছিলাম।
মেহরিন বলল,
— ভালোবাসার মানুষকে হারানো কষ্টের। কিন্তু তাকে বন্দি করে রাখা ভালোবাসা নয়।
রাশেদ কোনো উত্তর দিল না।
৩. মমের হৃদয়
প্রাসাদের মাঝখানে একটি বিশাল দরজা খুলে গেল।
দরজার ওপাশে অন্ধকার।
মেহরিন প্রবেশ করতেই দেখল, মাঝখানে একটি বিশাল সাদা হৃদয় ঝুলছে।
হৃদয়টি মোমের তৈরি।
তার ভেতরে অসংখ্য মানুষের মুখ।
কেউ কাঁদছে, কেউ হাসছে, কেউ সাহায্য চাইছে।
তাদের প্রত্যেকের কণ্ঠ একসঙ্গে ভেসে আসছে।
— আমাদের মুক্ত করো!
মেহরিন বুঝতে পারল, এটাই মমের মূল হৃদয়।
হঠাৎ সেই হৃদয়ের ভেতর থেকে নূরজাহানের মুখ বেরিয়ে এলো।
— মেহরিন!
মেহরিন ছুটে গেল।
— মা!
নূরজাহান বললেন,
— মা, আমাকে ক্ষমা করো। আমি তোমাকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে তোমার আত্মাকে অসম্পূর্ণ করে দিয়েছিলাম।
মেহরিন কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— তুমি আমাকে কেন সত্য বলোনি?
— কারণ আমি ভয় পেয়েছিলাম। আমি জানতাম, তুই সত্য জানতে পারলে আমাকে ঘৃণা করবি।
— আমি তোমাকে ঘৃণা করি না, মা। আমি শুধু চাই, আর কেউ যেন এই অভিশাপে না পড়ে।
নূরজাহান বললেন,
— তাহলে শোন। মমকে ধ্বংস করার একটাই উপায় আছে।
— কী?
— মমের হৃদয়ে থাকা প্রথম স্মৃতিটিকে মুক্ত করতে হবে।
— কোন স্মৃতি?
নূরজাহান ধীরে বললেন,
— আহমাদের জন্মের আগের স্মৃতি। যে স্মৃতি দিয়ে প্রথমবার মমের বীজ তৈরি হয়েছিল।
মেহরিন বুঝতে পারল, শেষ সত্যটি এখনো বাকি।
৪. আহমাদের প্রথম জীবন
মমের হৃদয় থেকে একটি আলো বেরিয়ে এলো।
সেই আলোর মধ্যে মেহরিন দেখল ১৮৯৮ সালের একটি দৃশ্য।
এক তরুণ দাঁড়িয়ে আছে নূরজাহানের গবেষণাগারের সামনে।
তার মুখ আহমাদের মতো।
কিন্তু তার নাম আহমাদ নয়।
নূরজাহান তাকে ডাকছেন—
— রাশেদ!
মেহরিন অবাক হয়ে গেল।
তাহলে এই তরুণ ডক্টর রাশেদ?
দৃশ্যের মধ্যে তরুণ রাশেদ বলছে,
— নূরজাহান, আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।
নূরজাহান হাসলেন।
— বলো।
রাশেদ বলল,
— আমি তোমাকে ভালোবাসি।
নূরজাহান চুপ করে রইলেন।
তারপর বললেন,
— আমি তোমাকে ভালোবাসতে পারব না। আমার স্বামী আছে, আমার সন্তান আছে।
রাশেদের মুখ বদলে গেল।
সে বলল,
— তাহলে তুমি আমাকে কোনোদিন ভালোবাসবে না?
নূরজাহান উত্তর দিলেন,
— ভালোবাসা জোর করে পাওয়া যায় না।
দৃশ্য মিলিয়ে গেল।
মেহরিন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
এবার সে বুঝতে পারল, রাশেদের অভিশাপের পেছনে শুধু মৃত্যুভয় ছিল না।
ছিল প্রত্যাখ্যানের যন্ত্রণা, অধিকারবোধ এবং এক অসমাপ্ত ভালোবাসা।
কিন্তু আরও একটি দৃশ্য বাকি ছিল।
রাশেদ একা বসে একটি কাচের পাত্রে নিজের রক্ত মেশাচ্ছে।
সে বলছে,
— যদি ভালোবাসা আমাকে গ্রহণ না করে, তাহলে আমি এমন এক পৃথিবী তৈরি করব, যেখানে কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে পারবে না।
সেই মুহূর্তে প্রথম মমের বীজ তৈরি হয়েছিল।
মেহরিন চোখ বন্ধ করল।
— এত মানুষের কষ্টের শুরু একটা মানুষের ভুল ভালোবাসা থেকে!
৫. আহমাদ কেন আলাদা ছিল?
আংটির ভেতর থেকে আহমাদের কণ্ঠ আবার ভেসে এলো।
— মেহরিন, একটা কথা তোমাকে কখনো বলা হয়নি।
— বলো।
— আমি শুধু মমের প্রথম শিকার নই। আমি সেই প্রথম মানুষ, যে মমের অভিশাপের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল।
মেহরিন বলল,
— কীভাবে?
আহমাদ উত্তর দিল,
— আমার শরীরে মমের বীজ ছিল। তাই আমি যাকে ভালোবাসতাম, তার স্মৃতিও মম নিজের করে নিতে পারত। কিন্তু আমি কাউকে ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করতে চাইনি।
— তাহলে তুমি আমাকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেয়েছিলে?
— হ্যাঁ। আমি জানতাম, তুমি আমাকে ভালোবাসলে তুমিও মমের শিকার হবে।
মেহরিন কাঁদল।
— অথচ আমি তোমাকে হারানোর ভয়েই তোমাকে অভিশাপ দিয়েছিলাম।
আহমাদ বলল,
— আমরা দুজনেই ভুল করেছি। তুমি আমাকে আটকে রাখতে চেয়েছিলে। আর আমি তোমাকে সত্য না বলে দূরে সরিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম।
মেহরিন বলল,
— তাহলে এখন কী হবে?
আহমাদ উত্তর দিল,
— এবার আমাদের কাউকে কাউকে আটকে রাখতে হবে না। শুধু মুক্ত করে দিতে হবে।
৬. শেষ সিদ্ধান্ত
মমের হৃদয়ের সামনে দুটি পথ তৈরি হলো।
প্রথম পথের ওপর লেখা—
আহমাদকে ফিরিয়ে আনো।
দ্বিতীয় পথের ওপর লেখা—
পৃথিবীর সব স্মৃতি মুক্ত করো।
নূরজাহান বললেন,
— প্রথম পথ বেছে নিলে আহমাদ আবার জীবিত হবে। কিন্তু মমের হৃদয় বেঁচে থাকবে। একদিন আবার অভিশাপ ফিরে আসবে।
মেহরিন জিজ্ঞেস করল,
— আর দ্বিতীয় পথ?
— মমের হৃদয় ধ্বংস হবে। পৃথিবীর সব বন্দি আত্মা মুক্তি পাবে। কিন্তু আহমাদের শরীর আর ফিরবে না।
মেহরিনের চোখে পানি জমল।
সে আংটিটি হাতে নিয়ে বলল,
— আহমাদ, তুমি কী চাও?
আংটির ভেতর থেকে উত্তর এলো,
— আমি চাই, কেউ যেন আর আমার মতো কষ্ট না পায়।
— তুমি কি আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে?
আহমাদ মৃদু হেসে বলল,
— আমি যদি তোমার স্মৃতিতে বেঁচে থাকি, তাহলে কি সত্যিই হারিয়ে যাব?
মেহরিন চোখ বন্ধ করল।
তারপর দ্বিতীয় পথের দিকে এগিয়ে গেল।
৭. শেষ ভালোবাসা
মেহরিন মমের হৃদয়ের সামনে দাঁড়াল।
সে আহমাদের আংটিটি হৃদয়ের ওপর রাখল।
তারপর বলল,
— আমি তোমাকে আর নিজের করে চাই না, আহমাদ। আমি চাই তুমি মুক্ত হও।
সঙ্গে সঙ্গে আংটি থেকে সোনালি আলো বেরিয়ে এলো।
মমের হৃদয় কেঁপে উঠল।
ডক্টর রাশেদ চিৎকার করে বলল,
— না! এটা কোরো না! আমার সবকিছু শেষ হয়ে যাবে!
মেহরিন বলল,
— তোমার কষ্ট সত্যি ছিল, রাশেদ। কিন্তু সেই কষ্টের জন্য অন্যদের জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার তোমার ছিল না।
রাশেদ হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।
তার বুকের ভেতর থেকে কালো হৃদয়টি বেরিয়ে এলো।
সে শেষবারের মতো নূরজাহানের দিকে তাকাল।
— নূরজাহান, আমাকে ক্ষমা করবে?
নূরজাহান শান্ত কণ্ঠে বললেন,
— ক্ষমা করতে পারি। কিন্তু তোমার ভুলের দায় মুছে দিতে পারি না।
রাশেদের চোখ বন্ধ হয়ে গেল।
তার শরীর সাদা মোমের মতো গলে মাটিতে মিশে গেল।
মমের বিশাল হৃদয় ফেটে গেল।
তার ভেতর থেকে হাজার হাজার আলোকিত আত্মা বেরিয়ে আকাশে ছড়িয়ে পড়ল।
কেউ মায়ের কাছে ফিরে গেল।
কেউ সন্তানের কাছে।
কেউ এমন মানুষের কাছে, যাকে সে বহু বছর আগে হারিয়েছিল।
মেহরিন দেখল, নূরজাহান তার দিকে এগিয়ে আসছেন।
তিনি মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
— মা, এবার আমি যাচ্ছি।
মেহরিন কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— আবার কি দেখা হবে?
নূরজাহান হাসলেন।
— ভালোবাসা সত্যি হলে দেখা হওয়ার জন্য একই পৃথিবীতে থাকতে হয় না।
তারপর তিনিও আলোর মধ্যে মিলিয়ে গেলেন।
৮. আহমাদের বিদায়
সবকিছু ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে আসছে।
মেহরিনের সামনে শেষবারের মতো আহমাদ দাঁড়াল।
এবার তার শরীরে কোনো মম নেই।
সে আগের মতোই হাসছে।
মেহরিন দৌড়ে তার কাছে গেল।
— আহমাদ!
আহমাদ তার হাত ধরল।
— কেমন আছ?
মেহরিন কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— তোমাকে ছাড়া ভালো থাকব কীভাবে?
আহমাদ বলল,
— তুমি ভালো থাকবে। কারণ এবার তুমি আমাকে ভালোবেসে মুক্ত করে দিয়েছ।
মেহরিন বলল,
— আমি কি তোমাকে আর কখনো দেখতে পাব না?
আহমাদ তার কপালে হাত রাখল।
— যখন বৃষ্টি হবে, যখন কোনো পুরোনো বইয়ের পাতায় আমার নাম পাবে, যখন একা বসে কাউকে খুব মনে পড়বে—তখন বুঝবে, আমি তোমার স্মৃতির কোথাও আছি।
মেহরিন বলল,
— আমি তোমাকে ভুলে যেতে চাই না।
আহমাদ উত্তর দিল,
— আমাকে ভুলে যেও না। শুধু আমার জন্য নিজের জীবন থামিয়ে রেখো না।
তারপর আহমাদ ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল।
মেহরিন তার হাত ধরে রাখতে চাইল।
কিন্তু এবার সে হাত ছেড়ে দিল।
আহমাদ হাসল।
বলল,
— ভালোবাসি, মেহরিন। এবার কোনো অভিশাপ ছাড়া।
তারপর সে আলোর মধ্যে হারিয়ে গেল।
মমের রাজ্য ভেঙে পড়ল।
সব দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
সব আয়না নিভে গেল।
আর পৃথিবী থেকে মমের অভিশাপ চিরতরে শেষ হয়ে গেল।
৯. এক বছর পর
১৭ অক্টোবর ২০২৭।
একটি পুরোনো লাইব্রেরি।
মেহরিন জানালার পাশে বসে বই পড়ছে।
এখন তার জীবন স্বাভাবিক।
সে আবার হাসতে শিখেছে।
আয়না আর তাকে ভয় দেখায় না।
রাতে ঘুম ভাঙলে বুকের ভেতর থেকে কোনো অচেনা কণ্ঠও শোনা যায় না।
কিন্তু প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর সে এই লাইব্রেরিতে আসে।
কারণ এই দিনেই আহমাদ তার জীবনে এসেছিল।
আজও সে একটি বই খুলল।
বইটির নাম—
মম: হারিয়ে যাওয়া আত্মার ইতিহাস।
বইয়ের শেষ পাতায় একটি বাক্য লেখা।
মেহরিন আগে কখনো এই বাক্য দেখেনি।
সেখানে লেখা—
'যে ভালোবাসা কাউকে মুক্তি দিতে পারে না, সে ভালোবাসা নয়—অভিশাপ। আর যে ভালোবাসা হারিয়েও কাউকে বাঁচিয়ে রাখে, সেটাই সত্যিকারের ভালোবাসা।'
মেহরিনের চোখ ভিজে উঠল।
হঠাৎ জানালা দিয়ে একটুকরো বাতাস এসে বইয়ের পাতা উল্টে দিল।
শেষ পাতার নিচে আরও একটি লাইন দেখা গেল।
'মেহরিন, আমি কথা রেখেছি। আমি তোমার স্মৃতিতে আছি। — আহমাদ'
মেহরিন মৃদু হাসল।
তারপর বইটি বুকের কাছে চেপে ধরল।
ঠিক সেই মুহূর্তে লাইব্রেরির বাইরে একটি ছোট্ট ছেলে তার মাকে জিজ্ঞেস করল,
— মা, মম কী?
মা হেসে উত্তর দিলেন,
— মম মানে মোম। যেটা আগুনে গলে যায়।
ছেলেটি আবার জিজ্ঞেস করল,
— তাহলে ভালোবাসাও কি গলে যায়?
মা ছেলেটিকে বুকে জড়িয়ে বললেন,
— না বাবা। সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো গলে যায় না।
মেহরিন জানালার বাইরে তাকাল।
আকাশে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
সে চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলল,
— আমিও তোমাকে ভালোবাসি, আহমাদ।
দূরে কোথাও যেন একটি পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো—
— জানি।
সমাপ্ত
মম — ১০ পর্বের সম্পূর্ণ গল্প
গল্পের রহস্যগুলোর চূড়ান্ত সমাধান
1. মম কী? — এটি এমন এক অতিপ্রাকৃত পদার্থ, যা মানুষের স্মৃতি ও আত্মাকে বন্দি করতে পারত।
2. ডক্টর রাশেদ কে? — মমের মূল বীজ তৈরির পেছনের মানুষ। মৃত্যুভয় ও প্রত্যাখ্যাত ভালোবাসা তাকে অন্ধ করেছিল।
3. নূরজাহান কে ছিলেন? — মমের গবেষণায় জড়িত বিজ্ঞানী এবং মেহরিনের মা। তিনি মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে ভয়ংকর ভুল করেছিলেন।
4. মেহরিনের জন্মরহস্য কী? — সে ১৮৯৮ সালে মারা যাওয়া নূরজাহানের মেয়ে। মমের মাধ্যমে ফিরে এলেও তার আত্মা অসম্পূর্ণ ছিল।
5. দ্বিতীয় মেহরিন কে? — মেহরিনের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ও অনুভূতির অংশ, যাকে রাশেদ নিজের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিল।
6. আহমাদ কে? — ১৭ অক্টোবর ১৯৯৮ সালে জন্মের তিন মিনিট পর মারা যাওয়া শিশু, যাকে মমের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
7. আহমাদ কেন অভিশপ্ত ছিল? — তার শরীরে মমের প্রথম বীজ ছিল। ফলে ভালোবাসার মানুষদের অস্তিত্বও বিপন্ন হতো।
8. আয়রা কে ছিল? — সালমার মেয়ের স্মৃতি থেকে তৈরি একটি অবয়ব, যে মেহরিনকে পথ দেখিয়েছিল।
9. সালমা কেন সাহায্য করেছিলেন? — মমের কারণে নিজের মেয়েকে হারিয়ে তিনি অভিশাপের অবসান চেয়েছিলেন।
10. অভিশাপ কীভাবে শেষ হলো? — মেহরিন আহমাদকে নিজের করে রাখার বদলে মুক্ত করে দেয়। মমের হৃদয় ধ্বংস হয় এবং বন্দি আত্মারা মুক্তি পায়।
শেষ কথা: মানুষকে ভালোবাসা যায়, কিন্তু ভালোবাসার নামে তাকে বন্দি করে রাখা যায় না। কারণ কখনো কখনো কাউকে সত্যিকারের ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো—তাকে মুক্ত করে দেওয়া।

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।