যত চাওয়া বাড়ে, তত অভাব বাড়ে। তাই আমি চাওয়া কমিয়ে দিয়েছি, এখন পৃথিবীটা অনেক বড় মনে হয়। প্রাপ্তির হিসাব ছোট হলেই, না পাওয়ার বেদনাও ছোট হয়ে যায়। জীবনের হিসাব-নিকাশ শেষে প্রাপ্তির খাতাটা কতটাই না অদ্ভুত। সব পেয়েও দিন শেষে এক অসীম শূন্যতা ঘিরে ধরে। প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির মাঝে আটকে থাকা এক শূন্য নীরবতা আমার জীবন আমি একটু পরেই বাস হতে নেমে পড়বো তাই খুব মনোযোগী হলাম উনার কথা শুনতে। তাতে মা’টা বলার আগ্রহী হলো কয়েক গুণ। কথার ফাঁকে-ফাঁকে কাপড়ের একটা শপিং ব্যাগ হতে পলিথিন মোড়ানো একটা কিছু বের করে, ওটা খুলতেই দেখি পান। চুন সুপারি দিয়ে তৈরি করা। একটা নিজের মুখে দিয়ে আরেকটা আমার দিকে এগিয়ে দেয়। হাসতে হাসতে বলে জামাই বাবা কিনে দিয়েছে।

আমি মুচকি হেসে বলি পান সিগারেট কোনো কিছুই খেতে আমি অভ্যস্ত নয়। তবে চা কফি হলে মানা করি না। উনিও হেসে উঠে বলে ঠিক আমার বড় ছেলেটার মত। দেশে আসলে বেশী বেশী চিনি ছাড়া লাল চা খায়। বউমা চা বানানো নাকি জানে না। এইটা নিয়ে দুইজনেই ঝগড়া হয়। শেষ পর্যন্ত আমিই চা বানিয়ে দিতে হয়। দুই জন হেসে উঠি, বলি - মাগো কখনো আপনার ছেলেটাকে বদদোয়া দিবেন না। বউ এর অজান্তে বুঝাইতে চেষ্টা করবেন। হয়তো একদিন ভুল বুঝতে পারবে, তখন সে অনুতপ্ত হবে। শুনেছি মার “উহ” শব্দে আল্লাহের আরশ কাঁপে। মার মন কাঁদলে সন্তানের উপর বদদোয়া পড়ে। আমার কথায় দপ করে উনার হাসি মুখ গম্ভীর হয়ে যায়। যেনো রোদ উজ্জল ঝলমলে দিনে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়।

আজ এক সপ্তাহ বউমার পিছনে পিছনে ঘুরি কিছু টাকার জন্য। সে আমার কথা শুনে বলেও মনে হয় না। ফোন করে ছেলেকে বলেছি আমি ডাক্তার দেখাতে হবে সেখানে পরীক্ষা - নিরীক্ষা দিবে ছোট ছেলেটা কিছু টাকা দিয়েছে তাতে হবে না। বলছে টাকা পাঠাবে কিন্তু অদ্যাবধি একটা ফোনও করে নাই। বউমাকে বার বার বললে ঝগড়া করতে চায়, সে উল্টা বলে সব নাকি নাটক! এমন অবস্থায় জামাই বাবাই শেষ ভরসাস্থল। বলতে বলতে উনার চোখের পানি ঝরনার মত বেয়ে পড়তে লাগলো। ভাত-পানি আর কাপড় দিয়ে ছেলে দায়িত্ব শেষ করতে চায়। মাঝে মাঝে বউমার কথা শুনলে মনে হয় সেটাও যেনো বন্ধ করে দিলে তারা খুশি। হায়, বিধাতা !

আমি কষ্ট চেপে রেখে উনাকে বুঝাতে চেষ্টা করি। মনোবল ও ধৈর্যকে আরো শক্ত ও অটল করে গড়ে তুলুন যেন পরিস্থিতির প্রবল বাতাস আপনার অস্তিত্বকে স্পর্শ করতে না পারে। বরং আপনিই সেই নিঃশব্দ হন, যার চারপাশে সব কটু বাক্য ঘুরপাক খাবে কিন্তু আপনি অবিচল। প্রতিটি কষ্টকে আত্মনিয়ন্ত্রণের অনুশীলন হিসেবে গ্রহণ করুণ মা। (বাকি)

ছবিঃ নতুন ঘরের কাজ চলমান।