পর্ব ৩: গলে যাওয়া অস্তিত্ব
১. দরজার ওপাশে কে?
রাত তখন ২টা ১৩ মিনিট।
আহমাদ মূসা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে। তার বুকের ভেতর হৃদস্পন্দন যেন থেমে থেমে চলছে।
দরজার ওপাশ থেকে আবার তার নিজের কণ্ঠ ভেসে এলো।
— আহমাদ, দরজাটা খোল। সময় খুব কম।
আহমাদ কাঁপা গলায় বলল,
— তুমি কে?
ওপাশ থেকে উত্তর এলো,
— আমি তুই। তবে এমন এক তুই, যে নিজের ভালোবাসার জন্য পুরো পৃথিবী হারিয়েছে।
— তুমি আমার ভবিষ্যৎ?
— ভবিষ্যৎ নয়। আমি সেই পরিণতি, যেটা থেকে তুই পালাতে চাস।
আহমাদ দরজার হাতল স্পর্শ করতেই হাতটা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেল।
হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে সাদা তরল বের হতে শুরু করল।
তরলটা ধীরে ধীরে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ছে।
তারপর সেই তরলের ওপর কয়েকটি শব্দ ফুটে উঠল—
'একজনকে বাঁচাতে হলে অন্যজনকে অস্তিত্বহীন হতে হবে।'
আহমাদ পিছিয়ে গেল।
ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল।
মেহরিন ফোন করেছে।
— আহমাদ, তুমি কি এখনো দরজা খোলোনি?
— না। কিন্তু দরজার ওপাশে কেউ আছে।
— মন দিয়ে শোনো। আজ রাতটা তোমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর রাত হতে যাচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই দরজা খুলবে না।
— মেহরিন, তুমি আসলে কে?
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর মেয়েটি বলল,
— আমি সেই মানুষ, যার জন্য তুমি একবার পুরো পৃথিবীর বিরুদ্ধে গিয়েছিলে।
ফোন কেটে গেল।
২. বাবার ফিরে আসা
হঠাৎ দরজায় প্রচণ্ড শব্দ হলো।
ধাম!
ধাম!
ধাম!
এরপর সবকিছু নিস্তব্ধ।
আহমাদ সাহস করে দরজার কাছে গেল।
দরজাটা নিজে থেকেই খুলে গেল।
সামনে দাঁড়িয়ে একজন বৃদ্ধ মানুষ।
পরনে সাদা পাঞ্জাবি। চোখে পরিচিত মায়া।
আহমাদ তাকে দেখেই স্তব্ধ হয়ে গেল।
— বাবা!
মানুষটি মৃদু হাসলেন।
— কেমন আছিস, বাবা?
আহমাদ ছুটে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরতে চাইল।
কিন্তু বৃদ্ধ মানুষটি হাত তুলে থামিয়ে দিলেন।
— কাছে আসিস না।
— কেন বাবা?
— আমার শরীর আর মানুষের শরীর নেই।
আহমাদ এবার ভালো করে তাকাল।
বৃদ্ধের বুকের মাঝখানে একটা বড় গর্ত। সেই গর্তের ভেতর থেকে সাদা মম গলে পড়ছে।
আহমাদ কেঁদে বলল,
— তোমার কী হয়েছে?
বাবা উত্তর দিলেন,
— তোকে বাঁচাতে গিয়ে আমি নিজের অস্তিত্ব হারিয়েছি।
— তুমি আমাকে বাঁচিয়েছ?
— হ্যাঁ। কিন্তু তোর জন্য যে অভিশাপটা আমি নিজের শরীরে নিয়েছিলাম, সেটা এখন আবার জেগে উঠেছে।
আহমাদ জিজ্ঞেস করল,
— এই অভিশাপের শেষ কোথায়?
বাবা তার দিকে তাকিয়ে বললেন,
— মেহরিনের কাছে।
— মেহরিন কী জানে?
— সে শুধু অভিশাপের রহস্য জানে না, অভিশাপের চাবিও তার কাছে।
কথা শেষ হতেই বৃদ্ধের শরীর ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে গেল।
মেঝেতে পড়ে রইল একটা ছোট্ট চাবি।
চাবির গায়ে খোদাই করা—
M-1998
৩. মৃত শহরের দরজা
পরদিন সকালে আহমাদ চাবিটা নিয়ে মেহরিনকে খুঁজতে বের হলো।
তার ফোনে একটি ঠিকানা এসেছিল।
পুরোনো শহরের শেষ প্রান্তে একটা পরিত্যক্ত রেলস্টেশন।
স্টেশনটি প্রায় ত্রিশ বছর ধরে বন্ধ।
সেখানে পৌঁছে আহমাদ দেখতে পেল, প্ল্যাটফর্মে একজন নারী বসে আছে।
মেহরিন।
আহমাদ কাছে গিয়ে বলল,
— তোমাকে অনেক প্রশ্ন করার আছে।
মেহরিন বলল,
— জানি।
— আমার বাবা কি সত্যিই ফিরে এসেছিলেন?
— হ্যাঁ।
— তিনি কোথায়?
— তোমাকে বাঁচানোর জন্য আবার মমের মধ্যে ফিরে গেছেন।
আহমাদ রাগে বলল,
— তুমি সব জানো, তাই না? অথচ আমাকে কিছুই বলছ না!
মেহরিন চোখ নামিয়ে বলল,
— সব সত্য একসঙ্গে জানলে তুমি বাঁচতে পারবে না।
— আমি কি আদৌ বেঁচে আছি?
মেহরিন এবার তার দিকে তাকাল।
— সেটাই তো সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
হঠাৎ স্টেশনের পুরোনো ঘড়িতে সময় দেখা গেল ১২টা ১৭ মিনিট।
কিন্তু ঘড়িটি বহু বছর ধরে বন্ধ ছিল।
তারপর দূর থেকে একটা ট্রেনের শব্দ ভেসে এলো।
মেহরিন আতঙ্কিত হয়ে উঠল।
— না! আজ তো ট্রেন আসার কথা নয়!
আহমাদ তাকিয়ে দেখল, কুয়াশার ভেতর দিয়ে একটা কালো ট্রেন এগিয়ে আসছে।
ট্রেনের প্রতিটি জানালায় একজন করে মানুষ দাঁড়িয়ে।
সবাইয়ের মুখ আহমাদের মতো!
ট্রেনটি থামল।
একটি দরজা খুলে গেল।
ভেতর থেকে একজন কন্ডাক্টর বলল,
— আহমাদ মূসা, আপনার যাত্রার সময় হয়েছে।
আহমাদ বলল,
— কোথায় যেতে হবে?
কন্ডাক্টর উত্তর দিল,
— যেখানে মৃত মানুষগুলো জীবিত থাকে, আর জীবিত মানুষগুলো ধীরে ধীরে গলে যায়।
৪. ট্রেনের ভেতরে নিজের মৃত্যু
আহমাদ ট্রেনে উঠতে চাইলে মেহরিন তার হাত ধরে ফেলল।
— উঠবে না!
— কেন?
— এই ট্রেনে যারা ওঠে, তারা নিজেদের অতীতের সঙ্গে দেখা করে। কিন্তু কেউ নিজের অতীত থেকে ফিরে আসতে পারে না।
আহমাদ বলল,
— আমার সত্য জানতে হবে।
মেহরিন এবার তার হাত ছেড়ে দিল।
— তাহলে মনে রেখো, যা দেখবে তার সবকিছু সত্য নয়।
আহমাদ ট্রেনে উঠল।
ভেতরে ঢুকেই সে অবাক হয়ে গেল।
প্রতিটি আসনে বসে আছে তার পরিচিত মানুষ।
তার মা।
তার বাবা।
তার দাদা।
এমনকি ছোটবেলার বন্ধুরাও।
কিন্তু সবাই মৃত।
একটি আসনের পাশে বসে আছে আরেকজন আহমাদ।
সে দেখতে অবিকল তার মতো।
শুধু তার শরীরের অর্ধেক গলে গেছে।
অন্য আহমাদ বলল,
— অবশেষে এলি!
আহমাদ জিজ্ঞেস করল,
— তুমি কে?
— আমি সেই আহমাদ, যে মেহরিনকে ভালোবেসেছিল।
— তুমি কি আয়নার ভেতরে বন্দি ছিলে?
— আয়না শুধু একটা দরজা। আসল কারাগার হলো এই ট্রেন।
— আমাকে কেন এখানে ডেকেছ?
অন্য আহমাদ মৃদু হাসল।
— কারণ তোর সময় শেষ।
হঠাৎ ট্রেনের সব জানালা বন্ধ হয়ে গেল।
চারপাশে অন্ধকার।
অন্য আহমাদ ধীরে ধীরে বলল,
— তুই জানিস না, মেহরিন আসলে কী চায়।
— সে আমাকে বাঁচাতে চায়।
— ভুল!
— তাহলে?
অন্য আহমাদ এবার আহমাদের কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করল,
— সে চায় তোর ভেতরে বন্দি অভিশাপটাকে মুক্ত করতে।
৫. যে স্মৃতিটা মুছে ফেলা হয়েছিল
ট্রেনের ভেতরে হঠাৎ আলো জ্বলে উঠল।
আহমাদের সামনে একটা দৃশ্য ভেসে উঠল।
একটি পুরোনো বাড়ি।
সেখানে একজন যুবক আহমাদ দাঁড়িয়ে আছে।
তার পাশে মেহরিন।
দুজনের চোখে ভালোবাসা।
যুবক আহমাদ বলছে,
— তোমার জন্য আমি মৃত্যুকেও মেনে নিতে পারি।
মেহরিন কাঁদছে।
— না, আহমাদ। তোমাকে মরতে দেওয়া যাবে না।
যুবকটি মেহরিনের হাত ধরে বলল,
— তাহলে আমার সঙ্গে চলো।
ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরের মেঝে ফেটে গেল।
সেখান থেকে কালো ধোঁয়া বেরিয়ে এসে মেহরিনকে ঘিরে ফেলল।
মেহরিন চিৎকার করে উঠল।
যুবক আহমাদ তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের শরীর দিয়ে ধোঁয়াটাকে আটকে দিল।
তার শরীর মোমের মতো গলতে শুরু করল।
কিন্তু মেহরিনের শরীর অক্ষত রইল।
দৃশ্যটা মিলিয়ে গেল।
আহমাদ কাঁপা গলায় বলল,
— তাহলে মেহরিনের বদলে আমি গলে গিয়েছিলাম?
অন্য আহমাদ উত্তর দিল,
— হ্যাঁ। কিন্তু তুই মরিসনি। তোর অস্তিত্বকে দুই ভাগ করা হয়েছিল।
— কীভাবে?
— এক অংশ এই ট্রেনে বন্দি। অন্য অংশ নতুন শরীর নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে গেছে।
আহমাদ স্তব্ধ হয়ে গেল।
— তাহলে আমি কি সেই দ্বিতীয় অংশ?
অন্য আহমাদ মাথা নাড়ল।
— হ্যাঁ। কিন্তু তোর শরীরের মধ্যে এখনো আমার স্মৃতি, আমার মৃত্যু এবং আমার অভিশাপ রয়ে গেছে।
৬. মেহরিনের বিশ্বাসঘাতকতা?
হঠাৎ ট্রেন প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠল।
দরজা খুলে গেল।
আহমাদ বাইরে তাকিয়ে দেখল, মেহরিন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে।
তার চোখে ভয়।
সে চিৎকার করে বলল,
— আহমাদ! নেমে এসো!
আহমাদ দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
কিন্তু অন্য আহমাদ তার হাত ধরে ফেলল।
— ওর কাছে যাস না!
— কেন?
— কারণ ওর ছায়া নেই, এটা তো জানিস। কিন্তু তুই কি জানিস কেন?
আহমাদ চুপ করে রইল।
অন্য আহমাদ বলল,
— মেহরিনের ছায়া আসলে তার নিজের নয়। সেটা সেই মানুষটির, যাকে সে নিজের ভালোবাসার বিনিময়ে উৎসর্গ করেছে।
— কাকে উৎসর্গ করেছে?
অন্য আহমাদ তার চোখের দিকে তাকাল।
— তোকে।
আহমাদ আর অপেক্ষা করল না।
সে হাত ছাড়িয়ে ট্রেন থেকে নেমে গেল।
মেহরিন তাকে জড়িয়ে ধরল।
তারপর কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— আমি ভেবেছিলাম, তোমাকে আর ফিরে পাব না।
আহমাদ তাকে সরিয়ে দিয়ে বলল,
— তুমি কি আমাকে উৎসর্গ করেছিলে?
মেহরিনের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
সে কোনো উত্তর দিল না।
আহমাদ আবার বলল,
— সত্যি বলো!
মেহরিন চোখ বন্ধ করল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল,
— হ্যাঁ।
আহমাদ পিছিয়ে গেল।
— কেন?
মেহরিন কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— কারণ তোমাকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় ছিল না।
৭. যে মানুষটি পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেল
হঠাৎ চারপাশে প্রবল বাতাস শুরু হলো।
স্টেশনের ঘড়ি উল্টো দিকে ঘুরতে লাগল।
আহমাদ নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখল, তার আঙুলগুলো আবার গলতে শুরু করেছে।
সে চিৎকার করে উঠল।
মেহরিন তাকে ধরে বলল,
— না! এখন নয়!
কিন্তু এবার অভিশাপ আরও ভয়ংকর।
আহমাদের শরীর শুধু গলছে না, তার অস্তিত্বও মুছে যাচ্ছে।
তার ফোনে থাকা ছবিগুলো থেকে তার মুখ হারিয়ে যাচ্ছে।
তার পরিচিত মানুষের স্মৃতি থেকে তার নাম মুছে যাচ্ছে।
এমনকি স্টেশনের টিকিটে লেখা তার নামটাও ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেল।
আহমাদ মেহরিনের হাত ধরে বলল,
— আমাকে বাঁচাও!
মেহরিন কাঁদছিল।
— আমি তোমাকে হারাতে চাই না।
আহমাদ শেষবারের মতো বলল,
— তাহলে আমাকে ভালোবাসা বন্ধ করো!
মেহরিন মাথা নাড়ল।
— অনেক দেরি হয়ে গেছে।
আহমাদের শরীর থেকে সাদা ধোঁয়া বের হতে লাগল।
তারপর সে এক মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে গেল।
প্ল্যাটফর্মে পড়ে রইল শুধু তার হাতঘড়ি।
মেহরিন ঘড়িটা তুলে বুকে চেপে ধরল।
তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
— এবার আমাকে সেই জায়গায় যেতে হবে, যেখানে মমের জন্ম হয়েছিল।
৮. শেষ দৃশ্য: মৃতের ডায়েরি
সেই রাতেই মেহরিন পুরোনো বাড়িতে ফিরে গেল।
সালমা তাকে দেখে চমকে উঠলেন।
— আহমাদ কোথায়?
মেহরিন ঘড়িটা টেবিলে রাখল।
— সে আর নেই।
সালমা কাঁদতে শুরু করলেন।
কিন্তু মেহরিন শান্ত গলায় বলল,
— না, সে পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
— তাহলে?
মেহরিন একটা কালো ডায়েরি বের করল।
ডায়েরির শেষ পাতায় লেখা—
'যখন আহমাদ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে, তখনই অভিশাপের মূল দরজা খুলবে।'
সালমা ভয়ে বললেন,
— তুমি কি সত্যিই সেই দরজাটা খুলতে চাও?
মেহরিন উত্তর দিল,
— হ্যাঁ।
— দরজার ওপাশে কী আছে জানো?
মেহরিন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর বলল,
— আমার মা।
সালমা চমকে উঠলেন।
— কিন্তু তোমার মা তো শত বছর আগে মারা গেছেন!
মেহরিন চোখের পানি মুছে বলল,
— তিনি মারা যাননি। তিনি মমের স্রষ্টা।
ঠিক তখনই বাড়ির সব আয়নায় একসঙ্গে একটি নারীর মুখ ফুটে উঠল।
নারীটি হাসতে হাসতে বলল,
'মেহরিন, অবশেষে তুই ফিরে এলি। এবার তোর ভালোবাসাকেও আমার কাছে নিয়ে আয়।'
মেহরিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে উত্তর দিল,
— এবার আমি তোমার অভিশাপ শেষ করব, মা।
আয়নার ভেতরের নারীটি হাসল।
— তার আগে তোর একটা সত্য জানা দরকার।
— কী সত্য?
নারীটি ধীরে ধীরে বলল,
'আহমাদকে আমি অভিশাপ দিইনি, মেহরিন। অভিশাপ দিয়েছিলি তুই নিজেই!'
মেহরিনের হাত থেকে ডায়েরি পড়ে গেল।
পর্ব ৩-এর শেষ রহস্য
আহমাদ কি সত্যিই অস্তিত্বহীন হয়ে গেল?
মেহরিন কেন নিজের ভালোবাসার মানুষকে অভিশাপ দিয়েছিল?
তার মা কি সত্যিই মমের স্রষ্টা?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মেহরিনের নিজের হাতে যদি এই অভিশাপের জন্ম হয়ে থাকে, তাহলে সে কি আদৌ আহমাদকে বাঁচাতে পারবে?
চলবে...
পর্ব ৪: মৃত মানুষের চিঠি

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।