এখন মানুষ নানা অজুহাতে নিজেদের মধ্যে দেয়াল তুলে বিভাজন সৃষ্টি করে, আর সেই বিভাজনকেই গৌরব মনে করে। অথচ বিভক্ত হওয়া মানে নিজেকে ছোট করা, নিজের জগৎকে সংকীর্ণ করে ফেলা,ক্ষুদ্র করে ফেলা। আশ্চর্যের বিষয়, মানুষ বৃহত্তর হওয়ার বদলে ক্ষুদ্র হয়ে যাওয়াকেই সুখ মনে করে।
হোসনা বেগম বলে- আসলে অনেক সময় বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত কিংবা প্রাকৃতিক কারণেই মানুষ ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতম হয়।
শীত কালের চাঁদনী রাত, কনকনে শীত। উঠানে এক পায়ে দাঁড়ানো নারিকেল সুপারি গাছ। গাছের নীচে ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় নারিকেল ও সুপারি ফুল।
মজিদ মিয়া বলে- আমিও এখন একটা অপ্রয়োজনীয় ফুল। জীবন যে কোনো সময় এই ফুলের মত টুপ করে ঝরে পড়বে।
চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নাই। ধার করা আলো দিয়েই পৃথিবী ফটিক ও স্বচ্ছ করে। এই আলো কবি লেখকের। এইফালি চাঁদ আর এই মায়াবী আকাশ যেনো এক নীরব ভালোবাসার কাব্য। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ মাধুর্য আর শান্ত রূপ নিমেষেই যে কারো মন ছুঁয়ে যায়। এমন একটি মায়াবী রাত সবার জীবনে প্রশান্তি বয়ে আনে। কিন্তু আজ আমার মন বিক্ষিপ্ত ও চাঁদহীন অন্ধকার।
শোনো,পূর্ণিমার চাঁদও ঠিক তোমার মতো।
তোমার সৌন্দর্যের কাছে চাঁদের জ্যোৎস্নাও ম্লান হয়।তোমার চোখে এমন কিছু আছে যা ভাষায় বোঝানো ভার। চাঁদ রাতের সৌন্দর্য আর তুমি শুধু আমার সৌন্দর্য। তোমার সৌন্দর্যের তুলনায় আকাশও যে হার মানে । বলতে বলতে মজিদ উচ্চস্তরে হাসতে থাকে।
শান্ত নিঝুম রাতের আকাশের বুকেই লুকিয়ে থাকে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা, ঠিক যেমন ওই রূপালী চাঁদ আর মিটিমিটি তারাগুলো দূর আকাশ থেকে এক চিলতে মিষ্টি সুবাস আর ঠান্ডা বাতাস ছড়িয়ে দেয় আমাদের মনে।
প্রকৃতির এই গভীর নীরবতা যেন এক পরম ভালোলাগায় মনকে ছুঁয়ে যায়। এমনিতেই আজ অশান্ত মন তার উপর হোসনা বেগমের রাগি মনের এলোমেলো আচরণ মজিদ মিয়ার মনটাকে অশান্ত করে দেয়।
আজ শেষ দিন এক সাথে যৌথ পরিবারভুক্ত থাকার। কালকে মজিদ মিয়া আলাদা পরিবার হবে ভাবতে যেনো মন ভেঙ্গে কষ্টের প্লাবন আসছে। তাই স্ত্রী এর সাথে নানা কথা বলে ভুলে থাকতে চায় একটু পর ভিন্ন হওয়ার বৈঠক।
গল্পঃপ্রবাস(পর্ব ১৯)
ছবিঃ maisa art

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।